বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২৩, ২০২৬
Homeজাতীয়‘আম্মু এখনও বাসায় আসে না আম্মু পচা’’’’ তুবা আর মাহির

‘আম্মু এখনও বাসায় আসে না আম্মু পচা’’’’ তুবা আর মাহির

নিউজ টাঙ্গাইল ডেস্ক: এক বছর হলো মা আর বাসায় আসে না। মায়ের সঙ্গে রোজই ফোন (খেলনা ফোন) করে ছোট্ট শিশু তাসনিম মাহিরা তুবা। তবে ফোনের ওপার থেকে মা আর কথা বলেন না। তাই বিরক্ত হয়ে দেওয়ালে ঝুলে থাকা মায়ের ছবির সঙ্গে কথা বলে সে। সেখানেও আম্মুর সাড়া না পেয়ে জানালার পাশে দাঁড়িয়ে আকাশপানে মায়ের অপেক্ষায় আছে তুবা।
এক বছর আগে মাকে হারিয়ে বড্ড একা ৫ বছরের তুবা। তার একমাত্র ভাই ১২ বছর বয়সি তাহসিন আল মাহির বুঝতে পারে, মা আর আসবেন না। তুবার সেই বোঝার বয়সটাই হয়নি। মাহি মাঝেমধ্যে মায়ের কথা মনে হলে ফুঁপিয়ে কেঁদে ওঠে।
রাজধানীর উত্তর-পূর্ব বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গেল বছরের ২০ জুলাই ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে তাসলিমা বেগম রেণুকে হত্যা করা হয়। মাহির আর  তুবাকে স্কুলে ভর্তির জন্য খোঁজ নিতে গিয়ে স্কুলের ভেতর গণপিটুনিতে নিহত হন তিনি।

ছোট্ট তুবার খেলা, বায়না, কান্নাকাটি, জেদ সবই বলে দেয় তার মা হারানোর ভেতরের যন্ত্রণা। গভীর রাতে ঘুম ভেঙে গেলে এখনও মায়ের জন্য কান্না করে। তার মতে, মা বিদেশ গেছে। মা পচা, তাই বিদেশ থেকে এখনে আসছে না। মাহির আর তুবা বর্তমানে আছে তাদের নানির বাসায়। শনিবার রাজধানীর মহাখালীর বাসায় গিয়ে দেখা গেল, তুবা সানন্দে খেলছে। মাঝেমধ্যে চুপসে একা হয়ে যাচ্ছে। খেলার ছলে তার সঙ্গে নানা কথা হয়। মায়ের কথা আসতেই বলে, আম্মু বিদেশ গেছে। আমার জন্য নতুন জামা ও জুস নিয়ে বাসায় আসবে।

তুবা ও মাহির রাতে তাদের খালা নাজমুন নাহারের সঙ্গে থাকছে। মহাখালী মায়ের বাসার পাশেই নাজমুন নাহারের বাসা। নাজমুন নাহারের মাও শোকে কাতর। পরিবারের সদস্যদের কাছে তাসলিমা বেগমের আদরের নাম ছিল ‘রেণু’। মেয়েকে স্কুলে ভর্তি করাতে গিয়ে মা নিহত হন। সেই মেয়ে তুবা এখন মহাখালীর শিশুমেলা কিন্ডারগার্টেন স্কুলে নার্সারিতে পড়ছে। আর বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র মাহির। সে অশ্রুকাতর হয়ে শুধু জানায়, মাকে খুব মিস করে।

নাজমুন নাহার বললেন, তুবা আর মাহির আমাকে মামণি আর আমার স্বামীকে বাবা ডাকে। অনেক রাত পর্যন্ত তুবা ঘুমায় না। রাতে আমার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে। বুঝতে পারি, ও মাকে খুঁজছে।

বোন হারানোর ব্যথা নিয়ে বোন হত্যার বিচার চেয়েছেন তিনি। বোনের সঙ্গে নানা স্মৃতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এখনও মনে হয় রেণু আমার বাসার বারান্দায় ঘুরছে। বোন হত্যার ১ বছর হয়ে গেলেও এখনও মামলার কোনো অগ্রগতি নেই। সাড়ে চারশ জনের নামে অজ্ঞাত মামলা করলে মামলার প্রথম আসামি ইতোমধ্যে জামিন পেয়ে গেছেন। এদিকে বোনের হত্যাকে তিনি ষড়যন্ত্র হিসেবেও দেখছেন অনেকটা। তার দাবি, রেণুর স্বামীর বাড়ির লোকজনও এ কাণ্ড ঘটাতে পারে। কারণ রেণুর স্বামীর সঙ্গে সাংসারিক বিচ্ছেদ হয়েছিল। রেণুকে যখন সবাই মারছিল, তখন ঘটনাস্থলের পাশ দিয়ে হেঁটে যায় রেণুর দেবর। যেটা তিনি নিজের মুখে স্বীকার করেছিলেন। আমরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে চাই। রেণুর দুই বাচ্চা। তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত।

তাসলিমা বেগমের মৃত্যুর পর তার ভাগনে সৈয়দ নাসির উদ্দিন টিটু বাদী হয়ে বাড্ডা থানায় হত্যা মামলা করেন। তিনি বলেন, মামলা এখন বাড্ডা থানা থেকে ডিবি কার্যালয়ে স্থানান্তর হয়েছে। যার কারণে আমরা আশাবাদী ছিলাম মামলার দ্রুত চার্জশিট হবে। আরও আসামি গ্রেফতার হবে। কিন্তু চার্জশিট কবে হবে আমরা এখন পর্যন্ত তার কোনো নিশ্চয়তা পাচ্ছি না। তুবার খালাত ভাই টিটু জানান, মামলার ১৪ আসামি গ্রেফতার করলেও দুদিন আগে জানতে পারলাম ৫ জন আসামি ইতোমধ্যে জামিন পেয়ে গেছে। ভারকণ্ঠে তিনি বলেন, আসামি মুক্ত হয়ে যাচ্ছে! মামলার অগ্রগতি নেই, তা হলে কি আমরা বিচার পাব না? আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে এ ঘটনায় যাতে ন্যায়বিচার পাই, তা নিশ্চিত করার দাবি জানাব। না ফেরার দেশে চলে যাওয়া মায়ের জন্য তুবার অপেক্ষা আর পরিবারের আপেক্ষ ঘুচবে হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচারের দাবি করেছেন নিহতের স্বজনরা।

নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।

RELATED ARTICLES

Most Popular