দেলদুয়ার উপজেলার আটিয়া ইউনিয়নের গজীয়াবাড়ী, গড়াশিন মুন্সিপাড়া হয়ে নাল্লাপাড়ার ওপর দিয়ে এলাংজানী নদীটি প্রবাহিত। নদীতে বাঁধ না থাকায় ইতোমধ্যে গড়াসিন হতে নাল্লাপাড়া যাবার ২ কিলোমিটার রাস্তাটির মাত্র কয়েক ফুট রাস্তা বাদে বাকি অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এখানে দ্রুত বাঁধ নির্মাণ করা না হলে পাঁচটি গ্রামের শত শত বসত বাড়ি, চাষাবাদের জমি, মসজিদ, মাদ্রাসা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। ১০টি গ্রামের ২০থেকে ২৫ হাজার গ্রামবাসীর নাল্লাপাড়া বাজার, স্কুল ও কলেজ, পোস্ট অফিস এবং ব্যাংকে যাতায়াত বন্ধ হয়ে যাবে।
গড়াসিন নাল্লাপাড়া রাস্তাটি এলাংজানী নদীগর্ভে সম্পূর্ণ বিলীন হলে নাল্লা পাড়ার সাথে গড়াসিন, চালাটিয়া, গজিয়াবাড়ী, নান্দুরিয়া, চর পাড়া, লালহারা, মুশুরিয়া, কাঠালিয়া, গয়ালিয়া এই ১০টি গ্রামের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। ফলে প্রায় বিশ হাজার লোকের যাতায়াতের সহজ রাস্তা বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে এই এলাকায় বসবাসরত গ্রামবাসী ও ছাত্র-ছাত্রীদের প্রায় ১০ কিলোমিটার রাস্তা ঘুরে এলাসিন হয়ে নাল্লা পাড়ায় যাতায়াত করতে হবে। এই এলাকার একমাত্র বাজার, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বেলায়েত হোসেন বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয় ও আবুল হোসেন কলেজ, জনতা ব্যাংক এবং পোস্ট অফিস নাল্লা পাড়ায় অবস্থিত।
রাস্তা নদীগর্ভে বিলীন হবার কারণে বর্তমানে এই সব স্কুল কলেজের ছাত্রছাত্রীসহ এই বাজারে যাবার জন্য জনসাধারণ বিভিন্ন জনের বাসার ভেতর দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। প্রতিনিয়ত বিভিন্ন বাড়ির লোকজনের সাথে নানাবিধ সমস্যা হচ্ছে এসব পথচারীদের। রাতের বেলা যাতায়াত প্রায় বন্ধ।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. জলিল মিঞা এলাংজানি নদী ভাঙন প্রসঙ্গে বলেন, গড়াশীন মুন্সি পাড়া দিয়ে প্রবাহিত নদীতে বাঁধ না থাকায় নদী সংলগ্ন মসজিদ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। হুমকির মুখে রয়েছে বিলীন হওয়া মসজিদ সংলগ্ন মাদ্রাসা, রাস্তাঘাট, প্রাথমিক বিদ্যালয়, আবাদি জমিসহ বিন্দুরিয়া চরপাড়া, গজিয়াবাড়ী গড়াসিনসহ ৫টি গ্রামের শতাধিক বসতভিটা। দ্রুত বাঁধ নির্মাণ না হলে গড়াশিন ও গজিয়াবাড়ীতে অবস্থিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ২ শতাধিক ছাত্রছাত্রীর লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাবে।
স্থানীয় বেলায়েত হোসেন বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয় এর নবম শ্রেণির ছাত্র মো. সাজাদ্দুল আলম আকুতি জানিয়ে বলে, নদীতে ভাঙনের কারণে আমরা বাড়ি থেকে স্কুলে আসতে পারি না। আমাদের অনেক অসুবিধা হয়। সঠিক সময়ে পরীক্ষা হলে যেতে পারি না। আমরা উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হতে চাই। তাই সরকারের কাছে দাবি দ্রুত রাস্তাটি মেরামত করা হোক।
আটিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম মল্লিক জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। এখানে খুব কঠিন অবস্থা। এ বিষয়ে একটি রেজুলেশনও নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে একটি মসজিদ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহজাহান সিরাজ বলেন, এই এলাকা আমি পরিদর্শন করেছিলাম এবং একটি প্রস্তাবনা দাখিল করেছিলাম। কিন্তু কোন রকম বরাদ্দ না পাওয়ায় এই জায়গায় আমরা কোন রকম কাজ করতে পারিনি। আমাদের আপদকালীন একটা কাজ করার সংস্থান আছে, বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে আমরা এখানে কাজ করব।
টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক খান মো. নূরুল আমিন বলেন, দেলদুয়ার উপজেলার গড়াসিন গ্রামে এলাংজানি নদীর ভাঙনে আমাদের রাস্তাটি ভেঙে গিয়েছে। সেখানে দুই একটি মসজিদ মাদ্রাসা নদীগর্ভে চলে গিয়েছে। আরও কয়েকটি গ্রাম হুমকির সম্মুখীন হয়েছে বলে আমি জানতে পেরেছি। এখানে একটি প্রতিরক্ষামূলক বাঁধ নির্মাণে,আমরা পানি উন্নয়ন বোর্ডে কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করব যাতে অনতিবিলম্বে এখানে একটি বাঁধ নির্মাণ করে হাজার হাজার মানুষের ঘরবাড়ি, সহায়-সম্পদ রক্ষা করার ব্যবস্থা করে।
