আমরা যদি দেশের বিভিন্ন শহরে দেখি তাহলে প্রতিনিয়তই দেখতে পাই – ছিন্নমূল মানুষেরা মানবেতর জীবনযাপন করছে। যদিও সরকারিভাবে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে তা প্রয়োজনের তুলনার খুবই নগন্য। সারা দেশে ছিন্নমূল মানুষের সংখ্যা কত এ পরিসংখ্যান কারও হাতে নেই। এমনকি সরকারের হাতেও নেই। ছিন্নমূল মানুষ নারী-পুরুষ দিনের বেলা কাজ করছে আর রাত হলেই তারা স্থান নেয় কমলাপুর রেলস্টেশন, লঞ্চঘাট, বাসস্ট্যান্ড ও ফুটপাথে। বছরের বারো মাসই এদের বসবাস খোলা আকাশের নিচে কিন্তু শীতকালে শীতে কাতর, বর্ষাকালে বৃষ্টিতে ভিজতে হয় তাদের। এরা বঞ্চিত তিনটি মৌলিক অধিকার থেকে। অন্ন, বস্ত্র ও বাসস্থান থেকে।
আসুন শীতে কাতর অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়াই
সারাদেশে বৈরী আবহাওয়ার কারণে গত কয়েক দিন ধরে শীতের তীব্রতা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে এবারের শীতে এটাই সর্বোচ্চ শৈত্যপ্রবাহ। শীতের তীব্রতা দেশের উত্তরাঞ্চলে সবচেয়ে বেশি। প্রচণ্ড শীতের কারণে ঘর থেকে মানুষ বাইরে বের হতে পারছে না। অচল হয়ে পড়ছে দেশের অধিকাংশ এলাকা।
শীতের তীব্রতার কারণে নিম্ন আয়ের মানুষ যেমন- দিনমজুর যারা দিন আনে দিন খায় তাদের কর্ম প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। যারা ছিন্নমূল মানুষ, যাদের ঘর বাড়ি নেই, যেখানে রাত সেখানেই যারা কাত হয়ে যায়, তাদের দুঃখ-কষ্টের যেন শেষ নেই। সন্ধ্যা হলেই শীতের কারণে তারা থাকে আতঙ্কে- শীতের কারণে কীভাবে রাত কাটাবে। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গেই ছিন্নমূল মানুষেরা কেউ আগুন জ্বালিয়ে আবার কেউ কেউ রাস্তার পাশে পলিথিন দিয়ে শীতের রাত কাটায়। পলিথিন দিয়ে ঢেকেও শীতের তীব্রতা থেকে রক্ষা পাচ্ছে না। শীতের তীব্রতা সহ্য করতে পারছে না। শীতার্তরা নির্ঘুম রাত কাটায়। প্রচণ্ড শীতের কারণে ছিন্নমূল মানুষের মধ্যে যারা শিশু ও বৃদ্ধ তাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে রোগব্যাধি। বেশিরভাগ শিশুর নিউমোনিয়া দেখা দিয়েছে। বৃদ্ধরা ভুগছে শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগে। অনেকই ভর্তি হয়েছে হাসপাতালে। ছিন্নমূল মানুষের বসবাস ১২ মাসই রাস্তায়।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে জলবায়ু পরিবর্তনের বড় ধরনের ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশ। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে প্রচণ্ড শীত, প্রচণ্ড গরম, অতি বৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, নদী ভাঙন এবং গাছপালা অকালে মরে যাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে শীতে কাঁপছে সারা দেশ। হাজার হাজার মানুষ নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। প্রবাদ আছে মাঘের শীত বাঘের গায়। এ প্রবাদে এ বছর শীতে বেশ কয়েকটি বাঘও মারা গেছে। ঠিকই এবারের শীত যেন বাঘের গায়েই লেগেছে। একদিকে প্রচণ্ড শীত অন্যদিকে করোনাা থাবায় মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছে। প্রতিদিনই সংক্রমণের সংখ্যা বাড়ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে মৃত্যু। স্বাস্থ্যবিধি না মানায় পরিস্থিতি দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে। প্রচণ্ড শীত ও করোনা বৃদ্ধি পাওয়ায় জনজীবন অচল হয়ে পড়েছে। শৈত্যপ্রবাহ ও কনকনে বাতাসের কারণে মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই। সমাজের বৃত্তবানদের অনুরোধ করছি আসুন শীতে কাতর অসহায় মানুষদের পাশে আমরা দাঁড়াই।
