বৃহস্পতিবার, মে ১৪, ২০২৬
Homeসখিপুরআমাদের সখীপুরসখীপুরে দুই শিশু শিক্ষার্থীকে বিকৃতি করে দেওয়ায় থানায় অভিযোগ

সখীপুরে দুই শিশু শিক্ষার্থীকে বিকৃতি করে দেওয়ায় থানায় অভিযোগ

এম সাইফুল ইসলাম শাফলু : টাঙ্গাইলের সখীপুরে এক মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুই শিশু শিক্ষার্থীকে শারীরিক নির্যাতন ও মাথার চুল কেটে বিকৃতি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ওই শিক্ষকের বিচার দাবি করে  মঙ্গলবার বিকেলে নির্যাতিতা শিশুর বাবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। গত ৪ অক্টোবর (রোববার) উপজেলার বহেড়াতৈল ইউনিয়নের  বেতুয়া পশ্চিম পাড়া বিশ্ব নবী (সা.) হাফেজিয়া মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত মো. তৈয়ব আলী আকন্দ ওই মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক (হুজুর)। তাঁর বাড়ি শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলায়।

অভিযোগকারী বাবুল হোসেন নিউজ টাঙ্গাইলকে জানান, তাঁর ১০ বছর বয়সী ছেলে বিজয় হোসেন প্রায় দুই বছর ধরে  ওই হেফজ মাদ্রাসায় পড়াশোনা করছে। গত রোববার তাঁর ছেলে মাদ্রাসায় গেলে মাথা ন্যাড়া না করার অপরাধে ওই মাদ্রাসার প্রধান হুজুর ব্লেড দিয়ে ছেলের মাথার চুল  বিকৃত করে দেন। একই সময় তাঁর ছেলের বন্ধু জাকারিয়ার মাথার চুলও একই কায়দায় বিকৃত করে দেন।  এ সময় ওই হুজুর তাদেরকে শারীরিক নির্যাতনও করেন।

      শিশু শিক্ষার্থী বিজয় হোসেন জানায় , মাথার চুল ছোট করে কাটলেও ন্যাড়া না করার অপরাধে  বড় হুজুর একটি ব্লেড হাতে নিয়ে মাথার মাঝ বরাবর রেখা টেনে ন্যাড়া করে দেন। পরে দুই কানমলে এক পর্যায়ে ঘাড়ের ওপর ক্যারাতে স্টাইলে আঘাত করেন। হুজুর কখনো আমাদেরকে বেত দিয়ে পেটান না। সব সময় ঘাড়ের মধ্যে ক্যারাতে স্টাইলে মারধর করেন।

বহেড়াতৈল ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুর রহিম শিকদার বলেন, দুজন শিশু শিক্ষার্থীর মাথার চুল যেভাবে কেটে দেওয়া হয়েছে তা অবশ্যই নিন্দনীয়। আমি ওই হুজুরকে মাদ্রাসা থেকে বরখাস্ত করার দাবি জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মুফতি মো. তৈয়ব আলী আকন্দ নিউজ টাঙ্গাইলকে বলেন, প্রতি মাসেই শিক্ষার্থীদের চুল ন্যাড়া করে দেওয়া হয়। ওইদিন দুইজনের ন্যাড়া করার প্রস্তুতিকালে নামাজের সময় হওয়ায় তিনি মসজিদে চলে যান। নামাজের পর ন্যাড়া করার জন্য ওই দুই ছাত্রকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। ওরা বিকৃত মাথা নিয়েই বাড়িতে চলে যায়। পরে ওই গ্রামের কিছু দুষ্টু শ্রেণির লোকজন ওই দুই ছাত্রের মাথার বিকৃত ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে আমার সম্মানহানি করেন। এক পর্যায়ে গ্রামের কিছু মানুষ আমার ওপর হামলাও করেন।

সখীপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এএইচএম লুৎফুল কবির  বলেন, নির্যাতিতা  শিশুর বাবা সখীপুর থানায় এসে একটি অভিযোগ দিয়েছেন। অন্যদিকে ওই মাদ্রাসার দ্বিতীয় শিক্ষক আরিফুল ইসলাম আরেকটি পাল্টা অভিযোগ দিয়েছেন। দুটি অভিযোগই সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হিসেবে নথিভূক্ত করা হয়েছে। উভয়পক্ষের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমাউল হুসনা লিজা বলেন,  অভিভাবক তাঁর শিশুকে নিয়ে আমার কার্যালয়ে এসেছিলেন। পরে এ বিষয়টি  সখীপুর থানার ওসিকে তদন্ত করে  প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।

RELATED ARTICLES

Most Popular