সোমবার, এপ্রিল ১৩, ২০২৬
Homeটাঙ্গাইল জেলাশিশু আনিকার এখন কি হবে ?

শিশু আনিকার এখন কি হবে ?

নিজস্ব প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলে চাচা ও ভাতিজার যৌন লালসার শিকার হওয়া স্কুল ছাত্রী কণ্যা সন্তান প্রসব করেছে। তার নাম রাখা হয়েছে আনিকা। তার বয়স ৫ দিন।

গত রবিবার সকাল প্রায় ১০ টার দিকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে অপারেশনের মাধ্যমে সে কন্যা সন্তানের জন্ম দেয়।

এর আগে শনিবার ভোর ৫ টার দিকে ওই মেয়েটি প্রসব ব্যথা নিয়ে হাসপাতালের এক নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি হয়। সে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার গিলাবাড়ি গ্রামের মেয়ে ও ভূঞাপুর উপজেলার নিকলা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণীর ছাত্রী।

ধর্ষিতা ছাত্রীর বাবা আবুল হোসেন জানান, এমন পরিস্থিতিতে মেয়ে ও তার কন্যা আনিকাকে নিয়ে বেকায়দায় পড়েছেন তিনি। কি করবেন বুঝতে পারছেন না। একদিকে সামাজিক ভাবে মান সম্মান হারানো যন্ত্রনা অন্যদিকে মেয়ে ও তার কন্যা সন্তানের চিকিৎসা খরচ যোগাতে পারছেন না তিনি। চিকিৎসার খরচ মেটাতে ইতিমধ্যে ঋনগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন।

একটি ইট ভাটার সাধারন শ্রমিক হিসেবে যা বেতন পান তা দিয়ে তার নিজের সংসারি চলেনা। তার সাথে বাড়তি খরচ মেটাতে দিশেহারা হয়ে দিকবেদিক ছুটোছুটি করতে হচ্ছে তাকে।

অন্যদিকে কন্যা ও তার সন্তানের ভবিষ্যৎ চিন্তায় এক রকম পাগলপ্রায় হয়ে পড়েছেন ছাত্রীর মা কমলা বেগম।

তিনি জানান, এমন পরিস্থিতিতে ঘটা করে নাতনির নাম রাখতে পারেনি। ঠিক মতো খাবার জুটেনা সেখানে গরিবের আবার নাম কিসের। হাসপাতালে বেডের পাশের লোকজনের পরামর্শে “আনিকা” নাম রেখেছি। আমার মেয়ের সাথে যা ঘটেছে আমি তার উপযুক্ত বিচার চাই।

এমন পরিস্থিতিতে জন্ম নেয়া আনিকা যেমন জানেনা তার পিতৃ পরিচয় অন্যদিকে আনিকার মা জানেনা তার স্বামি কে? কঠিন সমিকরনে আনিকার ভবিষ্যৎ। গ্রামাঞ্চলে এসব বিষয়কে প্রচন্ড বাঁকা চোখে দেখা হয়। এক রকম সামাজিক ভাবে নিজ থেকেই একঘরে হয়ে যায় ভুক্তভোগী পরিবার। অনেক সময় আত্মহত্যার মতোও ঘটনা ঘটে। কিন্তু আনিকার বা তার মায়ের দোষ কোথায়? পৈশাচিক লালসার শিকার হওয়া মা মেয়ের এখন কি হবে। দুষিত আলো বাতাসে জন্ম নেয়া আনিকা এসমাজের মানুষের প্রতি অন্তরাত্মা থেকে ঘৃনা নিয়েই হয়তো বেড়ে উঠবে। লাল চোখে দেখবে পুরুষ নামক মানুষ গুলোকে। আমরা এর দায় এড়াতে পারিনা। সামাজিক ভাবে এসব ঘটনার শিকার হওয়া ভুক্তভোগীদের পাশে দাঁড়াতে সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন জেলার সচেতন মহল।

উল্লেখ্য, দারিদ্রতার কারনে কালিহাতী উপজেলার গিলাবাড়ি গ্রামের আনছের আলীর বাসায় কাজ করতো ওই স্কুল ছাত্রী। কাজের সুবাধে আনছের আলী ওই স্কুল ছাত্রীকে জোর করে ধর্ষণ করে। পরে কাউকে কিছু বললে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে নিয়মিত ধর্ষণ করতে থাকে। ধর্ষণ করার সময় ঘটনাটি দেখে ফেলে তারই আপন বড় ভাই মুনসুর আলীর ছেলে শরিফুল ইসলাম। পরে শরিফুল ঘটনাটি লোকজনের কাছে বলে দেয়ার ভয় দেখিয়ে সেও মেয়েটিকে ধর্ষণ করে। হত্যার ভয় দেখিয়ে ও কাউকে কিছু না বলতে ওই মেয়েকে নিষেধ করে দেয় আনছের আলী ও শরিফুল। সুযোগ বুঝে চাচা-ভাতিজা প্রায়ই তাকে ধর্ষণ করতো। আর এভাবেই ধর্ষণের ফলে সে অন্তঃসত্বা হয়ে পড়ে।

নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।

RELATED ARTICLES

Most Popular