নিউজ টাঙ্গাইল ডেস্ক; উত্তেজনাপূর্ন সেমিফাইনাল ম্যাচ ২টিতে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাব রাশেদের ব্যাটিং এবং কালিহাতী প্রেসক্লাবের জিয়নের চমৎকার পারফরমেন্সে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাব ও কালিহাতী প্রেসক্লাব ফাইনালে উঠেছে। আগামী ১৫ মার্চ রোববার দুপুরে ফাইনাল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে। গতকাল ১৩ মার্চ শুক্রবার সকালে ও দুপুরে টাঙ্গাইল স্টেডিয়ামে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের আয়োজনে ওয়ালটনের সহযোগিতায় সেমিফাইনাল ম্যাচ ২টি অনুষ্ঠিত হয়। সবচেয়ে আর্কষণীয় ২য় সেমিফাইনাল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয় দুপুরের পর। এ ম্যাচে টস জয়লাভ করে ঘাটাইল প্রেসক্লাবের বিরুদ্ধে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাব ব্যাটিং করার সিন্ধান্ত নেয়।
ব্যাটিংয়ে উদ্বোধন করেন অধিনায়ক ইফতেখারুল অনুপম ও আক্রমনাতœক ব্যাটসম্যান সুমন কুমার রায়। উদ্বোধনী জুটিতে প্রথম ৫ ওভারে মাত্র ১৫ রান আসে। চাপের মুখে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের অধিনায়ক ইফতেখারুল অনুপম ঘাটাইল প্রেসক্লাবের পেস বোলার সাদ্দামের বির্তকিত ফুলটস বলে মনির হাতে ক্যাচ আউট হয়ে ফিরে আসে। এরপর ওয়ানডাউনে ব্যাটিং করতে নামেন ধারাবাহিক ভাবে ভালো খেলা ইনফর্ম খেলোয়াড় রাশেদ খান। আরেক উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান সুমন কুমার রায় আউট হলে শামীম আল মামুনের সাথে রাশেদ খানের ৩৮ রানের জুটি গড়ে উঠে। এরপর আবু সাঈদ, এম কবির, মাসুদ রানা, গোলাম কিবরিয়া বড়মনি, মালেক আদনান ও নাসির উদ্দিনকে সাথে রাশেদ খান অপরাজিত ৫৩ রানের ইনিংস খেলেন। যেখানে তার ইনিংসে ছিল ২টি ছয় ও ৩টি চারের মার। টাঙ্গাইলের প্রেসক্লাবের প্রথম ১০ ওভারে ২উইকেট হারিয়ে ৩৬ রান ছিল।
তখন চাপের মুখে ব্যাট হাতে সম্মিলিত ভাবে সবার অবদানে শেষ ৭ ওভারে রান আসে ৮৫ রান। এর মধ্যে ঘাটাইল অধিনায়ক আতিকুরের বোলিংয়ের উপর চড়াও হয়ে খেলে তারই ৪ ওভার থেকে রান সংগ্রহ করে ৪৩ রান। টাঙ্গাইল প্রেসক্লাব ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১২১ রান করে। দলের পক্ষে ইফতেখারুল অনুপম ৭, সুমন কুমার রায় ৭, রাশেদ খান অপরাজিত ৫৩, শামীম আল মামুন ১৩, আবু সাঈদ ৯, এম কবির ৬, মাসুদ রান ৬, গোলাম কিবরিয়া বড়মনি ৩ রান করে। বোলিংয়ে ঘাটাইল প্রেসক্লাবের পক্ষে মনিরুজ্জামান মনি ২২ রানে ২টি উইকেট দখল করে। এছাড়া মিলন ও সাদ্দাম ১টি করে উইকেট দখল করে। জবাবে ঘাটাইল প্রেসক্লাব ১২২ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিং করতে নেমে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সুনিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে কখনও মাথা উচুঁ করতে পারেনি। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ৯৬ রান করতে সমর্থ হয়। দলের পক্ষে কবির হোসেন সর্বোচ্চ ১৭ রান করে।
