শুক্রবার, জুলাই ১৭, ২০২৬
Homeঅপরাধসখীপুরের কাকড়াজান ইউনিয়ন চুরি দিকেও ১ নম্বর

সখীপুরের কাকড়াজান ইউনিয়ন চুরি দিকেও ১ নম্বর

নিজস্ব প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের সখীপুরে চুরির ঘটনা দিন দিনই বেড়ে চলেছে। পবিত্র ঈদ-উল-আযহাকে সামনে রেখে প্রতিনিয়তই কোথাও না কোথাও চুরির ঘটনা ঘটছে । বিশেষ করে উপজেলার কাকড়াজান ইউনিয়নে প্রায় প্রতি রাতেই ঘটছে চুরি ঘটনা। যে কারনে ১নং কাকড়াজান ইউনিয়ন চুরির হওয়ার দিকেও উপজেলার মধ্যে ১ নম্বর বলে ইউনিয়নাবাসীর ধারণা। এলাকায় চুরি ঠেকাতে পুলিশের তেমন কোনো ভ‚মিকা নেই এমনটাই দাবী ভ‚ক্তভোগীদের। অবিলম্ভে স্থানীয় প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপে এ ইউনিয়নবাসী চুরিরোধে কার্যকরী প্রদক্ষেপ গ্রহনের দাবি জানান।
জানা যায়, গত এক বছরে এ ইউনিয়নে ছোট বড় প্রায় সহস্রাধিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে গরু, ছাগল, মোটরসাইকেল, স্বর্ণালংকার, মোবাইল, নগদ টাকাসহ অন্যান্য সামগ্রী রয়েছে। উপজেলায় এ ইউনিয়নের মত অন্য কোন ইউনিয়নের এতসংখ্যক চুরির ঘটনা ঘটেনি বলেও জানা গেছে। চুরি আতঙ্কে এ ইউনিয়নের বেশির ভাগ মানুষের রাত কাটে নির্ঘুম। গো-খামারীরা ভুগছেন নিরাপত্তাহীনতায়।

গেল মঙলবার দিবাগত মধ্যরাতে ইউনিয়নের ভাতগড়া গ্রামের প্রবাসী শাহজাহান আলী, স্কুল শিক্ষক মজিবুর রহমান এবং প্রবাসী শামিমের বাড়িতে চুরি হয়। চোরেরা ওই তিন বাড়ী থেকে প্রায় ১০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ প্রায় ১ লাখ টাকা চুরি করে নিয়ে যায়। এর কয়েক দিন আগে হামিদপুর গ্রামে একই রাতে ৪ বাড়িতে চুরি হয়। অন্যদিকে ছোট হামিদপুর গ্রামের আবুল কালামের বাড়ি থেকেও ৪ টি গরু চুরি হয়। এর প্রতিটি চুরিই একই কায়দায় হয়ে থাকে। অন্যদিকে গেলো বছর গড়বাড়ি গ্রামের প্রবাসী রুহুল আমীন মিয়ার বাড়িতে বন্ধুকের গুলি ও ককটেল ফাটিয়ে পরিবারের মানুষদের জিম্মি করে প্রায় ১০ লাখ টাকার মালামাল চুরি করে নেয়। একই কাদায় খান মোড় ও পোড়াবাসা গ্রামে কয়েকটি বাড়িতে চুরি হয়।

এ ছাড়া গত ৬ মে হামিদপুর গ্রামে প্রবাসী আ.লতিফ মিয়ার বাড়িতে সিঁধ কেটে চুরির ঘটনা ঘটে। এ সময় চুরেরা প্রায় ৬ ভরি স্বর্ণ ও নগদ ৫০ হাজার টাকা লুট করে নেয়।

এ ব্যাপারে স্কুল শিক্ষক মজিবুর রহমান বলেন, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে আমার বাড়িতে চুরি হয়। প্রতিদিনি এই ইউনিয়নে কোন না কোন জায়গায় চুরি হচ্ছেই। এর একটা সুরাহা হওয়া দরকার ।

মোন্তাজনগর আবাসিক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এসএম জাকির হোসেন বলেন, এ ইউনিয়নে প্রতিনিয়তই চুরির ঘটনা ঘটছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের গুরুত্বপ‚র্ণ ভ‚মিকা জরুরী।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তারিকুল ইসলাম বিদ্যুত বলেন, এলাকায় চুরি বেড়ে গেছে। স্থানীয় নেশাখোরদের দমন করা গেলেই হয়তো চুরিরোধ করা সম্ভব হবে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা মিটিং-এ চুরিরোধে প্রয়োজনীয় প্রদক্ষেপ গ্রহনের বিষয়ে কথা হয়েছে।

সখীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ একে সাইদুল হক ভূঁইয়া বলেন, চুরি রোধে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে থানা পুলিশের নিয়মিত টহল বাড়ানো হয়েছে।

 

 

নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।

RELATED ARTICLES

Most Popular