মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৪
Homeটাঙ্গাইল জেলা‘বিষাক্ত’ আনারস দখল করে নিয়েছে টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী মধুপুরের হাট

‘বিষাক্ত’ আনারস দখল করে নিয়েছে টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী মধুপুরের হাট

নিউজ টাঙ্গাইল ডেস্ক: ‘বিষাক্ত’ আনারস দখল করে নিয়েছে টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী মধুপুরের পঁচিশমাইল জলছত্র আনারসের হাট।এখানকার আনারসের দেশজোড়া খ্যাতি থাকলেও কেমিক্যালের ব্যবহারে দিনদিন এ হাট থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

তাদের অভিযোগ, বর্তমানে সাধারণ মানুষ বিষমুক্ত ফল খেতে চান। তারপরও আনারস চাষিরা বেশি লাভের আশায় ফলে বিষাক্ত কেমিক্যাল ব্যবহার করছেন। সাধারণত রোপণের ১৫ থেকে ১৬ মাস পর আনারস সংগ্রহ করা যায়। স্বাভাবিকভাবে আনারস কিছুটা বড় হওয়ার ১০-১৫ দিনের মধ্যে পরিপূণ আকৃতি পায় এবং পাকে। কিন্তু এক শ্রেণির অসাধু চাষি বেশি লাভের আশায় আনারস একটু বড় হলেই তাতে ইথোফন বা রাইপেন নামক রাসায়নিক স্প্রে করে। এতে মাত্র তিন থেকে চারদিনেই আনারস পরিপূণ আকৃতি পেয়ে পেকে যায়। শুধু কি ইথোফন/রাইপেন? স্থানীয় অনেকে বলছেন, রাইপেন/ইথোফনের সঙ্গে আনারসে স্প্রে করা হয় পটাশ, ফরমালিন, শ্যাম্পু, সিঁদুর, স্প্রিরিটসহ বিভিন্ন রাসায়নিক। এতে দ্রুত পাকার পাশাপাশি দেখতেও হয় আকর্ষণীয়। স্বাভাবিকভাবে পাকা ফলের তুলনায় এসব ‘বিষ’যুক্ত ফল পচে দেরিতে। এতে চাষি আর্থিকভাবে লাভবান হলেও ইথোফন ও অন্যান্য রাসায়নিকের বিরূপ প্রভাব পড়ে মানবদেহে। তাই জনগণ এখন কোনো ধরনের রাসায়নিকযুক্ত ফল খেতে চান না। ফলে ‘বিষ’যুক্ত এসব আনারস কিনে বাজারে বিক্রি করতে অনেকটাই হিমসিম খেতে হচ্ছে পাইকারদের। লাভ তো দূরের কথা মূলধন ওঠানোই কঠিন হয়ে পড়ছে।

মধপুর বনাঞ্চলের আলোকদিয়া, আউসনারা, দিগর বাইদ, অরণখোলা, জলছত্র, মোটের বাজার, গারো বাজার, রসুলপুর, পঁচিশমাইল, ইদিলপুরসহ বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, আনারসের জমিতে কর্মব্যস্ত দিন কাটাচ্ছেন কৃষকরা। সূর্য ওঠার আগেই জমি থেকে আনারস কেটে ঝুড়ি ভর্তি করে ভ্যান, রিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহনে করে বাজারে নিয়ে আসছেন বিক্রির জন্য। মধুপুরের আনারস স্বাদে-গন্ধে অতুলনীয় হওয়ায় ঢাকা, কুমিল্লা, পাবনা, রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আনারস কেনার জন্য আসা ব্যাপারীরা ভিড় করেছেন পঁচিশমাইল জলছত্র আনারসের বাজারে। চাষিরা আনারস বিক্রি করে সমস্ত খরচ বাদ দিয়ে লাভবান হচ্ছেন। কিন্তু পাইকাররা আনারস কিনে অনেক ক্ষেত্রেই পড়ছেন বিপাকে। জনমনে রাসায়নিক আতঙ্ক থাকায় সেই আনারস বিক্রি করতে হিমসিম খেতে হচ্ছে তাদের।

মহিষমাড়া গ্রামের খন্দকার মোতালেব হোসেন জানান, ‘বিষ’মুক্ত আনারস আকারে অনেক ছোট। আর এর রঙ দেখে ক্রেতারা কিনতে চায় না। এ আনারস বাগান থেকে কেটে দুই-তিনদিনের বেশি রাখা যায় না, পচে যায়। কিন্তু ফরমালিনযুক্ত আনারস সাত/আটদিন রাখা যায়। আর অন্যান্য রাসায়নিক দিলে আনারসের আকারও অনেক বড় হয়, আবার রং গাঢ় হলুদ হয়। ফলে সহজেই সাধারণ ক্রেতারা আকৃষ্ট হয়। এতে ক্রেতা বা বিক্রেতাদের কোনো অসুবিধা হয় না। লাভও অনেক বেশি। তাই বাধ্য হয়েই বেশিরভাগ চাষি আনারসে ফরমালিন ও ইথোফন স্প্রে করেন।

নাটোর থেকে আসা বেপারী আহসান হাবিব জানান, তিনি প্রতিবছর মধুপুর আসেন আনারস কিনতে। এবারও এসেছেন। কিন্তু আগের তুলনায় এবার বাজারে আনারসের চাহিদা অনেক কম। এর কারণ ব্যখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ এখন অনেক সচেতন। তারা এখন আর ‘বিষ’যুক্ত কোনো ফলই খেতে চায় না। রাসায়নিকযুক্ত একটি বড় আনারস ১২ থেকে ১৫ টাকায় বিক্রি করতে পারছেন কৃষকরা। রাসায়নিকমুক্ত আনারস আকারে ছোট এবং রংও তেমন ভালো না হলেও খেতে খুব সুস্বাদু। সাধরণ মানুষ আকারে ছোট ও দেখতে ভালো না হওয়ায় এগুলো কিনতে চায় না। দেখতে ভালো না হওয়ায় দামও খুব কম, প্রতিটি ‘বিষ’মুক্ত আনারস চার থেকে আট টাকায় বিক্রি করেন কৃষক। তাই বাধ্য হয়েই চাষিরা ‘বিষ’যুক্ত আনারসই বিক্রি বা চাষ করছেন।

মধুপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুক্কাদির আজিজ জানান, আনারসে মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক প্রয়োগ বন্ধে ব্যাপক প্রচারণা এবং কৃষি সমাবেশ করা হয়েছে, হচ্ছে। এ ব্যাপারে কেউ অভিযোগ করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।

- Advertisement -
- Advertisement -