- নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে ফুপুর বাড়িতে বেড়াতে এসে যমুনা নদীর পাড়ে খেলতে গিয়ে নদীর পানিতে নেমে তীব্র স্রোতে ডুবে শারমিন (১৫) নামে এক স্কুলছাত্রী ও নানার বাড়ীতে বেড়াতে এসে এবং মার্জিয়া (৭) নামে এক শিশু গোসলে নেমে পানিতে ডুবে এ দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ জুলাই) এমন ঘটনা ঘটে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার হুগড়া ইউনিয়নের যমুনা নদীর অংশে গন্ধভপুর এলাকা শারমিনকে ও দুপুরে জেলার বাসাইল উপজেলার কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের কাঞ্চনপুর দক্ষিণপাড়ায় এলাকা থেকে মার্জিয়া নামে এক শিশুহ দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তাদের মধ্যে, ফুপুর বাড়িতে বেড়াতে এসে যমুনা নদীতে ডুবে শারমিনের মৃত্যু হয়। তিনি এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে ডিগ্রী হুগড়া গ্রামের ইউপি সদস্য দবির উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার চন্দনগাতী এলাকার ফার্নিচার ব্যবসায়ী আব্দুল ছামাদের মেয়ে শারমিন ডিগ্রী হুগড়া গ্রামে তার ফুপুর বাড়িতে ঈদে বেড়াতে আসে। বুধবার বিকেল ৪ টায় শারমিন আরও কয়েকজনের সঙ্গে যমুনা নদীর পাড়ে খেলতে যায়।
একপর্যায়ে তারা নদীর পানিতে নামলে প্রবল স্রোতে শারমিন তলিয়ে যায়। পরে অনেক খোঁজাখুঁজি করে শারমিনকে ওইদিন পাওয়া যায়নি। বৃহস্পতিবার গন্ধভপুর এলাকায় তার ভাসমান মরদেহ দেখতে পায় স্থানীয়রা। পরে মরদেহটি উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
অপরদিকে, মার্জিয়া (৭) নামের এক শিশু তার নানার বাড়িতে বেড়াতে এসে গোছল করতে গিয়ে পানিতে ডুবে মারা যায়। মার্জিয়া উপজেলার ফুলকি ইউনিয়নের জশিহাটি গ্রামের প্রবাসী বাবুল মিয়ার মেয়ে।
সে উপজেলার জশিহাটি সরকারি প্রোথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। ঈদের পর (১২ জুলাই) মায়ের সাথে নানার বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল তিনি।
মার্জিয়ার মামা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মার্জিয়া ঈদের পর মঙ্গলবার (১২ জুলাই) মা ফরিদা বেগমের সাথে কাঞ্চনপুর নানার বাড়িতে বেড়াতে আসে।
এরপর বৃহস্পতিবার মার্জিয়া লোকজনের অগোচরে বাড়ির পুর্বপাশে রাস্তার কালভার্টের কাছে বাড়ির অন্যান্য সাথীদের সাথে গোসল করতে গিয়ে পানিতে ডুবে যায়।
পরে মার্জিয়ার ডুবে যাওয়া দেখে তার খালাত ভাই ও মামাত ভাই দৌড়ে এসে বাড়িতে খবর দিলে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. সালেহ খান জানান, হাসপাতালে আনার আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। পরে স্বজনরা মরদেহ বাড়িতে নেয়া যায়।
নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।