এম সাইফুল ইসলাম শাফলু : করোনাভাইরাসের কারণে গত দু মাস ধরে সারাদেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। এতে করে চরম বিপাকে পড়েছেন সখীপুরের কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষক ও কর্মচারীরা । প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় তাদের বেতনও দিতে পারছেনা মালিকপক্ষ। এতে করে ওইসব শিক্ষক ও কর্মচারীরা লাজ লজ্জায় ত্রানের জন্য হাত না পাততে পেরে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
জানা গেছে, সখীপুরে দেড় শতাধিক কিন্ডারগার্টেন স্কুল রয়েছে। শিক্ষক ও স্টাফ মিলিয়ে এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন চার হাজারের বেশি। তাদের বেতন হয় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া টিউশন ফি থেকে। গত মার্চে করোনাভাইরাসের কারণে বন্ধ করে দেওয়া হয় এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এতে করে কোনও কিন্ডারগার্টেন কর্তৃপক্ষই শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টিউশন ফি তুলতে পারেনি। কাজেই গত মাসের বেতন পাননি বেশিরভাগ শিক্ষক।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক জানান, কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষকরা নামমাত্র বেতনে চাকরি করেন। বেতনের পাশাপাশি টিউশন করিয়ে কোনোমতে তাদের সংসার চালাতে হয়। করোনার মধ্যে টিউশনিও বন্ধ আছে। তারা পড়েছেন মহাসমস্যায়। শিক্ষকরা সম্মানের ভয়ে কোথা থেকে ত্রাণ নিতেও পারেন না।
উপজেলার যাদবপুর বেড়াবাড়ী বাজার এলাকায় অবস্থিত নবসৃষ্টি শিক্ষা একাডেমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক রিফাত শারমিন রিতা বলেন, ‘এই অবস্থাটা আমাদের জন্য দুর্বিসহ। আমরা কিন্ডারগার্টেনের আয়ের ওপর চলতাম। স্কুল বন্ধ থাকায় বিপদে পড়েছি। ৯ জন শিক্ষক ও ১ জন আয়া আছেন। তাদের কারও মার্চ মাসের বেতন হয়নি। এপ্রিল মাসও শেষ হয়ে গেলো।’
ইউরেকা শিক্ষা পরিবারের পরিচালক খান মুহম্মদ মনির বলেন- কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষকরা নামমাত্র বেতনে চাকরি করেন। বেতনের পাশাপাশি টিউশন করিয়ে কোনোমতে তাদের সংসার চালাতে হয় । গত দু মাস ধরে করোনার কারনে সরকারী নির্দেশনায় প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ রয়েছে। যার ফলে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বেতন আদায়ও বন্ধ রয়েছে। আমরা নিজেরাও চলতে পারতেছিনা শিক্ষকদের বেতনও দিতে পারতেছিনা। এতে করে কিন্ডার গার্টেনের মালিক এবং শিক্ষক-কর্মচারীরা লাজ লজ্জায় হাত না পাততে পেরে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
সখীপুর উপজেলা কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কেবিএম রুহুল আমীন বলেন, ‘উপজেলার দেড় শতাধিক কিন্ডারগার্টেনে চার হাজারের বেশি শিক্ষক ও স্টাফদের বিতন দিতে পারেননি মালিকপক্ষ। বেতন না পেয়ে তারা মানবেতর জীবন যাপন করছেন। সরকারের পক্ষ থেকে শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রণোদনার ব্যবস্থার দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে উপজেলা কিন্ডার গার্ডেন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অধ্যাপক শাহীন আল মামুন বলেন, কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষকদের বেতন হয় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া টিউশন ফি থেকে। প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকায় টিউশন ফি আদায় বন্ধ রয়েছে। যার ফলে প্রতিষ্ঠানের মালিকরাও পড়েছেন বিপাকে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহোদয়ের মাধ্যমে ওইসব শিক্ষক-কর্মচারীর প্রণোদনার ব্যবস্থা করার জোর দাবি জানান তিনি।
সখীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসমাউল হুসনা লিজা বলেন, , ‘কিন্ডারগার্টেন শিক্ষকদের জন্য সরকারিভাবে কোনও প্রণোদনা দেওয়া বিষয়ে কোন প্রজ্ঞাপন পাননি। সরকার দিলে তারা সেটা পাবেন। স্থানীয়ভাবে কোনও প্রণোদনার ব্যবস্থা করার সুযোগ নেই বলেও তিনি জানান। তবে কোনও শিক্ষকের ঘরে যদি খাবার না থাকে, তাহলে আমরা নিশ্চয় সেটা বিবেচনা করবো।’
নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।