নিজস্ব প্রতিবেদক: টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে রাস্তায় জন্ম নেওয়া পাগলীর সেই বাচ্চাটির অবশেষে মা-বাবা হলেন লাল মাহামুদ ও রিয়া মাহামুদ নামের এক দম্পতি। রবিবার (১৬ জুলাই) বিকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে শিশুটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ওই দম্পতির কাছে হস্তান্তর করেন জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার।
টাঙ্গাইল জেলা শিশু কল্যাণ বোর্ডের মাধ্যমে দত্তক নিয়ে মা-বাবার দায়িত্ব নেন তারা। শিশু দত্তক নেওয়া দম্পতির বাড়ি টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার অলোয়া ইউনিয়নের ভারই গ্রামে। জেলা প্রশাসকের শর্ত অনুযায়ী এই দম্পতি শিশুটির নামে একটি ব্যাংকে ১০ লাখ টাকার এফডিআর করা হয়েছে।
শিশুটি হস্তান্তরকালে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ওলিউজ্জামান, মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাকিলা বিনতে মতিন, জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক শাহ্ আলমসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
শিশুটিকে পেয়ে লাল মাহামুদ বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে জানতে পারি মির্জাপুরে এক পাগলী রাস্তায় একটি সন্তান প্রসব করেছে। আমরা শিশুটিকে দত্তক নিতে জেলা প্রশাসকের নিকট আবেদন করি। আজ আমরা শিশুটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে পেলাম।
টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার বলেন, শিশুটিকে দত্তক নিতে ২৮টি পরিবার আবেদন করে ছিলেন। পরে আমরা যাচাই বাছাই করে একটি নিঃসন্তান সক্ষম দম্পতিকে নির্বাচন করি এবং এই দম্পতি আমাদের দেওয়া সকল শর্ত পুরণ করেছে। আশা করছি শিশুটি ওই দম্পতির কাছে ভাল থাকবে।
গত ৫ জুলাই সকাল ৬টার দিকে মির্জাপুর উপজেলা সদরের পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে রাস্তার পাশে ছনের ভেতর এক পাগলী প্রসব ব্যাথায় ছটফট করছিল। ছনের ভেতর কাউকে গড়াগড়ি করতে দেখে এগিয়ে যান কুমারজানী গ্রামের মজিরন বেগমসহ তিন নারী। মজিরন বেগম পাগলীর কাছে গিয়ে দাইয়ের কাজটি করেন। কিছুক্ষণ পর পাগলীটি একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেন।
এরপর পাগলীটি ওই শিশুকে দুরে সরিয়ে দিলে প্রাথমিক পরিচর্যা শেষে মজিরন বেগম শিশুটিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাকিলা বিনতে মতিনের অফিসে নিয়ে যান। পরে পুলিশের সহায়তায় পাগলী মাকে খুজে বের করে তাকেসহ শিশুটিকে কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরইমধ্যে শিশুটিকে দত্তক নিতে ২৮টি পরিবার জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেন।
নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।