শুক্রবার, জুন ১২, ২০২৬
Homeদেশের খবরদুই সতিনের দ্বন্দ্বে প্রাণ গেল স্বামীর

দুই সতিনের দ্বন্দ্বে প্রাণ গেল স্বামীর

  • অনলাইন থেকে: রংপুরের পীরগঞ্জে দুই সতিনের দ্বন্দ্বের জেরে প্রাণ গেল কৃষক স্বামী দেলদার হোসেনের। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নিহতের প্রথম স্ত্রী আনোয়ারা বেগম ও তার ছেলে আনিছার রহমান বাটুলকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করে পুলিশে দিয়েছেন এলাকাবাসী।

সোমবার (০৬ জুন) দুপুরে উপজেলার টুকুরিয়া ইউনিয়নের টুকুরিয়া বাজারে ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

এলাকাবাসী ও নিহতের ছোট স্ত্রী রেখা বেগম জানান, দেলদার হোসেনের বাড়ি পার্শ্ববর্তী মিঠাপুকুর উপজেলার দুর্গামতি গ্রামে। প্রথম স্ত্রী আনোয়ারা বেগম অসুস্থ হওয়ায় ২০-২৫ বছর আগে টুকুরিয়া গ্রামের রেখা বেগমকে বিয়ে করেন দেলদার। বিয়ের পর থেকেই দুই সতিন ও সন্তানদের নিয়ে তাদের দিনকাল ভালোই কাটছিল। রেখার ঘরে ১ ছেলে ও ১ মেয়ে জন্ম নেওয়ার পর থেকে বড় সতিন ও তার ছেলেদের সঙ্গে সম্পর্ক ক্রমেই খারাপ হতে থাকে তার।

একপর্যায়ে স্বামী দেলদারকে ফুঁসলিয়ে কৌশলে জায়গা জমি প্রথম স্ত্রী আনোয়ারা বেগম ও তার সন্তানরা লিখে নেন। পরে দেলদার হোসেন নিজেই ছোট স্ত্রী রেখা বেগমকে অবশিষ্ট ১২ শতাংশ জমি লিখে দিলে দুই সতিনের বিরোধ আরও বেড়ে যায়।

গত রমজান মাসে রেখার বসতবাড়ি ভেঙ্গে দেওয়াসহ নলকূপটিও খুলে নেয় প্রথম স্ত্রী ও তার সন্তানরা। এরপর প্রাণভয়ে দেলদার ছোট স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে তার বাবার বাড়ি পীরগঞ্জ উপজেলার টুকুরিয়া গ্রামে পালিয়ে আসেন। রমজান মাসের পর থেকে দেলদার হোসেন তার ছোট স্ত্রী রেখার বাড়িতেই বসবাস করছিলেন।

হঠাৎ করেই সোমবার দুপুরে দেলদারের প্রথম স্ত্রী আনোয়ারা বেগম, তার ছেলে আনিছার রহমান বাটুলসহ পার্শ্ববর্তী মিঠাপুকুর উপজেলার দুর্গামতি গ্রামের ৫-৬ জনকে সঙ্গে নিয়ে টুকুরিয়ায় এসে দেলদারকে তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় টুকুরিয়া বাজারে রেখার লোকজন বাধা দেয়। এ সময় দুই স্ত্রীর লোকজনের হাতাহাতি শুরু হয়।

একপর্যায়ে দেলদারকে আঘাত করা হলে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। অবস্থা বেগতিক দেখে প্রথম স্ত্রী আনোয়ারার সঙ্গে আসা লোকজন পালিয়ে গেলেও এলাকাবাসী আনোয়ারা বেগম ও তার ছেলেকে আটক করে রাখেন।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার, রংপুর (ডি-সার্কেল) কামরুজ্জামান, পীরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল আউয়াল, টুকুরিয়া ইউপির চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মণ্ডল ঘটনাস্থলে পৌঁছেন এবং আনোয়ারা বেগম ও তার বড় ছেলে আনিছার রহমান বাটুলকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন।

পীরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল আউয়াল জানান, মামলার প্রস্তুতি চলছে। নিহতের প্রথম স্ত্রী ও তার এক ছেলেকে আটক করেছি। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।

RELATED ARTICLES

Most Popular