এম সাইফুল ইসলাম শাফলু: মহান বিজয় দিবসে একাত্তরের বীর শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনা অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর খুনীদের বেহেস্ত নসীব কামনা করে দোয়া করায় টাঙ্গাইলের গোপালপুর দারুল উলুম কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ড. ফায়জুল আমীর সরকারকে আটক করেছে পুলিশ। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আজ শনিবার সকাল আটটায় গোপালপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুস্পমাল্য অর্পনের পূর্বে একাত্তরে শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়ার আয়োজন করে। উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত এ দোয়া অনুষ্ঠানে মোনাজাতে নের্তৃত্ব দেন গোপালপুর কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ড. ফায়জুল আমীন সরকার। দোয়া অনুষ্ঠানে অধ্যক্ষ ড. ফায়জুল আমীন সরকার বলেন, হে আল্লাহ তুমি পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধু হত্যাকারি, যাদের ফাঁসি হয়েছে তাদের বেহেস্ত নসীব করো। হে আল্লাহ তুমি বিচারের পর তাদেরকে বেহেস্ত নসীব করো। দোয়া অনুষ্ঠানে তার এ ধরনের বক্তবে উপস্থিত সকলেই হতবাক হয়ে যান। উত্তেজনা দেখা দিলে উপস্থিত নের্তৃবৃন্দ সকলকে শান্ত করেন।
উপজেলা চেয়ারম্যান ইউনুস ইসলাম তালুকদার জানান, একুশে গ্রেনেড হামলা মামলার প্রধান তিন আাসামীর বাড়ি গোপালপুরে। গোপালপুরের দুই জঙ্গী সম্প্রতি ক্রস ফায়ারে মারা গেছে। অধ্যক্ষ ড. ফায়জুলের মতো মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী মানুষ, যারা জামায়াত শিবিরের সঙ্গে যুক্ত ছিল তাদের মুখ থেকে এমন কথা বের হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। আমরা তার কঠিন শাস্তি চাই।
সাবেক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার এবং গোপালপুর কামিল মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুস সোবহান তুলা জানান, মুখ ফসকে হয়তো তিনি একথা বলেছেন। তবে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার দিলরুা শারমীন জানান, দোয়া অনুষ্ঠানে এ ধরনের দুর্ভাগ্যজনক বক্তব্য শুনে তিনি নিজের কানকে প্রথমে বিশ্বাস করতে চাননি। একই কথা আবার রিপিট করলে তিনি মনোযোগ দিয়ে তা শোনেন। আশেপাশে যারা ছিলেন তাদের নিকট থেকে তিনি শতভাগ নিশ্চিত হন।
গোপালপুর থানার ওসি হাসান আল মামুন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন। ঘটনার পর পরই তাকে আটক করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
m
তবে অধ্যক্ষ ড. ফায়জুল আমীন সরকার বলেন, ভুলবশত আমার মুখ থেকে কথাটা বের হয়ে যায় ।
