নিজস্ব প্রতিবেদক: টাঙ্গাইলে জেলা আওয়ামী লীগের নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমদ হত্যা মামলার আসামি টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা ও তার তিন ভাইয়ের ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল করা হয়। মিছিলটি টাঙ্গাইল পৌর শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার (নিরালা মোড়) চত্বরে সমাবেশ হয়।
বক্তারা বলেন, চাঞ্চল্যকর ফারুক হত্যার বিচার কাজ দীর্ঘ ১১ বছরেও শেষ হয়নি। মামলায় শুধুমাত্র তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য গ্রহণ বাকি রয়েছে। সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ এলেই কারাগারে থাকা কোন আসামি অজ্ঞাত কারণে ‘অসুস্থ’ হয়ে পড়েন। তাই আদালতে আনা হয় না। আবার আসামি উপস্থিত হলেও তদন্ত কর্মকর্তা আসেন না। এ কারণে চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার বিচার কাজ পিছিয়ে যাচ্ছে। বক্তারা এই তামাশা বন্ধ করে অবিলম্বে ফারুক হত্যার বিচারের দাবি করেন।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান ছোট মনির, সাংগঠনিক সম্পাদক জামিলুর রহমান মিরন, টাঙ্গাইল জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির মহাসচিব গোলাম কিবরিয়া বড় মনি, শহর আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আহমদ সুমন মজিদ, পৌরসভার কাউন্সিলর আমিনুর রহমান আমিন প্রমুখ।
২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি টাঙ্গাইল শহরের কলেজ পাড়া এলাকায় নিজ বাড়ির কাছ থেকে জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালিন সদস্য ফারুক আহমদের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়। তদন্ত শেষে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ২০১৬ সালের ৩ ফেব্রæয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। এতে সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান’রা চার ভাইসহ ১৪জনকে আসামি করা হয়।
মামলার প্রধান আসামি আমানুর রহমান খান রানা আত্মসর্মপনের পর তিন বছর কারাগারে ছিলেন। বর্তমানে তিনি জামিনে মুক্ত আছেন। গত ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসন থেকে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তার ছোট ভাই সাবেক পৌর মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি এখনও কারাগারে রয়েছেন। অন্য দুই ভাই জাহিদুর কাকন ও সানিয়াত খান বাপ্পা পলাতক রয়েছেন।
