শনিবার, জুন ১৫, ২০২৪
Homeটাঙ্গাইল জেলাটাঙ্গাইলে হামিদার সেই ‘মানিকের’ ওজন এখন ৫২ মণ, দাম ১৫ লাখ টাকা

টাঙ্গাইলে হামিদার সেই ‘মানিকের’ ওজন এখন ৫২ মণ, দাম ১৫ লাখ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক: গত বছরের চেয়ে এবার মানিকের ওজন বেড়িছে ৭ মণ। হামিদার দাবি, তিনি আগের দামেই গরুটি বিক্রি করতে চান টাঙ্গাইলের কলেজ ছাত্রী হামিদা আক্তারের পালন করা সেই ফ্রিজিয়ান জাতের ষাঁড় ‘মানিক’ এবারের ঈদ উল আজহায় বিক্রির জন্য ক্রেতা খোঁজা হচ্ছে। গত বছর ৪৫ মণের মানিকের ওজন এবার ৫২ মণ। দাম চাওয়া হচ্ছে ১৫ লাখ টাকা।

এদিকে, এ বছরও বিশালাকৃতির এই গরু বিক্রি করা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন হামিদা। যদিও প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জেলার সব্বোর্চ বড় গরুটি বিক্রি করতে অনলাইনসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ক্রেতার খোঁজ করা হচ্ছে।

হামিদা আক্তার টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার লাউহাটি ইউনিয়নের ভেঙ্গুলিয়া গ্রামের কৃষক আব্দুল হামিদের মেয়ে। গত কোরবানির ঈদে ষাঁড়টি বিক্রির পরিকল্পনা থাকলেও সঠিক ক্রেতা না মেলায় পশুটি বিক্রি করতে পারেননি তিনি। সেইবার ঈদে ফ্রিজিয়ান জাতের এই ষাঁড়টির দাম হাঁকা হয়েছিল ১৫ লাখ টাকা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হামিদারা তিন বোন। ভাই না থাকায় সংসারের হাল ধরতে হয়েছে হামিদাকেই। টাঙ্গাইলের করটিয়া সা’দত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাস বিভাগ থেকে অনার্স করেছেন তিনি। পড়ালেখার পাশাপাশি বাড়িতেই একটি মুদি দোকান করেছেন। সেখানে ফ্লেক্সিলোড, বিকাশ ও দর্জির কাজও করেন তিনি।

হামিদা নিজ উপার্জনের বড় অংশই ব্যয় করেছেন ফ্রিজিয়ান জাতের ষাড় মানিকের পেছনে। তার খামারে কয়েকটি গরু রয়েছে। এরমধ্যে গত বছর কোরবানির ঈদে ‘মানিক’ ও ‘রতন’ নামের দুটি ফ্রিজিয়ান জাতের ষাড় বিক্রির জন্য প্রস্তুত করেছিলেন। সে বছর কাঙ্খিত দাম না পেলেও আর্থিক সংকটের কারণে ‘রতন’ নামের ষাড়টিকে বিক্রি করেন। এরপর পরম যত্ন নিয়ে মানিককে লালনপালন করছেন।

তবে, এ বছরও বিশালাকৃতির গরুটি বিক্রি করা নিয়ে দুশ্চিতায় পড়েছেন হামিদা। পূর্বের হাটের তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণে এ বছর হামিদা বাড়িতে থেকেই গরুটি বিক্রি করার আশা করছেন।

হামিদা বলেন, এখন মানিকের ওজন প্রায় ২ হাজার ৮০ কেজি। দাম চাচ্ছি ১৫ লাখ টাকা। নারী উদ্যোক্তা হিসেবে প্রাণী সম্পদ অফিস থেকে হামিদাকে প্রথম পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল।

এদিকে, দানব আকৃতির ষাঁড়টি দেখতে প্রতিদিন বিভিন্ন জায়গা থেকে ছুটে আসছেন লোকজন। তারাও এই নারী উদ্যোক্তার পাশে দাঁড়াতে বিত্তবানদের সহযোগীতার হাত বাড়ি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

হামিদা বলেন, গত বছরের হাটের যে অভিজ্ঞতা হয়েছে তাতে এ বছর হাটে গরু উঠানোর সার্মথ্য নেই। বিশালাকৃতির গরুটি লালন-পালন করতে সব শেষ করেছি। এ বছর মানিককে বিক্রি করতেই হবে। তাকে রাখার জায়গা নেই। এখন পর্যন্ত গরুটির দাম হয়নি। যদি কেউ দয়া করে গরুটি আমার বাড়ি থেকে কিনে নেন তাহলে নিজে গিয়ে মানিককে তার (ক্রেতার) বাড়িতে রেখে আসবো। গরুটি বিক্রি করতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

হামিদা আরো বলেন, গত বছর কোরবানির ঈদে মানিককে ঢাকার গাবতলী হাটে তোলা হয়েছিল। গরুটি বিক্রি করতে কয়েকদিন হাটে থেকেছি। কিন্তু দাম পায়নি। পানির দামেতো আর গরু বিক্রি করা যাবে না।

জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা রানা মিয়া জানান, বৃহৎ আকৃতির গরু সবার কেনার সামর্থ্য থাকে না। তাই আমরাও হামিদার ষাঁড়টি বিক্রি করতে অনলাইনে চেষ্টা করছি। পাশাপাশি অন্য ক্রেতাদেরও খোঁজ চলছে। জেলায় বড় গরুর চাহিদা নেই। এছাড়া গত বছরও গরুটি বিক্রি করার চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি।

নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।

- Advertisement -
- Advertisement -