বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ১৬, ২০২৬
Homeবিবিধস্বাস্থ্যসেবায় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক

স্বাস্থ্যসেবায় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক

স্বাস্থ্যসেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া নিয়ে বর্তমান সরকারের যে ভিশন তা কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার জন্য প্রশ্নের মুখে পড়েছে। দুর্নীতির ফলে নিম্নমানের স্বাস্থ্য যন্ত্রপাতি কেনায় সঠিক রোগ নির্ণয়ও ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা জনগণের অন্যতম মৌলিক চাহিদা। এ নিয়ে মহাদুর্নীতির চিত্র গণমাধ্যমে উঠে আসছে। স্বাস্থ্য খাতের জন্য সেটি যেমন অশনিসঙ্কেত, তেমনি রাষ্ট্রের টাকা নয়-ছয়ের চিত্রটি জনগণকে ভাবিত করছে। সোমবার দৈনিক সময়ের আলোর দুটি প্রতিবেদনে স্বাস্থ্য খাতের অর্থ হরিলুটের ঘটনা প্রকাশ পেয়েছে।

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বরাদ্দ থেকে যন্ত্রপাতি কেনার নামে ১৪ কোটি ৩৬ লাখ টাকা লুটপাট করেছে এক আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা। এরই মধ্যে প্রাথমিক তদন্তে তার দুর্নীতির প্রমাণ পেয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি। যন্ত্রপাতি কেনার নামে ১৪ কোটি ৩৬ লাখ টাকা লুটপাট করার বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার সুপারিশ করা হয়েছে। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক জানিয়েছেন, শুধু আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা নন, যন্ত্রপাতি কেনায় জড়িত ঠিকাদারসহ আরও চারজন এ দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি এ ব্যাপারে তদন্ত করেছে। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এ কমিটি। জানা যায়, সে চার বছরের বেশি সময় ধরে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মেডিকেল কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত। কয়েক দফায় পদোন্নতি হলেও তা গ্রহণ না করে আরএমওর চেয়ারে বসে আছে। উল্লেখ্য, হাসপাতালের জন্য ক্রয়কৃত একটি অ্যানেস্থেশিয়া মেশিনের জন্য ৫০ লাখ টাকা লুটপাটের প্রমাণও মিলেছে। অথচ ওই মেশিনের বাজারমূল্য ১৭ থেকে ১৮ লাখ টাকা।

এ ছাড়া ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ‘পর্দা কেলেঙ্কারি’র ঘটনায় দুদকের করা মামলায় তিন চিকিৎসককে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। ১০ কোটি টাকার পর্দা ও যন্ত্রপাতি কেনায় ব্যাপক দুর্নীতি ধরা পড়ে। বিষয়টি দেশব্যাপী আলোচিত হলে দুদক তিন দুর্নীতিবাজ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতি ও অনিয়ম হচ্ছে এটা জনগণ যেমন জানে, তেমনি সংশ্লিষ্টরা অবগত আছেন। তার জন্য যে ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন সেটা  দ্রুত গ্রহণ করতে হবে। আমরা লক্ষ করছি, বিভিন্ন হাসপাতালের কেনাকাটায় অনিয়ম প্রায়ই গণমাধ্যমে প্রকাশ পাচ্ছে। এর বাইরেও অগোচরে অনেক দুর্নীতি ও অনিয়ম হচ্ছে। সেগুলো শনাক্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। নইলে স্বাস্থ্য খাত ও সেবা হুমকির মুখে পড়বে।

আমাদের দেশে বাজেটে শিক্ষার পর স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বেশি। তাতে হাজার হাজার কোটি টাকা উন্নয়ন বরাদ্দ থাকে। তা কি সঠিক তদারকির মাধ্যমে ব্যয় হয় ? দুটো দুর্নীতির চিত্রই বলে দেয় সার্বিক উন্নয়নের জন্য বরাদ্দকৃত টাকার আসল চেহারা। দেশের মানুষ স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে চিন্তিত। ইতোমধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ, নকল ওষুধ, ভুয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ভুল চিকিৎসা, সরকারি হাসপাতালের জন্য বরাদ্দকৃত ওষুধ খোলাবাজারে বিক্রি নিয়ে গণমাধ্যমে তোলপাড় হয়েছে। তা নিয়ে আশাব্যঞ্জক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে হয় না। আমরা চাই, জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত হোক। যারাই স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতিতে জড়াবে, সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব তাদেরকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা। প্রত্যাশা করছি, কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের দুর্নীতি, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে ‘পর্দা কেলেঙ্কারি’র দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হবে। যাতে স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে এমন দুর্নীতি করতে কেউ সাহসী না হয়।

নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।

RELATED ARTICLES

Most Popular