মধুপুরে ভিজিডি কার্ড পেলেন সরকারী নার্স !

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ টাঙ্গাইলের মধুপুরে সরকারি ভিজিডি কার্ড পেলেন সরকারি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সরকারী এক নার্স। এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক সহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন গোলাবাড়ী ইউনিয়নের এক দু:স্থ নারী রোকেয়া ।

অভিযোগকারী রোকেয়া জানায়, মধুপুর উপজেলার গোলাবাড়ী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের মাঝিরা গ্রামের একজন দুঃস্থ মহিলা রোকেয়া বেগম। তার ভিটে বাড়ি ছাড়া অন্য কিছুই নেই। আমি অসহায় একজন দুঃস্থ মানুষ একটি ভিজিডি কার্ডের জন্য স্থানীয় ইউপি সদস্য আঃ ছাত্তার মেম্বার এর কাছে বিষয়টি অবগত করি। পরে তিনি আমার জাতীয় পরিচয়পত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা নেন। পরে জানতে পারি ভিজিডি কার্ড বিতরণ হয়ে গেছে। পক্ষান্তরে একই ইউনিয়নের মহাদাস গ্রামের আলতাব হোসেনের মেয়ে রিনা আক্তার ভিজিডি কার্ড পেয়েছেন। যার কার্ড নং ৮১, তার জাতীয় পরিচয়পত্র নং ১৯৯২৯৩১৫৭৬৬০০২৬৫। তিনি মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত একজন সরকারি সিনিয়র স্টাফ নার্স পদে কর্মকরত আছেন।

দুঃস্থ নারী রোকেয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও জানান, আমি স্বামী সন্তান নিয়ে ৬ শতাংশ জমিতে ভাঙ্গাচুরা একটি ঘরে বসবাস করি। বৃষ্টির দিনে পানি পড়ে সে জায়গায় হাড়ি, পাতিল, বালতি দিয়ে রাখতে হয়। স্বামী সারাদিন রিক্সায় করে আনারস, কলা সহ বিভিন্ন ধরণের খাদ্য শস্য পাহাড় থেকে কিনে এনে এলাকায় এলাকায় ঘুরে ঘুরে বিক্রি করে। বিক্রির সেই কষ্টে অর্জিত টাকা দিয়ে সংসার চালাই। আমার সংসারে দুই ছেলে এক মেয়ে, বড় ছেলেটা প্রতিবন্ধী। তার নামেও কোন ভাতার কার্ড পাইনি। তারপরও একাধিকবার স্থানীয় মেম্বারসহ চেয়ারম্যানের কাছে ঘুরেছি। একটি কার্ড ও একটি ঘরের জন্য। কিন্তু কোন সহযোগীতা তাদের কাছ থেকে পাইনি। এদিকে আমাদের পাশের গ্রামের আলতাফের মেয়ে রিনা মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নার্সের চাকরি করে সে কার্ডের ৫শ টাকা পেয়েছে অথচ আমি একজন অসহায় গরীব মানুষ আমি কোন সহযোগীতা পাইনি বলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। তাই আমি উপজেলার ইউএনও সহ বিভিন্ন জায়গায় গত ২ জুন দরখাস্ত দিয়েছি।

রোকেয়ার স্বামী হাবিবুর রহমান জানান, আমাদের স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুস ছাত্তার মেম্বার এর নিয়ন্ত্রনে সব কার্ড হয়।চেয়ারম্যান তিনি মেম্বারের কথাই শুনেন। সে এলাকার বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে কার্ড করে দিবে বলে টাকা নিয়ে কার্ড করে দিচ্ছে। আমরা তো গরীব মানুষ তাই কার্ড পাই না । তাই আমরা চাই শেখ হাসিনা সরকার গরীব মানুষের জন্য যা দেয় তা আমরা সঠিক ভাবে পাই না। তাই আমরা চাই উক্ত অভিযোগটি সরেজমিন তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যাবস্থা নেওয়ার দাবী করছি।

গোলাবাড়ী ইউনিয়নের মাঝিরা ও মহাদাস গ্রামের অনেকেই নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বর্তমানে ইউপি চেয়ারম্যান বাবলু খানসহ তার সহযোগী ছাত্তার মেম্বার ও তাদের বাহিনীরা সরকারের বিভিন্ন সহযোগীতা ও বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতাসহ বিভিন্ন ধরনের কার্ড করে দিচ্ছে টাকার বিনিময়ে। তবে যারা পাবার যোগ্য না তাদের কে তা দিচ্ছেন তারা। তবে আমরা এলাকার সচেতন মানুষ হিসেবে আমাদের দাবী যে, সরকারি সহযোগীতা যাতে সঠিক ভাবে বিতরণ করা হয় তার দিকে স্থানীয় প্রশাসনের সরেজমিনে সুদৃষ্টি কামনা করছি।

মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত নার্স রিনা আক্তার এর কাছে এবিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমি কোন প্রকার সরকারি সহযোগীতা পাইনি। আর আমার নামে যে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে সে ব্যাপারে কিছু জানিনা।

মধুপুর উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রাজীব আল রানা কাছে এ ব্যাপারে জানতে তার অফিসে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে গোলাবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা খান বাবলু জানান, আমার ইউনিয়নের মধ্যে এধরনের কোন ঘটনা ঘটেনি। কোন ইউপি সদস্যরা সরকারি কোন সহযোগীতা দিতে সাধারণ জনগনের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয় না। সকল ধরণের কার্যক্রম সঠিকভাবে সম্পূর্ণ করা হয় বলে তিনি জানান।

এ বিষয়ে মধুপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা ইয়াসমীন জানান, রিনা আক্তার নামে টাকা উত্তোলন হয়েছে। একজন সরকারি চাকুরীজিবী হয়ে কীভাবে প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক সহযোগীতা পায় এ ব্যাপারে গোলাবাড়ী ইউনিয়নের মাঝিরা গ্রামের রোকেয়া বেগম নামের এক নারী একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষটি বর্তমানে বিভাগীয় ভাবে তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

"নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.