এম সাইফুল ইসলাম শাফলু : টাঙ্গাইলের সখীপুরে করোনাকালীন সময়ে চা কফিতে “ওয়ান টাইম” প্লাষ্টিক কাপ ব্যাবহার বিপদজনক হারে বেড়ে চলেছে। এতে করে এ উপজেলার জনসাধারনের স্বাস্থ্য ঝুঁকি যেমন হুমকির মুখে পড়ছে ঠিক তেমনি ফেলে দেওয়া প্লাষ্টিক বর্জের কারণে পরিবেশও তার ভারসাম্য হাড়িয়ে ফেলছে। অসচেতনতা অযত্ন আর অব্যবস্থাপনায় আমাদের অগোচরে পরিবেশ প্রতিনিয়ত হুমকির মুখে পড়ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার সখীপুর পৌর সদর , নলুয়া, বোয়ালী, তক্তারচালা, বেড়বাড়ী, কচুয়া, বড়চওনা, বহেড়াতৈল বাজারসহ এ উপজেলায় ছোটবড় কয়েক হাজার চায়ের স্টল রয়েছে। এসব চা স্টল গুলোতে প্রতিদিন প্লাষ্টিকের চায়ের কাপ ব্যাবহার হলেও যেন দেখার কেউ নেই। শুধু তাই নয়, চা/কফি পানের পর অপচনশীল প্লাষ্টিক কাপ গুলো যত্রতত্র ফেলে দেবার কারণে পরিবেশ যেমন দুষিত হচ্ছে তেমনি শরীরে মরণ ব্যাধি ক্যান্সারসহ হার্ট, কিডনি ও লিভার অক্রান্ত হবার সম্ভাবনা দিন দিন বেড়েই চলেছে। করোনাকালীন সময়ে প্লাষ্টিক কাপে কফি বা চা পান করা কতটুকু স্বাস্থ্য সম্মত তা এখনই ভেবে দেখা দরকার।
অন্যদিকে অসাস্থ্যকর প্লাষ্টিক কাপ ব্যাহার বন্ধ করে স্বাস্থ্য সম্মত কাচের ও মাটির তৈরি কাপ/মগ ব্যবহার বৃদ্ধিতে প্রনোদনার মাধ্যমে উৎসাহ প্রদান করলে দেশীয় শিল্প যেমন রক্ষা পাবে তেমনি চা/কফি পানে মরণ ব্যাধি ক্যান্সারসহ বিভিন্ন ধরনের রোগে অক্রান্ত হবার সম্ভাবনাসহ প্রকৃতিকে রক্ষা করাও সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সুধী মহল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক চায়ের দোকানি জানান, কাঁচের কাপে করোনা হবার সম্ভাবনা বেশি তাই ক্রেতাদের চাপেই আমরা “ওয়ান টাইম” প্লাষ্টিক কাপে চা বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছি। তাছড়া এটি খুবই সহজ লভ্য যেকোন দোকানে স্বল্প মূল্যে কিনতে পাওয়া যায়।
নাকশালা বাজারে চা পানরত রফিকুল ইসলাম বলেন, কাঁচের গ্লাসে যদি করোনা ভাইরাসের জিবাণু লেগে থাকে, সেই ভয়েই ওয়ান টাইমে চা খাচ্ছি।
“ওয়ান টাইম” চায়ের কাপের ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ড. আবদুস সুবহান বলেন, এসব পণ্য তৈরিতে পলিমার নামক ক্ষতিকর কেমিক্যাল ব্যাবহার হওয়ায় প্লাষ্টিক কাপে গরম পানি বা চা পান করলে লিভার, হার্ট, কিডনিসহ ত্বকের মারাত্মক ক্ষতি হয়। তাছাড়া এটি পরিবেশের জন্যও হুমকি স্বরুপ। এ ক্ষেত্রে মাটির তৈরি কাপে চা বা কফি পান করা স্বাস্থ্যসম্মত ও পরিবেশ বান্ধব।
