পরীমনিকে যৌন হয়রানি: নারাজির আদেশ ১৩ ডিসেম্বর

মারধর, বিভিন্ন ধরনের হুমকি ও যৌন হয়রানির মামলায় পুলিশের দেওয়া চার্জশিটের বিরুদ্ধে নারাজি দাখিল করেন চিত্রনায়িকা পরীমনি।

বুধবার (১ ডিসেম্বর) সকালে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৯ এর বিচারক মোহাম্মদ হেমায়েত উদ্দিনের আদালতে হাজির হয়ে তিনি এ আবেদন করেন।

শুনানি শেষে আদালত বিকেলে আদেশ দেবেন বলে জানান। পরবর্তীতে সন্ধ্যায় আদালত থেকে জানা যায়, আগামি ১৩ ডিসেম্বর আদালত এ বিষয়ে আদেশ দেবেন।

সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী মনি আচার্য সন্ধ্যায় বিষয়টি জানান।

এদিকে এদিন মামলাটি চার্জশিট গ্রহণের বিষয়ে শুনানির জন্য ধার্য ছিল। সকাল ১০টার দিকে পরীমনি আদালতে উপস্থিত হন। নাসির উদ্দিন মাহমুদ, তুহিন সিদ্দিকী অমিও আদালতে উপস্থিত হন।

সকাল পৌনে ১১টায় মামলার শুনানি শুরু হয়। শুরুতে আসামিপক্ষের আইনজীবী কাওছার হোসেন বলেন, ‘মামলাটি চার্জশিট গ্রহণের জন্য আছে। আসামিরা আদালতে হাজির হয়েছেন। তার জামিনে আছেন। যেহেতু মামলাটি ট্রাইব্যুনালে এসেছে তাই আবার তাদের পূর্বশর্তে জামিন প্রার্থণা করছি।’

পরীমনির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত (সুরভী) আসামিদের জামিন বাতিলের আবেদন করেন। কারণ হিসেবে বলেন, ‘আসামিরা বাদী, সাক্ষীদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। তারা বাইরে থাকলে মামলার বিচারে বিঘ্ন ঘটবে। এজন্য তাদের জামিন বাতিলের আবেদন করছি।’

নারাজি দাখিলের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘মামলার তদন্তে অনেক বিষয় মিসিং আছে। জড়িত অজ্ঞাতনামাদের মামলায় আসামি করা হয়নি। গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের চার্জশিটে অর্ন্তভূক্ত করা হয়নি। তাই আমরা মামলাটি পুনরায় তদন্তের আবেদন করছি।’

এরপর বিচারক নারাজির বিষয়ে পরীমনির জবানবন্দি গ্রহণ করেন। জবানবন্দিতে পরীমনি বলেন, ‘এ মামলার ভিডিও ফুটেজ নাই। গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের চার্জশিটে রাখা হয়নি। দুজন ম্যাজিস্ট্রেটকেও সাক্ষী থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। যারা ভিডিওটি করেছে এবং ঘটনার সময় যারা ছিল তাদের সাক্ষী করা হয়নি। তারা কোথায়? মামলাটি একতরফাভাবে তদন্ত হয়েছে। অজ্ঞাতনামা জড়িত যারা ছিল, তাদের আসামিরা করা হয়নি। এজন্য মামলাটি পুনরায় তদন্তের প্রয়োজন।’

এরপর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শহিদ হোসেন ঢালী বলেন, ‘মামলায় গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের সাক্ষীর তালিকায় রাখা হয়নি। মামলাটি পুনরায় তদন্তের প্রয়োজন। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর এসপি পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে দিয়ে মামলাটি পুনরায় তদন্তের আবেদন প্রার্থণা করেন তিনি।’

এরপর আসামিপক্ষের আইনজীবী বলেন, ‘মামলাটি সঠিকভাবে তদন্ত হয়েছে। এখন আবার পুনরায় তদন্তের প্রয়োজন নেই।’

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত দুই আসামিকে পূর্বশর্তে জামিনের আদেশ দেন। আর নারাজির বিষয়ে পরে আদেশ দিবেন বলে জানান। পরে আদেশ পিছিয়ে ১৩ ডিসেম্বর ধার্য করেন আদালত।

শুনানি শেষে আদালত থেকে বের হওয়ার সময় সাংবাদিকরা পরীমনির ছবি তুলতে যান। তখন পরীমনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার ছবি না তুলে রেপিস্টদের ছবি তুলুন।’

গত ৬ সেপ্টেম্বর মামলায় নাসির, অমি এবং শহিদুল আলম নামে আরেক ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কামাল হোসেন।

উল্লেখ্য, গত ১৪ জুন সাভার থানায় ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিনসহ ছয় জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। মামলা দায়েরের পর অভিযানে নামে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। ওইদিনই নাসির উদ্দিনসহ পাঁচ জনকে উত্তরার একটি বাসা থেকে আটক করে ডিবি পুলিশ।

অভিযানে ওই বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ মদ-বিয়ার ও ইয়াবা জব্দ করা হয়। এরপর দিনগত রাত ১২টা ৫ মিনিটে ডিবির গুলশান জোনাল টিমের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মানিক কুমার শিকদার বাদী হয়ে রাজধানীর বিমানবন্দর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পাঁচ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন।

নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.