বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ৩০, ২০২৬
Homeটাঙ্গাইল জেলাটাঙ্গাইলে শাহীন শিক্ষা পরিবারের শিক্ষার্থীদের উপর মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন

টাঙ্গাইলে শাহীন শিক্ষা পরিবারের শিক্ষার্থীদের উপর মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন

নিউজ টাঙ্গাইলঃ তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে টাঙ্গাইলের শাহীন শিক্ষা পরিবারের আবাসিক শিক্ষার্থীদের উপরে মধ্যযুগীয় কায়দায় শিক্ষকদের নির্যাতন চালানোর অভিযোগ উঠেছে। গত (৫মে) শুক্রবার বিকেলে এ ঘটনাটি ঘটে।

নির্যাতনের শিকার হয়ে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ অবস্থায় টাঙ্গাইল শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

আহত শিক্ষার্থীরা জানান, শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে নবম শ্রেণীর কয়েকজন ছেলে শিক্ষার্থীর সাথে দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের বাকবিতর্ক ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়টির আবাসিক ভবন পরিচালক বাবুল হোসেনের কাছে অভিযোগ করে।

এ অভিযোগের ভিত্তিতে বিদ্যালয়ের আবাসিক ভবন পরিচালক দশম শ্রেণীর ১০/১২জন শিক্ষার্থীকে ভবনের একটি কক্ষে ডেকে নিয়ে যায়। ডেকে নিয়ে কক্ষ বন্ধ করে মধ্যযুগীয় কায়দায় লাঠি দিয়ে মারধর করে।

এই মারধরের প্রতিবাদ করায় বগুড়া জেলার তালোরা এলাকার আলহাজ্ব সামাদ মিয়ার ছেলে ও প্রতিষ্ঠানের দশম শ্রেণীর ছাত্র রিজভীর উপর আরো ক্ষিপ্ত হয়ে পৈশ্বাচিক কায়দায় লোহার রড আগুনে পুড়িয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছ্যাকা দেয়।

পরে, অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেললে অন্যান্য শিক্ষার্থীরা রিজভীসহ আহত ৫ শিক্ষার্থীকে টাঙ্গাইল শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করে।
এ নির্যাতনে আহত বাকি ৫/৬জন শিক্ষার্থী আবাসিক ভবন থেকে পালিয়ে গেছে বলেও জানায় অভিযোগকারী শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীরা আরো অভিযোগ করে জানায়, প্রতিনিয়তই এ বর্বরোচিত ঘটনা ঘটিয়ে আসছেন অভিযুক্ত এই শিক্ষক। এ ঘটনায় জড়িত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবীও তুলেছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

চিকিৎসাধীন শিক্ষার্থী রিজভী আহমেদ, জনি আহমেদ, ইরান হোসেন ও নাফি শেখকে শাহীন শিক্ষা পরিবারের পক্ষ থেকে শনিবার দুপুরে টাঙ্গাইল শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল থেকে বিদ্যালয় ভবনে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

পৈশ্বাচিক ও বর্বরোচিত এই নির্যাতনের বিষয়টি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানিয়েছেন অভিভাবকরা।

এ ঘটনার বিষয়ে টাঙ্গাইল শাহীন স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ আসলাম হোসেন নির্যাতনের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তবে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

 

নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।

RELATED ARTICLES

Most Popular