রবিবার, মে ২৪, ২০২৬
Homeটাঙ্গাইল জেলাটাঙ্গাইলের চারাবাড়ি সেতুতে ঝুঁকি নিয়ে লক্ষাধিক মানুষের চলাচল

টাঙ্গাইলের চারাবাড়ি সেতুতে ঝুঁকি নিয়ে লক্ষাধিক মানুষের চলাচল

নিউজ টাঙ্গাইল ডেস্ক: টাঙ্গাইল-তোরাপগঞ্জ সড়কে ধলেশ্বরী নদীর উপর চারাবাড়ি ঘাট সেতুর বাম তীরের অ্যাপ্রোচ ধ্বসে পশ্চিমাঞ্চলের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ফলে প্রতিদিন চরাঞ্চলের পাঁচটি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ ঝুঁকি নিয়ে ওই সেতু দিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর লোহার পাত ব্যবহার করে অ্যাপ্রোচের ধ্বস ঠেকানোর চেষ্টা করলেও সাম্প্রতিক বৃষ্টি ও প্রবল স্রোতে কারণে তা ভেস্তে যাচ্ছে।

জানা গেছে, টাঙ্গাইলের চরাঞ্চলের কাতুলী, হুগড়া, কাকুয়া, মাহমুদনগর ও নাগরপুরের ভাড়রা ইউনিয়নে যাতায়াতের জন্য টাঙ্গাইল-তোরাপগঞ্জ সড়কে ধলেশ্বরী নদীর উপর চারাবাড়ি ঘাট নামকস্থানে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিফতর (এলজিইডি) বিগত ২০০৬ সালে ১৭০.৬৪২ মিটার দৈর্ঘ্যরে সেতু নির্মাণ করে।

বিগত ২০০৬ সালের ৯ জুন সাবেক এমপি মেজর জেনারেল (অব.) মাহমুদুল হাসান সেতুটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। নির্মাণের পর বন্যা ও বর্ষায় কয়েক দফায় পূর্ব ও পশ্চিম তীরের অ্যাপ্রোচে ধ্বস নামে। তাৎক্ষণিকভাবে এলজিইডি স্থানীয়দের সহায়তায় বালুর বস্তা ও লোহার পাত দিয়ে সাময়িক সংস্কার করে ধ্বস ঠেকায়।

সরেজমিনে জানা গেছে এ সড়ক দিয়ে ব্রিজ পাড় হয়ে চলাঞ্চলের পাঁচটি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করে থাকে। এছাড়া চরাঞ্চলের কৃষিপণ্য, তাঁত শিল্পের কাঁচামাল ও নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য আনা-নেয়া করতে প্রতিদিন শতাধিক ট্রাক, অটোভ্যান, অটোরিকশা, সিএনজি চালিত অটোরিকশা চলাচল করে থাকে।

তারা জানান, শুস্ক মৌসুমে নদীর তলদেশ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় ব্রিজের নিচে ও নদী তীরে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বর্ষায় পানি এসে ওইসব গর্তে ঘুর্ণি সৃষ্টি হয়। নদীর প্রবল ও গত কয়েকদিনের প্রবল বৃষ্টিতে ব্রিজের অ্যাপ্রোচে ধ্বস দেখা দিয়েছে।

টাঙ্গাইল সদর উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) একেএম হেদায়েত উল্লাহ জানান, তিনি সেতুর অ্যাপ্রোচ পরিদর্শন করে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে করণীয় নিয়ে কথা বলেছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে সমন্বয় করে দ্রুত চারাবাড়ি ঘাট ব্রিজের অ্যাপ্রোচের ধ্বস বন্ধ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

টাঙ্গাইল সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান আনছারী জানান, অ্যাপ্রোচে ধ্বস শুরু হওয়ার সাথে সাথে তিনি টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ড ও এলজিইডিকে জানান। কিন্তু টাঙ্গাইল পাউবো কোন ব্যবস্থাই নেয়নি। এলজিইডিও স্থায়ী কোন ব্যবস্থা না নিয়ে কোন রকমে ধ্বস ঠেকানোর চেষ্টা করেছে। নদীতে পানি বাড়ার সাথে সাথে চারাবাড়ি ব্রিজটিই ধ্বসে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম জানান, ব্রিজটি নির্মণ করেছে এলজিইউডি, দেখভাল করার দায়িত্বও তাদের। ওখানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোন কিছু করার নেই।

 

নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।

RELATED ARTICLES

Most Popular