মঙ্গলবার, এপ্রিল ১৪, ২০২৬
Homeজাতীয়আমি বাঁচতে চায়, আমি স্কুলে যামু বন্ধু

আমি বাঁচতে চায়, আমি স্কুলে যামু বন্ধু

রনজিৎ সরকার: 

আরাফাত বয়স (৫) বছর । সে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার গালা ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের হতদরিদ্র বেলায়েত হোসেনের একমাত্র ছেলে সন্তান। এই বয়সে তার মুখে বাসা বেঁধেছে হ্যামানজিওমা নামের এক ভয়ঙ্কর রোগ। চার মাস বয়সে তার গালের নিচে একটি ফুসকুরি (গোটা) উঠে। আস্তে আস্তে পুরো গাল, ঠোঁট ও মুখের একাংশে ছড়িয়ে পড়ে। এখন বর্তমানে তার ঠোঁট ও মুখ বড় আকার ধারণ করেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, পরিবারের লোকজনসহ তাকে বিভিন্নভাবে সহযোগীতা করছে। এখন আরাফাতকেই ঘিরেই এখন পরিবারে সব কিছু। শিশু আরাফাত খুব কষ্টে জীবন যাপন করছে। এই বয়সে আরাফাতের এখন স্কুলে যাওয়ার কথা। বন্ধুদের সাথে খেলাধুলা করে মেতে থাকার কথা। কিন্তু তার এই ছোট জীবনে এই রকম রোগ সত্যিই খুব কষ্টের। আরাফাতকে জিজ্ঞেস করা হলে সে বলে বন্ধু আমি বাঁচতে চাই। আমি খেলা ধুলা করমু। আমারে বন্ধুরা খেলায় নেয় না। আমারে মা-বাবা স্কুলে নিয়া যাই না । আমি স্কুলে যামু বন্ধু । আমার না সারাদিন ঘরে থাকতে ভালো লাগে না। আমার অনেক কষ্ট হয়। আমার ভালো লাগে না বন্ধু। এই কথাগুলো বলছিলেন পাঁচ বছরের এই শিশু আরাফাত। গাল, ঠোঁট অস্বাভাবিক ফুলে যাওয়ায় ছেলেটি এখন ঠিকমতো খেতেও পারে না, ঠিকমতো কথাও বলতে পারছে না আরাফাত।

ছেলের বাবা বেলায়েত হোসেন বলেন, প্রথম ছোট ফুসকুরি (গোটা) হলে ছেলেকে ৬ মাস হোমিও চিকিৎসা করি। হোমিও চিকিৎসার পর না কমায় । পরে আরো একজন হোমিও ডাক্তার দিয়ে ১ বছর চিকিৎসা করি। তাও দেখি আস্তে আস্তে বড় হচ্ছে । এর পর থেকেই ছেলের চিকিৎসার জন্য ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ছুটে গিয়েছি। কিন্তু রোগ ভাল হওয়ার কোন লক্ষণ নেই বরং আরো বাড়ছে। চিকিৎসকরা বলছেন- আরাফাতের এই রোগের চিকিৎসা বাংলাদেশে হবে না। ছেলেকে দেশের বাইরে নিয়ে চিকিৎসা করাতে হবে। এখনো ছুটে চলছেন বড় বড় হাসপাতাল ডাক্তারদের কাছে তবুও কোন লাভ হয়নি। দেশের বাইরে আরাফাতের চিকিৎসার জন্য অন্তত ৫ লাখ টাকার দরকার বলেও জানিয়েছেন ডাক্তাররা।

মা আলেয়া আক্তার বলেন, আমার এক ভিটেবাড়ি ছাড়া সম্বল বলতে আর কিছুই নেই। দেশের প্রত্যক নাগরীকের বাঁচার অধিকার আছে। তাহলে কেন আমার ছোট্ট ছেলেটিকে টাকার অভাবে মরতে হবে । এই ৫ লাখ টাকা জোগাড় করে ছেলে চিকিৎসা করাতে এখন আমাদের সামনে পাহাড়-পর্বতের সমান । মা আলেয়া ছেলের চিকিৎসার জন্য দেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং হৃদয়বান বিত্তশালীদের কাছে সহযোগিতা চান। বাঁচাতে চান তার ফুটফুটে এই ছোট্ট ছেলেটিকে।

 

জেলা সিভিল সার্জন ডা.মো.শরীফ হোসেন খান জানান, শিশু আরাফাত হ্যামানজিওমা রোগে আক্রান্ত হয়েছে। তাদের পরিবারের লোকজন ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল চিকিৎসা করিয়েছেন। কোন লাভ হয়নি। এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল স্বাস্থ্য বিভাগ ছেলেটির চিকিৎসার জন্য যতটুকু সম্ভব সকল প্রকার সাহায্য সহযোগিতা করবে ।

কেউ সহযোগিতা করতে চাইলে নিম্ন ঠিকানায় যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হলো। বেলায়েত হোসেন, গ্রাম ও পোষ্টঃ রসুলপুর, জেলা টাঙ্গাইল। মোবাইল-০১৬৮১৩৩২৮২০

নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।

RELATED ARTICLES

Most Popular