সখীপুরে চলছে ফসলি জমির মাটি ও টিলা কাটার মহোৎসব

এম সাইফুল ইসলাম শাফলু:  পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫-এর ৬ (খ) ধারা অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান, সরকারি বা আধাসরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন বা দখলাধীন বা ব্যক্তি মালিকানাধীন পাহাড় ও টিলা কর্তন বা মোচন করা নিষিদ্ধ থাকলেও টাঙ্গাইলের সখীপুরে কোনভাবেই থামানো যাচ্ছে না ফসলি জমির মাটি ও টিলা কাটার মহোৎসব। বন ও পরিবেশ আইন অমান্য করে সরকার দলীয় ছত্রছায়ায় একটি চক্র দেদারছে মাটি কেটে বিক্রি করলেও কোনো আইনি পদক্ষেপ নেই সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় প্রশাসনের। স্থানীয় প্রশাসন মাঝে মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে জরিমানা আদায় করলেও তা আমলে নিচ্ছেন না  সরকার দলীয় অসাধু মাটি ব্যবসায়ীরা।

সোমবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে আইন অমান্য করে এস্কেভেটর (ভ্যাকু) দিয়ে তিন  ফসলি জমির টপসয়েল ও লাল মাটির টিলাগুলো দেদারছে কাটা হচ্ছে। আর ওইসব মাটির  বেশিরভাগ ব্যবহৃত হচ্ছে ইটভাটায়।  ওইসব ইটভাটায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে তিন  ফসলি জমির টপসয়েল, খাস ও বনর জমি  এবং টিলা  কেটে ড্রাম ট্রাক দিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং সেগুলো  ভাটায় ইট প্রস্তুতের জন্য জমা করা হচ্ছে। অসাধু মাটি ব্যবসায়ীরা সাধারণ কৃষককে লোভে ফেলে ফসলি জমির উর্বরা মাটি বিক্রিতে উৎসাহিত করছেন। ৫-১০ ফুট গভীর করে মাটি কাটার ফলে অনেক জমিই ডোবায় পরিণত হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিমত, প্রতিবছর এ উপজেলার প্রায় শত একর ফসলি , বন এবং খাস জমির মাটি কাটা হচ্ছে। যার কারণে দিন দিন আবাদী জমির পরিমাণ হ্রাস পাচ্ছে। সৌন্দর্যময় টিলা কেটে ফেলায় প্রাকৃতিক রুপ সৌন্দর্য হারাচ্ছে সখীপুরবাসী।  ফলে কৃষি উৎপাদন ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকিতে পড়ছে।

ইট ভাটা ছাড়াও বন ও খাস জমির মাটি ব্যবহার করা হচ্ছে বাড়ি নির্মাণ, ডোবা ভরাট, রাস্তা সংস্কার, রাস্তা নির্মাণ ও  বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ কাজে। অনেকে আবার অনুমতি ছাড়াই পুকুর কাটার কথা বলে মাটি বিক্রি করে দিচ্ছেন। শুধু দিনের আলোয় নয়, রাতের আধারেও চলে লাল মাটির টিলা  কাটা। দিনের চেয়ে  মাটি ব্যবসায়ীরা রাতের সময়কে উত্তম সময় হিসাবে বেছে নিয়েছেন। ইতিমধ্যে  উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের  স্থানীয় সৌন্দর্যময় যতগুলো বড় বড়  টিলা ছিল তার বেশির ভাগই রাতের আঁধারে কেটে নিয়ে সাবাড় করা হয়েছে।

এলাকাবাসীরা অভিযোগ করেন , স্থানীয় প্রশাসনকে খবর দিলে এসে তারা মাটি ব্যবসায়ীদের দেখানোমাত্র সামান্য জেল জরিমানা করেন। এরপর দু চারদিন পর আবার পুরোদমে মাটি কাটার কাজ শুরু করেন তারা । আবার অনেক মাটি ব্যবসায়ী কৌশল পরিবর্তন করে দিনের বদলে রাতের বেলায় লাল মাটির টিলা কেটে সাবাড় করছেন। তাদের আরো অভিযোগ,  গ্রামীণ পাকা সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শত শত মাটির বড় বড় ড্রাম ট্রাক চলাচলের কারণে সড়ক নির্মাণের দুই এক বছরের মধ্যে তা ভেঙে গিয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।

এ ব্যাপারে সখীপুরে বনবিভাগের দায়িত্বরত বিট ও রেঞ্জ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা হলে তারা বন বিভাগের আওতাধীন কোনো জমি থেকে মাটি কাটা হচ্ছেনা বলে দাবি করেন।

টাঙ্গাইল পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া ফসলি জমির মাটি ও পাহাড়ের লাল মাটি কাটা অবৈধ। অভিযোগ পেলে এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

সখীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার চিত্রা শিকারী বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে মাটি কাটা বন্ধ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তবে এ ব্যাপারে সকল শ্রেণী-পেশার মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।

নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.