এছাড়া সাদ্দাম হোসেন ১৬, অধিনায়ক আতিকুর(অবসর) ১০,মনিরুজ্জামান মনি ৯, মিলন ৭, শামীম আল মামুন ৮ ও রায়হান অপরাজিত ১০ রান করে। বোলিংয়ে বিজয়ী টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের পক্ষে সুমন কুমার রায় ১৪ রানে ২টি উইকেট দখল করে। এছাড়া মাসুদ রানা, টগর ও রাশেদ খান ১টি করে ্উইকেট দখল করে। বিজয়ী দলের রাশেদ খান ব্যাটিং অপরাজিত ৫৩ ও ১টি উইকেট দখল করায় ম্যান অব দ্যা ম্যাচ নির্বাচিত হয়। এ ম্যাচে যারা খেলেন তারা হলেনঃ-টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবঃ ইফতেখারুল অনুপম(অধিনায়ক),নাছির উদ্দিন, গোলাম কিবরিয়া বড়মনি, মালেক আদনান, আরিফুর রহমান টগর, সুমন কুমার রায়, শামীম আল মামুন, আবু সাঈদ, এম কবির, রাশেদ খান, মাসুদ রানা, মোজাম্মেল হক, মোস্তাক হোসেন ও মাসুদুল আলম। ঘাটাইল প্রেসক্লাবঃ আতিকুর (অধিনায়ক), মাসুম মিয়া, আব্দুল লতিফ, রায়হান, শামীম আল মামুন, কায়সার কবির মিলন, আল আমিন, মনিরুজ্জামান মনি, সাদ্দাম হোসেন, কবীর হোসেন, রেজাউল কবির লিটন, নুরুজ্জামান মিঞা, এবি আতিকুর রহমান ও মনোয়ার হোসেন সোহেল। সকালে দিনের প্রথম সেমিফাইনালে কালিহাতী প্রেসক্লাব ৬ উইকেটে দেলদুয়ার প্রেসক্লাবকে পরাজিত করে।
টস জয়লাভ করে সামি মোহাম্মদ নির্ভর দেলদুয়ার প্রেসক্লাব প্রথমে ব্যাটিং করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১২৫ রান করে। দলের পক্ষে সামি মোহাম্মদ সর্বোচ্চ ৬০ রান করে। এছাড়া নাছির ১৬, ফরিদ ৮, রাশেদ ১, সুয়াইব ১, আশরাফ ৪ ও আসাদ ১ রান করে। বোলিংয়ে বিজয়ী কালিহাতী প্রেসক্লাবের হুমায়ন ১৫ রানে ২টি উইকেট দখল করে। এছাড়া জিয়ন, আনিসুর রহমান শেলি ও কাজল আর্য ১টি করে উইকেট দখল করে। জবাবে কালিহাতী প্রেসক্লাব শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থায় ১৯.৩ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১২৬ রান করে ফাইনালে উঠে। দলের পক্ষে জিয়ন সর্বোচ্চ অপরাজিত ৪৫ করে। এছাড়া দাস পবিত্র ১১, হুমায়ুন ১৩, সুমন ঘোষ ১০, সাইদুর রহমান সমীর ৬ রান করে। বোলিংয়ে বিজিত দেলদুয়ার প্রেসক্লাবের ফরিদ ২১ রানে ৩টি উইকেট দখল করে। আর অপর উইকেটটি দখল করে সুয়াইব ১৫ রানের বিনিময়ে। বিজয়ী কালিহাতী প্রেসক্লাবের জিয়ন ম্যান অব দ্যা ম্যাচ নির্বাচিত হয়। এ ম্যাচে যারা অংশগ্রহন করেন। কালিহাতী প্রেসক্লাবঃ সুমন ঘোষ(অধিনায়ক), দাস পবিত্র, কাজল আর্য, মেহেদী হাসান, জিয়ন, হুমায়ুন, সাইদুর রহমান সমীর, আনিসুর রহমান শেলি, জাহাঙ্গীর আলম, লতিফ, শুভ, রবিন, আবু সাঈদ ও সোহেল। দেলদুয়ার প্রেসক্লাবঃ নুরুল ইসলাম, অপু তালুকদার শিপলু, শরীফুল, সামি মোহাম্মদ, তাহের, আশরাফ, সোয়াইব, মুরাদ, নাছির, রাশেদ সরকার, আসাদুজ্জামান, গোপেশ সরকার, গফুর সরকার, আরিফুল ও পারভেজ। খেলা ২টিতে আম্পায়ার ছিলেন তমাল বিহারী দাস ও আলী আজম। স্কোরারঃ মোজাম্মেল হক ও সিরাজউদ্দৌলা
