নিজস্ব প্রতিবেদক: টাঙ্গাইলে জেমসের কনসার্টে মোবাইল চুরির হিড়িকের ঘটনা ঘটেছে। চুরি থেকে রেহাই পাননি গণমাধ্যম কর্মীরাও। এ ঘটনায় বুধবার (১৪) সকালে টাঙ্গাইল সদর থানায় কমপক্ষে ৮০ জন থানায় জিডি করেছেন।
গত মঙ্গলবার (১৩ মে) রাতে টাঙ্গাইল পৌর বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ উপলক্ষে আয়োজিত
টাঙ্গাইল শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে ট্রফি উন্মোচন অনুষ্ঠানে জেমসের কনসার্টে মোবাইল চুরির হিড়িকের এমন ঘটনা ঘটে।
অপরদিকে, কয়েকজন নারীকে শ্লীলতাহানিরও অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে অনেকেই পোস্ট করেন। এ নিয়ে জেলাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে।
এদিকে জেলায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত অনেক গণমাধ্যম কর্মী আয়োজক কমিটির বাধার কারণে স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতে পারেননি।
জানা যায়, আসন্ন ঈদ উপলক্ষে বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের আয়োজন করা হয়। এই চ্যাম্পিয়নশিপের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এর ট্রফি উন্মোচন হয়। উদ্বোধন করেন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। এ সময় জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহিন, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবালসহ আয়োজক কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এদিন রাতে জেমসের কনসার্ট উপলক্ষে বিকেল থেকেই ঢল নামে টাঙ্গাইল স্টেডিয়ামে। পরে রাত ৯টার দিকে জেমস মঞ্চে ওঠে এবং গান পরিবেশন করে দর্শকদের মাতোয়ারা করেন। এসময় অনুষ্ঠানে স্টেডিয়াম কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। কনসার্ট চলাকালে পর্যায়ে কয়েকশ মোবাইল চুরি হয় ৷
জেমসের ভক্তরা বলেন, আয়োজক কমিটি যথাযথ দায়িত্ব পালন করেনি। বিশেষ করে বিএনপি ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের কারণে হিমশিম খেতে হয়েছে। এর ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যথাযথ দায়িত্ব পালন করতে পারেনি৷ এতে সাধারণ অনেক দর্শনার্থীই ঠিকমতো কনসার্ট উপভোগ করতে পারেননি।
সংবাদকর্মী নাঈম খান রাব্বি বলেন, পেশাগত কাজের জন্য গিয়েছিলাম। কিন্তু জেমসের কনসার্টে আমার মোবাইল ফোন চুরি হয়েছে। এছাড়া আমার ভাগনেরও ফোন হারিয়েছে।
ভক্তরা জানায়, স্টেডিয়ামে জেমসে কনসার্টে যাচ্ছিলাম। স্টেডিয়ামের ভেতরে প্রবেশ করার সময় কয়েকজন ইচ্ছে করেই ধাক্কাধাক্কি আর ঠেলাঠেলি শুরু করে। ভিড়ের মধ্যেই একজন পকেটে হাত দিয়ে মোবাইল ফোনটি নিয়ে যায়। আমি পরবর্তীতে থানায় গিয়ে জিডি করি। কিন্তু চমক হলো থানায় গিয়ে দেখি অনেককেই রাতে মোবাইল হারানোর জিডি করতে এসেছে।
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানবীর আহমেদ বলেন, পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন ছিল কনসার্টে। মোবাইল চুরির ঘটনায় দুপুর পর্যন্ত ৮০ জন ডিডি করেছেন।
নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।