রেজাউল করিম খান রাজু, ঘাটাইলঃ টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কের এলেঙ্গা-জামালপুর ন্যাশনাল হাইওয়ে প্রশস্তকরণ প্রকল্পের কাজ চলছে। গত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয় এর নির্মাণকাজ। শুরুতেই প্রশস্তকরণের জন্য সড়কের দুই পাশে মাটি খুঁড়ে গর্ত করা হয় এবং ঘাটাইল উপজেলা সদরসহ সড়কের এক পাশে যানবাহন চালু রেখে অন্য পাশে পেভমেন্ট ঢালাই দেওয়া হয়। দুটি কাজই ধীরগতিতে চলার কারণে যানবাহনের অতিরিক্ত চাপে সড়কজুড়ে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের বড় বড় গর্তে পানি জমে যায়। ওই সব গর্তে পড়ে যানবাহন বিকল হয়ে সৃষ্টি হচ্ছে যানজটের। আবার শুকনো দিনে ধুলার কারণে সড়কে চলাচল কঠিন হয়ে পড়ছে।
গত ১ অক্টোবর ঘাটাইল ও মধুপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী বেকারকোনা নামক স্থানে কালভার্ট নির্মাণের জন্য মাটি খনন করার পর অরক্ষিত সেই খাদে একটি যাত্রীবাহী বাস পড়ে ৩০ যাত্রী আহত হয়। গত বুধবার কালিহাতী সদরে বাস খাদে পড়ে ১৫ জন আহত হয়। খানাখন্দের কারণে গত ১৩ আগস্ট উপজেলা সদরের বানিয়াপাড়া নামক স্থানে যাত্রীবাহী বাস উল্টে একজন নিহত ও ২০ যাত্রী আহত হয়।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৩ এপ্রিল একনেকের ২১তম সভায় অনুমোদিত হয় এলেঙ্গা-জামালপুর ন্যাশনাল হাইওয়ে প্রশস্তকরণ প্রকল্প। ৭৭ দশমিক ৬০ কিলোমিটার মহাসড়কটির প্রকল্প ব্যয় ধরা হয় ৪৮৯ দশমিক ৮২ কোটি টাকা। সড়কটি টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা থেকে কালিহাতী, ঘাটাইল, মধুপুর, ধনবাড়ী, সরিষাবাড়ী হয়ে জামালপুর পর্যন্ত যাবে। এর কাজ শেষ হওয়ার কথা ২০২০ সালের জুন নাগাদ। কাজটির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশন এবং জামিল অ্যান্ড কম্পানি।
ঘাটাইল উপজেলা চেয়ারম্যান মো.শহিদুল ইসলাম লেবু বলেন, কোরবানির ঈদের আগে একটু কাজ হয়েছিল তারপর আর কোনো কাজ হয়নি। প্রায় এক-দেড় মাস ধরে পুরোপুরি কাজ বন্ধ রয়েছে। সব কিছু গুছিয়ে নিয়ে তারা চলে গেছে। সড়কে বড় বড় গর্ত ,যানজট, হাঁটু সমান কাদায় মানুষ চরম ভোগান্তিতে আছে। জেলা সমন্বয় সভায় বিষয়টি নিয়ে বারবার বলা হলেও কাজ হচ্ছে না।
ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম বলেন, ‘ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের কাজের গতি বাড়াতে বলা হয়েছে। বিষয়টি জেলা উন্নয়ন ও সমন্বয় কমিটির সভায়ও আলোচনা করা হয়েছে। আশা করছি, জনভোগান্তির কথা বিবেচনা করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেবে।
টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আমিমুল এহসান বলেন, তাদের অভ্যন্তরিণ সমস্যার কারণে কাজ বন্ধ ছিল। সড়কের এমন ধীরগতি নিয়ে আমরাও চিন্তিত। বিষয়টি নিয়ে গত সপ্তাহে তাদের সাথে মিটিং হয়েছে। আশা করছি দ্রুত কাজ শুরু হবে।
