গাজীপুরে ‘পুলিশের গুলিতে শ্রমিক নিহত হওয়ার গুজবে’ পোশাক কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভ দেখিয়েছেন।
শনিবার সকালে জেলা শহরের ছয়দানা এলাকায় লুইটেক্স পোশাক কারখনা ও কাশিমপুরের জিরানি এলাকার ডরিন পোশাক কারাখানার সামনে শ্রমিকরা এই বিক্ষোভ দেখান। এ সময় পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। পরে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ও গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়নস্ত্রণ করে।
গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের অতিরিক্ত সুপার মো. জালাল উদ্দিন বলেন, বৃহস্পতিবার শ্রমিকরা শতভাগ বেতনের দাবিতে আন্দোলন, ভাংচুর ও বিক্ষোভ করেন। সে সময় পুলিশের গুলিতে কয়েকজন শ্রমিক হতাহত হয়েছেন বলে গুজব তুলে শনিবার সকালে শ্রমিকরা আবার এই বিক্ষোভ দেখান।
করোনাভাইরাস মহামারীতে যেসব শ্রমিক কাজে যোগ দিতে পারেননি তাদের ৬০ শতাংশ বেতন দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু শ্রমিকরা শতভাগ দাবি করে বিক্ষোভ দেখান।
পুলিশ কর্মকর্তা জালাল বলেন, “শনিবার বিক্ষোভের একপর্যায়ে শ্রমিকরা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ তৈরি করেন। এ সময় তারা গাড়ির পুরাতন টায়ারে আগুন দেন। পুলিশ গেলে তাদের লক্ষ করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকেন শ্রমিকরা। এতে কয়েকজন পুলিশ আহত হন। মহাসড়কে পণ্যবাহী যানবাহন আটকা পড়ে দীর্ঘ জটের সৃষ্টি হয়।”
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশ পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ ও গুলি ছোড়ে বলে পুলিশ স্বীকার করেছে।
গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের আরেক অতিরিক্ত সুপার সুশান্ত সরকার বলেন, “শ্রমিকরা বিভিন্ন কারখানার সামনে গিয়ে বিক্ষোভ দেখান। সেসব কারখানার শ্রমিকদের আন্দোলনে যোগ দিতে আহ্বান জানান। পুলিশ তাদের সরিয়ে দিতে গেলে তারা পুলিশকে লক্ষ করে ইটপাটকেল ছোড়েন। একপর্যায়ে পুলিশ শটগানের কয়েক রাউন্ড গুলি ও কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। দুপুরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।”
এদিকে চালু থাকা কারখানার শ্রমিকদেরও ৬০ শতাংশ বেতন দেওয়া হবে এমন খবরও ছড়িয়ে পড়ে। এতে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।
নাম না জানিয়ে একজন শ্রমিক বলেন, “আমাদের দিয়ে কাজ করানোর পরও কারখানা কর্তৃপক্ষ শতভাগ বেতন-ভাতা দেবে না জানতে পেরে শ্রমিকরা এই বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় পুলিশ আমাদের ওপর চড়াও হয়ে গুলি ছোড়ে এবং লাঠি চার্জ করে। শ্রমিকরা হতাহত হওয়ার খবর শুনে শনিবার এর প্রতিবাদ করেন।”
পুলিশের গুলিতে শ্রমিকরা হতাহত হওয়ার খবর গুজব বলে পুলিশের দাবি। শ্রমিকদের ভুল বুঝিয়ে আন্দোলন উস্কে দিচ্ছে বলেও পুলিশের সন্দেহ।
পুলিশ কর্মকর্তা জালাল উদ্দিন বলেন, “পুলিশের গুলিতে শ্রমিক নিহত হওয়ার ঘটনা গুজবমাত্র। যারা কাজে যোগ দিতে পারেনি সরকার তাদের জন্য ৬০ শতাংশ বেতন দেওয়ার নির্দেশ দিলেও তারা তা না মেনে শতভাগ দাবি করছেন। এ নিয়ে কেউ হয়ত শ্রমিকদের ভুল বোঝাচ্ছে। আন্দোলনে উস্কে দিচ্ছে।”
নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।