রেজাউল করিম খান রাজু, ঘাটাইল প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের ঘাটাইলের শারীরিক প্রতিবন্ধী মো. সাইফুল (৩০) নামের এক যুবক প্রায় ২০ বছর ধরে শিকলবন্দী অবস্থায় জীবন যাপন করছেন। শিকলে বাঁধা অবস্থাতেই তার খাওয়া, গোসল ও ঘুমানোসহ যাবতীয় কাজ করতে হয়। গত ২০ বছরে একদিনের জন্যও শিকলের বাঁধন থেকে মুক্তি মেলেনি এই যুবকের। পরিবারের দাবি— ১০ বছর বয়স থেকেই তাকে শিকলে বেঁধে রাখা হয়েছে।
উপজেলার ধারিয়াল এলাকায় মৃত বহর আলীর ছেলে সাইফুল। শিকলবন্দী অবস্থায় জীবন যাপন করলেও শারীরিক প্রতিবন্ধী সাইফুলের ভাগ্যে এখনো জুটেনি কোন সরকারি সহযোগিতা।
সাইফুলের মা রহিমা বেগম বলেন, ‘বর্তমানে আমার সহায় সম্পদ বলতে প্রতিবন্ধী ছেলে সাইফুল ছাড়া তেমন কিছুই নেই। মানুষের দ্বারে দ্বারে হাত পেতে জীবিকা নির্বাহ করি।’
তবে সাইফুলের আরো দুই বড় ভাই রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের বিয়ে হয়েছে। আলাদা সংসার আছে। গত ৬ বছর আগে সাইফুলের বাবাও মারা যায়। এখন বড় ছেলে বাচ্চুর ঘরে থাকে সাইফুল।
তিনি আরো বলেন, সবার ছোট সাইফুল প্রতিবন্ধী হিসেবে জন্ম নেয়। জন্মের পর বিভিন্ন কবিরাজ দেখিয়ে চিকিৎসা করিয়েও ফল পাওয়া যায়নি।
যখন সাইফুল হাটতে শিখল তখন দেখা গেল সে বাড়ির বাহিরে চলে যায়। পরে বয়স যখন ১০ বছর, তখন থেকেই তার নিরাপত্তার কথা ভেবে পায়ে লোহার শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়।
সাইফুল কারো কোন ক্ষতি করে না জানিয়ে তার মা বলেন, সব সময় সে গরু লালন পালন করতে পছন্দ করে। তবে সে যদি কোন গরু দেখে তাহলে গরুর পিছনে পিছনে অনেক দূরে গিয়ে হারিয়ে যায়। সে আশঙ্কায় তাকে বেঁধে রাখা হয়। এর পর থেকে আজ পর্যন্ত (২০ বছর) তাকে এ অবস্থায় রাখা হয়েছে।
সুইফুলকে তার মা প্রতিদিন সকালে ঘর থেকে শিকলবাঁধা অবস্থায় বাহির করে আবার রাতে শিকল বাঁধা আবস্থায় ঘরে নিয়ে শুইয়ে দিতে হয়। রাতেও বাঁধা থাকে। প্রতিদিন ঘুমের ওষুধ খাইয়ে তাকে ঘুম পাড়াতে হয়।
শিকলে বেঁধে রাখলে সাইফুলের মন খুব খারাপ হয় উল্লেখ্য করে তিনি বলেন, সাইফুলকে শিকলে বেঁধে রাখলে একাকিভাবে বসে থাকে। তবে ছিলেটিকে সুস্থ করে তোলার ইচ্ছা থাকলেও দারিদ্রতার প্রতিবন্ধকতায় তা সম্ভব হয়নি।
সাইফুলের মা রহিমা বেগম অভিযোগ করে বলেন, সরকারি সহায়তার জন্য এলাকার জনপ্রতিনিধিদের নিকট অনেক ঘুরেছি। তাদের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতিও মিলেছে বহুবার। কিন্তু তার ভাগ্যে আজও কোনো ভাতা জোটেনি।
এ ব্যাপারে স্থানীয় বাসিন্দা ও তাদের প্রতিবেশি মো. মনির বলেন, ‘প্রায় ২০ বছর ধরে তাকে আমরা এই অবস্থায় দেখছি। তাদের আর্থিক অবস্থাও ভালো না। এ অবস্থায় যদি সরকার সাইফুল ও তার মায়ের দিকে সুদৃষ্টি দেয় তা হলে তারা ভালোভাবে চলতে পারতো।’
এ ব্যাপারে ঘাটাইল পৌরসভার মেয়র শহীদুজ্জামান খান শহিদ বলেন, বিষয়টি আমি জানলাম। আগামীতে সাইফুলকে একটি প্রতিবন্ধী কার্ড দেয়া হবে। এ ছাড়া সরকারের পক্ষ থেকেও তাকে আরো সহযোগিতা করা হবে বলে তিনি জানায়।
এ ব্যাপারে ঘাটাইল উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সানজিদা সুলতানা বলেন, ‘বিষয়টি আমি অবগত ছিলাম না। সাইফুলের বিষয়টি আমি মাত্র শুনলাম। তবে খোঁজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।