Homeটাঙ্গাইল জেলাটাঙ্গাইলে লবনের বাজারে গুজব; দাম বাড়েনি

টাঙ্গাইলে লবনের বাজারে গুজব; দাম বাড়েনি

নিউজ টাঙ্গাইল ডেস্ক: হঠাৎ করেই টাঙ্গাইলে লবনের বাজারে গুজব ছড়িয়ে পড়েছে। এতে করে অস্থিরতার সৃষ্টি হয়েছে। লবনের দাম কেজি প্রতি প্রায় ১শ’ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে এমন গুজবে ক্রেতারা হুমড়ি খেয়ে পড়েন লবন কিনতে।

সোমবার (১৮ নভেম্বর) বিকেল থেকে গুজব ছড়ালেও সন্ধ্যার পর থেকে তা বেশী আকারে ছড়িয়ে পড়ে। যা মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) বিকেল পর্যন্ত দোকানগুলোতে ছিল উপচেপড়া ভিড়। আর এতে ক্রেতাদের সামাল দিতে দোকানীদের বেগ পেতে হচ্ছে। অথচ লবনের কোন দামই বৃদ্ধি পায়নি বলে লবন ব্যবসায়ীরা জানান। তারা জানান, জেলায় প্রচুর লবনের মজুদ রয়েছে। দাম বৃদ্ধি বা লবন সঙ্কটের কোন কারণ নেই। যারা এই ভূয়া খবর ছড়াচ্ছেন তারা ঠিক করছেন না। এছাড়া ক্রেতাদের অতিরিক্ত লবন কেনার কোন প্রয়োজন নেই।

এদিকে টাঙ্গাইল শহরের বাজারগুলোতে লবনের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে এমন খবর পেয়ে মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) দুপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালায়। তবে এ অভিযানে সত্যতা না পেয়ে কাউকে জরিমানা করা হয়নি। পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত দাম না নিতে নিদের্শনা এবং কারও কারও কাছ থেকে মুচলেখা নেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত।

জানা যায়, প্রতি কেজি লবনের দাম ১শ’ থেকে ১২০ টাকা হচ্ছে এমন গুজবে বিভ্রান্ত হয়ে বেশি মুনাফা লোভে বিভিন্ন বাজারের বিক্রেতারা লবন বিক্রি করা বন্ধ করে দিয়েছেন এক শ্রেনীর ব্যবসায়ীরা। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। লবনের দাম বেড়ে যাচ্ছে, এমন সংবাদে বাজারগুলোর লবন বিক্রেতার দোকানে ভির করছেন ক্রেতারা। সরেজমিনে মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) বাজারে দেখা যায়, লবনের দাম বেড়েছে এমন গুজব ছড়িয়ে পড়ায় টাঙ্গাইল শহরের পাঁচ আনী, ছয়আনী ও পার্ক বাজারসহ বিভিন্ন হাট-বাজারে লাইন দিয়ে ক্রেতাদের লবন কিনতে দেখা যায়। বিগত সময়ের তুলনায় এদিনে লবনের দোকানগুলোতে হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন ক্রেতারা। আর এতে হিমশিম খেতে হচ্ছে দোকানের ব্যবসায়ীদের। যে যেভাবে পারছে দোকান থেকে লবন কিনছেন। দোকানগুলোতে লাইনে দাঁড়িয়ে লবন কিনতে উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। এছাড়া ভ্রাম্যমাণ আদালতের উপস্থিতিতে বাজারের মসজিদের মাইকে লবনের দাম বৃদ্ধি পায়নি বলে জানানো হয়।

এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল শহরের পার্ক বাজারের লবন ব্যবসায়ী মাজেদুল ইসলাম  বলেন, সকাল থেকে ক্রেতাদের প্রচুর চাপ বাড়তে থাকে। মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ১৫০ বস্তা লবন বিক্রি করেছি। আর এতে চাপ সামলাতে না পেরে মাঝখানে দোকান বন্ধ রাখি। অন্যান্য সময়ে প্রতিদিন ২০ থেকে ৩০ বস্তা লবন বিক্রি হয়। মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) ৬ ঘন্টায় কয়েকগুণ বেশি লবন বিক্রি হয়। এ ব্যাপারে বাজার সমিতির সভাপতি আব্দুল বারেক মিয়া বলেন, হঠাৎ করে গুজব শুরু হয় বাজারে লবনের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। আর এতে করে লবনের দোকানগুলোতে হুমড়ি খেয়ে পড়ে ক্রেতারা। তবে লবনের দাম বৃদ্ধি করা হয়নি। ৭৪ কেজির প্রতি বস্তায় লবন বিক্রি হচ্ছে ৮৫০ টাকায়। আর ২৫ কেজির লবনের প্রতি বস্তায় লবন বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকায়। এছাড়া এসিআই কোম্পানীর লবন ২৫ কেজির প্রতি বস্তায় ৬৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এ ব্যাপারে বাজার সমিতির সাধারণ সম্পাদক জোয়াহের আলী বলেন, আমাদের এই বাজারে ২ থেকে ৩টি লবনের দোকান রয়েছে। কোন দোকান থেকেই লবনের দাম বেশি নেয়া হচ্ছে না। দোকানগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমানে লবন রয়েছে। গুজবের কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

এ ব্যাপারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রোকনুজ্জামান বলেন, লবনের দাম বাড়ার মতো কোন কারণ নেই। লবনের দাম বৃদ্ধির বিষয়টি সম্পুর্ণ গুজব। একটি সিন্ডিকেট মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য অপপ্রচার চালাচ্ছে। এ ব্যাপারে আমরা তৎপর রয়েছি। তাই গুজবে কান না দিয়ে সবাইকে সচেতন থাকার আহবান জানানো হয়েছে। বাজারের প্রতিটি দোকানেই লবনের দাম স্বাভাবিক রয়েছে। এছাড়াও কেউ যদি নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে লবন বিক্রি না করেন, সে বিষয়েও ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়েছে। ক্রেতার সঠিক দামেই লবন বিক্রি করছে। আর এ কারণে অভিযানে কাউকে জরিমানা করা হয়নি। তবে এ ধরনের গুজব ছড়িয়ে কেউ বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি। বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণে আমাদের এ ধরণের অভিযান চলবে।

RELATED ARTICLES

Most Popular