নিউজ ডেস্ক: “এতো সুর আর এতো গান, যদি কোন দিন থেমে যায় সেই দিন তুমিওতো ওগো ভুলে যাবে যে আমায়…।” “ডেকোনা আমারে তুমি কাছে ডেকো না, দূরে আছি সেই ভালো নিয়ে বেদনা..।” হাট-বাজার, স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে মানুষকে এমন গানগুলো শুনিয়ে রোজগার করেন টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার বাংড়া ইউনিয়নের উত্তর বাগুটিয়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা দিলীপ কুমার দে।
মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে জয়লাভ করলেও ঠিক তার গানের কথার মতো তার সুর যেন থেমে যাচ্ছে। চির অভাবের সংসারের বিভিন্ন প্রয়োজন মেটাতে নেয়া ঋণের কিস্তি পরিশোধের পর থাকে না তেমন কিছু। এই ৮২ বছর বয়সেও তাই মাঝে মাঝেই বাড়ি থেকে বেড়িয়ে পড়েন আশে পাশের মানুষদের গান শুনিয়ে পাঁচ-দশ টাকা পাওয়ার আশায়। কেউ যদি দয়া করে অসুখের জন্য দুটো ট্যাবলেট কিনে দেয়। একসময় গান গেয়ে সংসার চালালেও বয়স ভারে নানা রোগশোকে এখন তা সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়াও সরকারের দেয়া বীর নিবাস ও মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পেলেও ঋণের কারনে চলছে না তার পরিবার। ফলে স্বাধীন দেশে জীবনযুদ্ধে প্রতিনিয়ত পরাজিত হচ্ছেন এই বীর।
বিজয়ের ৫০ বছর পূর্তির সময়টাতে কেমন চলছে এ যোদ্ধার জীবন? তা জানতেই পা রাখি এ বীর মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে। আলাপচারিতায় তিনি বলেন, আমি ১৫ বছর বয়স থেকেই গান গাওয়া শুরু করি। লেখাপড়া তেমন করতে পারিনি। তখনকার সময়ে হঠাৎ পাকিস্তানিরা ঢাকায় অত্যাচার শুরু করে।তারপর মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়লাম।
আমি ছিলাম কামালপুর ১১ নম্বর সেক্টরে। জামালপুর জেলার বকশিগঞ্জ থানায় যুদ্ধ করছি। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন কর্ণেল আবু তাহের। সাব সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর আফছার আর আমাদের কমান্ড করতেন কর্নেল আবু তাহেরের ছোট ভাই ওয়ারেসাত হোসেন বেলাল।
এই বীর মুক্তিযোদ্ধা আরও বলেন, লক্ষ্য ছিল হানাদার বাহিনীকে ধ্বংস করতে হবে নইলে উপায় নাই। আমি মরি আমার রক্তে সবাই বাইচা যাক, সবাই শান্তিতে থাকুক, স্বাধীন দেশে বসবাস করুক। তখন কোন ভয়ও পাই নাই। এখনতো সবাই স্বাধীন দেশে শান্তিতে বসবাস করতেছে। বর্তমানে যারা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, নাতি-পুতি ওরা ভালোভাবে থাকবো, স্বাধীন দেশে বসবাস করবো।
আমাদের সময়ের মতো এখন যাতে তাদের এ রকম বিপদ না আসে এই আর্শিবাদ করি। দেশের মানুষের জন্যও দোয়া করি তারা যেন আমাদের মতো এ রকম অত্যাচার ভোগ না করে। তারা যেন ভালোভাবে থাকতে পারে। কারন দেশ স্বাধীন করছি দেশের জন্য মায়া আছে।
