শনিবার, এপ্রিল ১৮, ২০২৬
Homeআমাদের টাঙ্গাইলসখীপুরে ইউপি সদস্য রুহুল আমীনের বিরুদ্ধে সমিতির সদস্যদের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

সখীপুরে ইউপি সদস্য রুহুল আমীনের বিরুদ্ধে সমিতির সদস্যদের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে পাওয়ার টিলার, গাভী ও সেলাই মেশিন দেওয়ার কথা বলে অসহায় গৃহিণী এবং কৃষকদের কাছ থেকে টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। কাকড়াজান ইউনিয়নের ৫নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য স্থানীয় টেংরা মাদলা খাল পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির সভাপতি মো. রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ পাওয়া গেছে । এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে মঙ্গলবার (২৮ মার্চ) সকালে ওই সমিতির শতাধিক সদস্য ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে।

এর আগে গত ১৯ মার্চ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, টাঙ্গাইল জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী, উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী ও কাকড়াজান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ওই সমিতির ভূক্তভোগী সদস্যরা।

এ সময় টেংরা মাদলা খাল পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির কোষাধ্যক্ষ আব্দুল মান্নান শিকদার বলেন, বিদেশি সংস্থা জাইকা’র মাধ্যমে সরকারিভাবে উন্নত কৃষি যন্ত্রপাতি, সেলাই মিশিন, গাভী ও পাওয়ার টিলার পাওয়ায়ে দেওয়া কথা বলে সমিতির শতাধিক সদস্যদের কাছ থেকে সমিতির সভাপতি রুহুল আমিন মেম্বার প্রায় অর্ধ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। তিনি ওই সকল সদস্যদের গত
তিন বছর ধরে টাকা দেই দিচ্ছি বলে  পিছনে পিছনে ঘুরছেন। কিন্তু টাকা ফেরত দিচ্ছেন না। সদস্যরা অতিষ্ঠ হয়ে তার এহেন অপকর্মের বিরুদ্ধে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করছেন।

সমিতির সদস্য গড়বাড়ি গ্রামের আকলিমা আক্তার বলেন, ‘গাভী দেওয়ার কথা বলে তিন বছর আগে সুদি করে ২০ হাজার টাকা দিছি রুহুল মেম্বারের কাছে। টাকা ফেরত না পাওয়ায় আমাদের সংসারের অশান্তি সৃষ্টি হয়েছে। একই রকম অভিযোগ সমিতির সদস্য ভূয়াইদ গ্রামের ছাহেরা খাতুন, রফিকুল ইসলামসহ আরো শতাধিক নারী পুরুষের।

খোজ নিয়ে জানা যায়, কাকড়াজান ইউনিয়নের ৯টি গ্রামের ইরি,বোরো চাষের জন্য সেচ প্রকল্পের আওতায় টেংরা মাদলা নামে দুটি খাল খনন করা হয়েছে। সেই খাল খনন, কৃষি যন্ত্রপাতি ও খালের পাশ দিয়ে গাছ রোপণ করা বাবদ জাইকা প্রকল্প থেকে ৯৬ লাখ টাকা আসে। এক বছরের বেশি সময় হলেও এখনো খালের পাশে কোনো গাছ রোপণ করা হয়নি। ভেকু মালিকদের টাকাও পরিশোধ করা হয়নি। সেই টাকাও তিনিই আত্মসাৎ করেছেন। আমরা এ ঘটনার তদন্ত করে সুষ্ঠু বিচার চাই।

অভিযোগ অস্বীকার করে মো. রুহুল আমিন মেম্বার বলেন, আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা একটি মানববন্ধন করিয়েছেন । আমি কারো কাছ থেকে টাকা নেইনি । সরিজমিন খালের পাশ দিয়ে কোন গাছ লাগানো নেই তার পরো তিনি বলেন গাছ লাগানো হয়েছিল।

কাকড়াজান ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. দুলাল হোসেন বলেন, গরু, সেলাই মেশিন এবং পাওয়ার টিলার দেওয়ার কথা বলে রুহুল আমিন মেম্বার নাকি সমিতির সদস্যদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে, এ নিয়ে মেম্বারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ দেওয়ার একটি অনুলিপি পেয়েছি। এ বিষয় নিয়ে তাকে পরিষদে ডাকা হবে।

 

 

 

নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।

RELATED ARTICLES

Most Popular