নিজস্ব প্রতিনিধি: ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে এলেঙ্গা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত চার লেন প্রকল্পের দ্বিতীয় ফেইজের কাজ দৃশ্যমান হচ্ছে। এখন চলছে মাটি ভরাটের কাজ। প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হলে যানজট ও সড়ক দুর্ঘটনা থেকে রেহাই পাবে উত্তরাঞ্চলের ২২ জেলার মানুষ। এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশের দাবি, এলেঙ্গা থেকে গাজীপুরের ভোগরা পর্যন্ত চার লেন প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ায় যাত্রী ভোগান্তি ও সড়ক দুর্ঘটনা কমে গেছে। দ্বিতীয় ফেইজের কাজ নির্দিষ্ট সময়ে শেষ ভোগান্তির অবসান হবে।
১৯৯৭ সালে বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মাণের পর উত্তরবঙ্গের ১৭টিসহ মোট ২৩টি জেলার গাড়ি ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক দিয়ে চলাচল শুরু করে। ফলে মহাসড়কে গাড়ির চাপ ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। গাড়ির তুলনায় মহাসড়কের ধারণ ক্ষমতা না থাকায় প্রতিদিনই দীর্ঘ যানজট পোহাতে হয়। সমানতালে বাড়তে থাকে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির সংখ্যাও। সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সরকার সড়কটিকে চার লেনে উন্নীত করণের প্রকল্প হাতে নেয়।
এলেঙ্গা থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত প্রথম ফেইজের কাজ শেষ হওয়ায় যাত্রী ভোগান্তি কমেছে, নিয়ন্ত্রণে এসেছে সড়ক দুর্ঘটনাও। তবে এলেঙ্গা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্বপাড় পর্যন্ত এখনো সিঙ্গেল রাস্তা রয়ে গেছে। ফলে এ অংশে এখনও যাত্রী ভোগান্তি চরমে। প্রতিনিয়ত যানজট, সড়ক দুর্ঘটনা ও পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে পড়তে হচ্ছে নানান জটিলতায়।
এ অংশের ভোগান্তির অবসান করতে সরকার নতুন করে ৬০০ কোটি টাকা ব্যয়ে এলেঙ্গা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত ১৩.৬ কি.মি রাস্তা চার লেনসহ আরও একটি সার্ভিস লেন করার প্রকল্প হাতে নেয়। এরইমধ্যে মাটি ভরাটের কাজ শুরু হয়েছে। ২০২৪ সালে জুন মাসে কাজটি শেষ করার কথা রয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করার দাবি চালক ও যাত্রীদের।
এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জহুরুল হক বলেন, ‘এলেঙ্গা থেকে গাজীপুরের ভোগরা পর্যন্ত চার লেন প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ায় যাত্রী ভোগান্তি ও সড়ক দুর্ঘটনা কমে গেছে। দ্বিতীয় ফেইজের কাজ নির্দিষ্ট সময়ে শেষ হলে উত্তরাঞ্চলের ২২ জেলার মানুষের আর কোনো ভোগান্তি থাকবে না।
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের দ্বিতীয় ফেইজে চারলেন প্রকল্পের ১৩.৬ কি.মি সড়কে ১টি ফ্লাইওভার, ৮টি ব্রিজ, ১০টি কালভার্ট ও ২টি আন্ডারপাসসহ একটি সার্ভিস লেন নির্মাণ করা হবে।
