শনিবার, এপ্রিল ১৮, ২০২৬
Homeটাঙ্গাইল জেলাটাঙ্গাইলের শিহাব হত্যার প্রতিবাদে ঢাবিতে মানববন্ধন

টাঙ্গাইলের শিহাব হত্যার প্রতিবাদে ঢাবিতে মানববন্ধন

টাঙ্গাইলের সৃষ্টি স্কুলের আবাসিক ভবনে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া শিশু-ছাত্র শিহাব মিয়া হত্যার ঘটনার সঠিক তদন্ত পূর্বক দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত টাঙ্গাইল জেলার সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

মানববন্ধনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য ও স্যার এফ রহমান হলের প্রভোস্ট ড. কে এম সাইফুল ইসলাম খান, বুয়েট ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও আওয়ামী লীগের উপ-কমিটির অর্থ বিষয়ক সম্পাদক আতাউল্লাহ, শিহাবের পিতা মো. ইলিয়াস হোসেন এবং বোন কর্মসূচিতে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন।

মানববন্ধনে অধ্যাপক ড. কে এম সাইফুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমি শিহাবের লাশটি দেখেছি। তার শরীরের বুকে, হাতে, পায়ে, পিঠেসহ অনেকদিকে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। যেদিকে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে সবদিকে রক্ত জমাট হয়ে ছিলো। এমন একটি ঘটনাকে কর্তৃপক্ষ আত্মহত্যা বলে চালিয়ে যাচ্ছেন। এরকম অমানবিক কাজ কোনো মানুষের পক্ষে করা সম্ভব না! শিক্ষার নামে এরকম অনৈতিক শিক্ষাব্যবস্থার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণপূর্বক এই হত্যাকাণ্ডে তীব্র প্রতিবাদ ও প্রশাসনকে সুষ্ঠু তদারকি করার জন্য আহ্বান জানান তিনি।

শিহাবের বাবা ইলিয়াস হোসেন বলেন, ‘আমার ছেলে ছিল নিষ্পাপ সোনার মতো শিশু। সে অবুঝ ছিলো। সে আত্মহত্যা করা বোঝে না। তাকে নির্যাতন করে মেরে ফেলে আত্মহত্যা করেছে বলে মিথ্যা অপপ্রচার করা হচ্ছে। ওরা মানুষ গড়ার কারিগর নয় ওরা হত্যাকারী, ওরা অমানুষ।’ তিনি তার নিষ্পাপ ছেলের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করেন।

শিহাবের বোন প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, ‘আমার ভাই অনেক স্বপ্ন নিয়ে এই স্কুলে নিজ থেকে ভর্তি হতে চেয়েছিল। সামনে পরীক্ষা দেখে পড়ার জন্য সে বাড়িতে বেশিদিন থাকতে চায়নি। তাই তাকে মেরে ফেলার তিনদিন আগেই সে বাড়ি থেকে স্কুলে চলে আসে।

এই তিনদিনের ভেতরে এমন কী হয়েছিলো সে আত্মহত্যা করতে যাবে! পরে তার খবর নিতে স্কুলে যোগাযোগ করা হলে একেকজন একেকরকম তথ্য দেয়৷ কেউ বলে অসুস্থ, কেউ বলে খেলতে গিয়ে ব্যাথা পেয়েছে তাই তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। তারপর হাসপাতালে যোগাযোগ করলে জানায় এমন কোনো রোগী হাসপাতালে নেয়া হয়নি। তারপর একজন শিক্ষক আমাদেরকে ফোন দিয়ে মর্গ থেকে লাশ হাতে তুলে দেয় আর বলে আমার ভাই আত্যহত্মা করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কী এমন হলো এরইমধ্যে তাকে মর্গে নিতে হলো? এখনও পর্যন্ত ওই আবাসিকের কোনো শিক্ষার্থীকে বের হতে দিচ্ছে না।’ তার দাবি, শিহাবকে হত্যা করা হয়েছে৷ তিনি এই ঘটনার সুষ্টু বিচার দাবি করেন।

এই মানববন্ধনের মূল প্রতিনিধি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী পল্লবের নেতৃত্বে টাংগাইলের সাধারণ শিক্ষার্থীদের অনেকে উপস্থিত ছিলেন সমাবেশে। তারা এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান। তাদের দাবি এটা কখনও আত্মহত্যা হতে পারে না। এটা রহস্যজনক মৃত্যু। শিহাবকে হত্যা করা হয়েছে। বিক্ষোভ সমাবেশে তারা ন্যায় বিচারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগানের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানায়। আর শিহাব হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত করে বিচারের দাবি জানান।

উল্লেখ্য গত সোমবার (২০ জুন) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল শহরের বিশ্বাস বেতকা এলাকার বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সৃষ্টি স্কুলের আবাসিক ভবন থেকে ওই স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী শিহাবের লাশ উদ্ধার করা হয়। শিহাবের বাড়ি সখীপুর উপজেলার বেরবাড়ি গ্রামে।

নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।

RELATED ARTICLES

Most Popular