বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন সৌদি প্রবাসী মির্জাপুরের সন্তান আশরাফুল ইসলাম (৪৫)। পরিবারের মুখে হাসি ফুটাতে পাড়ি জমিয়েছিলেন সূদুর মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবে। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, মরণব্যাধি করোনা কেড়ে নিলো তার প্রাণ।
আশরাফুল উপজেলার ভাতগ্রাম ইউনিয়নের ঘুগী গ্রামের মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রীসহ দুই কন্যা সন্তান রেখে গেছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ভাগ্যের চাকা ঘুরাতে প্রায় ১৯ বছর আগে আশরাফুল সৌদিতে কাজের উদ্দেশ্যে যান। সেখানে তিনি মদিনা শহরের আল-হামরা প্লাস্টিক কারখানায় কাজ করতেন বলে জানায় তার ভাই রফিকুল ইসলাম।
গত ১১ এপ্রিল আশরাফুলসহ ঐ কোম্পানিতে কর্মরত মোট ৫ জন শ্রমিক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন। এদের মধ্যে ৪ জন সুস্থ হলেও ১৮ এপ্রিল আশরাফুলের মৃত্যু হয়।
গতকাল বুধবার (২২ এপ্রিল) কোম্পানির ফোরম্যান মো. সুমন মিয়া টেলিফোনে আশরাফুলের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন বলে জানান তার পরিবারের সদস্যরা।
এদিকে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশেহারা তার পরিবার। আশরাফুলের মৃত্যুতে পরিবারে চলছে শোকের মাতম। স্বামীর শোকে স্ত্রী শামীমা ইয়াসমিন (৩২) ও বাবাকে হারিয়ে দুই কন্যা মেঘলা আক্তার (১৯) ও তাবাসসুম (৭) আহাজারি করছেন।
অপরদিকে, সৌদি সরকারের নিয়ম অনুযায়ী কাজের ভিসায় সৌদি এসে কেউ মারা গেলে তার পরিবারের সম্মতি ছাড়া মৃতদেহ দেশে প্রেরণ বা স্থানীয়ভাবে দাফনের উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ মিশন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে আশরাফুলের লাশ দেশে পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না। এ বিষয়টি সেই কোম্পানির মালিক পক্ষ তার পরিবারের সদস্যস্যের সঙ্গে কথা বলে জানিয়েছেন। এজন্য সৌদি আরবেই সরকারি নিয়মে তার লাশ দাফন করা হবে।
আশরাফুলের স্ত্রী শামীমা ইয়াসমিন ও কলেজ পড়ুয়া কন্যা মেঘলা কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, এখন কে নেবে আমাদের পরিবারের ভরন-পোষণের দায়িত্ব। পরিবারের সার্বিক সহযোগিতার জন্য তারা প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্র মন্ত্রীসহ সৌদি সরকার ও কোম্পানির মালিক পক্ষের নিকট জোর দাবি জানিয়েছেন।
সর্বশেষ ২০১৮ সালে তিনি পরিবারের সাথে দেখা করার জন্য ছুটিতে বাড়ি এসেছিলেন। দীর্ঘ দুই বছর পর আসন্ন রমজান ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আগামী ২০ মে ছুটিতে বাড়ি আসার কথা ছিল আশরাফুলের। এজন্য পরিবারের সবার জন্য কেনাকাটাও করে সব গুছিয়ে রেখেছিলেন বলে বাড়িতে ফোন করে জানিয়েছিলেন তিনি। আর এক মাস পর বাড়ি ফিরবেন বলে পরিবারের সবাই তার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু হতভাগা আশরাফুলের আর দেশে ফেরা হল না, সবাইকে কাঁদিয়ে চিরতরে চলে গেলেন না ফেরার দেশে।
