জন্ম নিবন্ধন করা জরুরি কেন?

জন্ম নিবন্ধন করা সবার জন্যই জরুরি। জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যেই শিশুর জন্ম নিবন্ধন করা বাধ্যতামূলক। যদি না করা হয় তাহলে পরবর্তীতে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন।

জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদ অনুযায়ী, শিশুর জন্মগ্রহণের পর জন্ম-নিবন্ধীকরণ করার কথা বলা হয়েছে। উন্নত বিশ্বের সব দেশেই শিশু জন্মের পরই নিবন্ধন করা হয়। বাংলাদেশেও প্রতিটি শিশু জন্মের পর পর জন্ম নিবন্ধনের বাধ্যবাধকতা আছে।

জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন, ২০০৪ (২০০৪ সনের ২৯ নং আইন) এর আওতায় একজন মানুষের নাম, লিঙ্গ, জন্মের তারিখ ও স্থান, বাবা-মায়ের নাম, তাদের জাতীয়তা ও স্থায়ী ঠিকানা নির্ধারিত নিবন্ধক কর্তৃক রেজিস্টারে লেখা বা কম্পিউটারে এন্ট্রি প্রদান ও জন্ম সনদ প্রদান করা।

শিশুর জন্মের ৪৫ দিন বা দেড় মাসের মধ্যে জন্ম নিবন্ধন করতে হবে। তবে এ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিবন্ধন না করা হলে ১৮ বছরের মধ্যে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এটি করতে পারবেন। তবে ১৮ বছর পার হলে ৫০ টাকা ফি দিয়ে নিবন্ধন করতে হবে।

জন্ম নিবন্ধন করা কেন জরুরি?

জন্ম সনদ হলো একজন মানুষের জন্ম, বয়স, পরিচয় ও নাগরিকত্বের প্রমাণ। রাষ্ট্রের স্বীকৃত নাগরিকের মর্যাদা ও সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে হলে জন্ম নিবন্ধন সনদ প্রদর্শন করা বাধ্যতামূলক। জেনে নিন কোন কোন কাজে জন্ম নিবন্ধনের প্রয়োজন হয়-

  • >> পাসপোর্ট ইস্যু
  • >> বিবাহ নিবন্ধন
  • >> শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি
  • >> সরকারি-বেসরকারি বা স্বায়ত্বশাসিত সংস্থায় নিয়োগদান
  • >> ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু
  • >> ভোটার তালিকা প্রণয়ন
  • >> জমি রেজিষ্ট্রেশন
  • >> ব্যাংক হিসাব খোলা
  • >> আমদানি ও রপ্তানী লাইসেন্স প্রাপ্তি
  • >> গ্যাস, পানি, টেলিফোন ও বিদ্যুৎ সংযোগ প্রাপ্তি
  • >> ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (টিআইএন) প্রাপ্তি
  • >> ঠিকাদারী লাইসেন্স প্রাপ্তি
  • >> বাড়ির নকশা অনুমোদন প্রাপ্তি
  • >> গাড়ির রেজিষ্ট্রেশন
  • >> ট্রেড লাইসেন্স প্রাপ্তি
  • >> বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ
  • >> শিশু শ্রম প্রতিরোধ ও
  • >> জাতীয় পরিচয়পত্র প্রাপ্তি।

 

জন্ম নিবন্ধন না করলে যেসব সমস্যায় পড়তে পারেন-

>> স্কুল, কলেজ এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতেও বয়স প্রমাণের জন্য জন্ম নিবন্ধন প্রদর্শন করতে হয়। অনেকেরই জন্ম নিবন্ধন সনদ না থাকার ভালো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারে না।

>> শিশুরা যদি কখনো কিশোর অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে বা ষড়যন্ত্রের শিকার হয়, সেক্ষেত্রে বিচার শুরুর আগেই তার বয়স প্রমাণের প্রয়োজন হয়। এক্ষেত্রে জন্ম নিবন্ধন সনদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

>> পড়াশোনা, জীবিকা, ব্যবসা, ভ্রমণ, চিকিৎসাসহ বিভিন্ন কারণে বিদেশে যেতে প্রয়োজন হয় পাসপোর্টের। আর পাসপোর্টের আবেদন ফরমের সঙ্গে অবশ্যই জন্ম নিবন্ধন জমা দিতে হয়।

>> ভোটার আবেদন ফরমের সঙ্গেও বয়স প্রমাণের জন্য জন্ম নিবন্ধন সনদ জমা দিতে হয়। জন্ম নিবন্ধন সনদ না থাকলে ভোটার আইডি কার্ড তৈরি করা যায় না।

>> সরকারি চাকরি বা স্বায়ত্তশাসিত চাকরির ক্ষেত্রেও বর্তমানে জন্ম নিবন্ধন সনদ প্রদান করতে হয়।

>> বিয়ের নিবন্ধনের ক্ষেত্রে জন্ম নিবন্ধন সনদ প্রয়োজন হয়। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে বিয়ের সময় বয়স প্রমাণের জন্য এটি ভূমিকা পালন করে।

>> এমনকি সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয়ের পর রেজিষ্ট্রেশনের সময় জন্ম নিবন্ধন সনদ প্রয়োজন হয়। এই সনদ না থাকলে এক্ষেত্রে অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়।

>> সরকারি বা বেসরকারি সব ধরনের সেবা ও সম্পদের বরাদ্দ পেতে অবশ্যই জন্ম নিবন্ধন করতে হবে।

>> অনেকেই ১৮ বছরের পরপরই ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেন। তখন আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয় নয় বরং জন্ম নিবন্ধনের প্রয়োজন পড়ে।

জন্ম নিবন্ধন আইনের বিধান অনুযায়ী এই বিধি লংঘনকারী নিবন্ধক বা ব্যক্তি অনধিক ৫০০ টাকা অথবা অনধিক ২ মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ডে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন।

নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.