এম সাইফুল ইসলাম শাফলু : টাঙ্গাইলের সখীপুরে আখতারুজ্জামান রাব্বী (১৬) নামের এক এসএসসি পরীক্ষার্থী তার চুরি হওয়া স্মার্টফোনের পেছনে ছুটতে গিয়ে গত সোমবার থেকে পাঁচদিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে। এ ব্যাপারে গত বুধবার ওই শিক্ষার্থীর বাবা বাদী হয়ে সখীপুর থানায় আসামির নাম দিয়ে একটি অপহরণ মামলা করলেও পুলিশ ওই মামলাটিকে সাধারণ ডায়রি (জিডি) হিসেবে নথিভূক্ত করেছেন।নিখোঁজ হওয়া ওই শিক্ষার্থী উপজেলার শোলাপ্রতিমা গ্রামের আবুল কালাম আজাদের ছেলে। এবার সে কাহারতা উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষার্থী।
ওই শিক্ষার্থীর পারিবার সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ জুন রোববার টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার দরানিপাড়া গ্রামের নাজিম উদ্দিনের ছেলে সাজ্জাত হোসেন (২৮) সখীপুরে মামার বাড়ি বেড়াতে আসে। নিখোঁজ আখতারুজ্জামান রাব্বী সম্পর্কে সাজ্জাতের আপন মামাতোভাই। সাজ্জাতের বিরুদ্ধে সখীপুর ও মির্জাপুর থানায় ছয়টি চুরি-ডাকাতির মামলা রয়েছে। সাজ্জাত ওইদিন দুপুরে খাবার খাওয়ার পর বেলা তিনটার দিকে হঠাৎ কাউকে কিছু না বলে চলে যায়। চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর তাঁরা জানতে পারে সাজ্জাত তাঁর মামা বাড়ি থেকে রাব্বীর স্মাটফোন ও আলমারি ভেঙে পাঁচ হাজার টাকা ও সামান্য কিছু স্বর্ণালঙ্কার চুরি করে নিয়ে গেছে। পরের দিন রাব্বী বাড়ির পাশের একটি দোকান থেকে রাব্বীর চুরি হয়ে যাওয়া ফোনে কল করলে সাজ্জাত হোসেন ফোনটি ধরেন। তাঁকে তাঁর বাড়ি মির্জাপুরে এসে ফোনটি নিয়ে যেতে বলে। পরে রাব্বী ওই চুরি হওয়া ফোনের পেছনে ছুটতে গিয়ে নিখোঁজ হন।
ওই শিক্ষার্থীর বাবা আবুল কালাম আজাদ অভিযোগ করে বলেন , আমার ছেলে হারিয়ে যায়নি। আপন ভাগনে সাজ্জাত হোসেন (২৮) একজন চিহিৃত অপরাধী। সে আমার ছেলেকে কৌশলে অপহরণ করেছে। থানায় অপহরণ মামলা করতে গেলে অভিযোগ না নিয়ে জিডি নেয়। পাঁচদিন হয়ে গেলেও আমার ছেলেকে পুলিশ আজও উদ্ধার করতে পারেনি।
এ ব্যাপারে সখীপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ছাইফুল ইসলাম বলেন, আখতারুজ্জান রাব্বীর বিষয়ে থানায় একটি হারানো ডায়েরি করা হয়েছে। বাবার করা অপরণের অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। রাব্বী নিজে থেকেই হারিয়ে গেছে। আমাদের পক্ষ থেকে তাকে এবং তার মুঠোফোনটি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
