গত সোমবার রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করেই মানুষ ভোট দিতে এসেছে । সোমবার (৩০ জুলাই) সকাল ৮টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে তা চলেছে বিকাল ৪টা পর্যন্ত।
ভোটগ্রহণ শুরুর অনেক আগে থেকেই লোকজন আসতে থাকে ভোটকেন্দ্রে। তাদের লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট শুরুর জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।
উন্নয়নের আশায় রাসিক নির্বাচনে নগরবাসী ‘নৌকা’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করা আওয়ামী লীগের মেয়রপ্রার্থী এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনকে বিপুল ভোটে জয়ী করেছেন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৬৫ হাজার ৯৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের বিএনপি প্রার্থী মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল পেয়েছেন ৭৭ হাজার ৭০০ ভোট।
নির্বাচনের পূর্বে বিএনপির মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ও তার সমর্থকরা ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করার জন্য নানা ধরণের গুজব আর অপপ্রচার ছড়িয়ে দিয়েছিল । তবে বিএনপির এ পরিকল্পনা রাসিকবাসী ভোটের মাধ্যমে রুখে দিয়েছে।
হার নিশ্চিত জেনে বুলবুল শেষ মুহুর্তে এসে গুজবকেই হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চেয়েছিল। প্রার্থীকে গুলি, তার ভাইকে গুলি ও কর্মীদের গ্রেপ্তার এসব গুজব ছড়িয়ে জনসমর্থন আদায়ের চেষ্টা করেছিলেন বুলবুল।
নির্বাচনী প্রচারনার শুরু থেকেই বুলবুলের প্রচার সেল থেকে এ ধরনের গুজব ছড়ানো হয়েছিল। প্রচার প্রচারনায় বস্তিবাসীর মাঝে লিটনের বিরুদ্ধে তাদের উচ্ছেদের গুজব ছড়িয়ে দেয়া হয়। কিন্তু বাস্তবে, লিটন মেয়র নির্বাচিত হন বা না হন বস্তিবাসীদের উচ্ছেদের কোনো কার্যক্রম শুরু হলে তা সবার আগে প্রতিহত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন লিটন।
ভোট কেন্দ্র দখল, অতিরিক্ত ব্যালট, বিএনপির পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়া, ভোট কারচুপি সহ নানা ধরণের গুজব ছড়িয়ে দেয় বুলবুল ও তার কর্মীরা। নির্বাচনের মাঠ ঘুরে এসব অভিযোগের বাস্তবিক সত্যতা পায়নি নগরবাসী ও নির্বাচনী দায়িত্ব পালনকারী সংবাদকর্মীরা।
নগরবাসী এমন গুজবের কারণেই বুলবুলের উপর থেকে সমর্থন সরিয়ে নেয়। তাই লিটনকে ভোট দিয়ে মেয়র নির্বাচিত করে বুলবুলের অপপ্রচারের উপযুক্ত জাবাব দিয়েছে রসিকবাসী।
