নিউজ ডেস্ক: ভবিষ্যতে দুই কিশোরী যাতে আর যোগাযোগ করতে না পারে, সে ব্যাপারে দুই পরিবারের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে দুই কিশোরীকেই পরিবারের জিম্বায় ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এরপর পরিবারের কাছে ফিরে গেছেন প্রেমের টানে টাঙ্গাইলের বাসাইলে ছুটে আসা নোয়াখালীর কিশোরী বিলকিছ আক্তার (১৭)।
মঙ্গলবার (২২ মার্চ) টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার ফুলকি ইউনিয়ন পরিষদে দুই কিশোরীর পরিবারের অভিভাবকের সঙ্গে বৈঠক হয়।
বাসাইল উপজেলার ফুলকি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সামছুল আলম বিজু বলেন, ইউএনও আমাকে বিষয়টি সমাধানের জন্য দায়িত্ব দিয়েছিলেন। পরে দুই কিশোরীর পরিবারের অভিভাবকের সঙ্গে বৈঠকে বসা হয়। সেখানে অভিভাবকদের মুচলেকা নিয়ে তাদের পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। দুই কিশোরী যাতে আর যোগাযোগ করতে না পারে সে বিষয়ে তাদের পরিবারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিলকিসের ভাই শরিফুল ইসলাম বলেন, রোববার বিকেলে ডিম কেনার কথা বলে সে বাড়ি থেকে বের হয়। ঘটনা শুনে আমার বাবা-মা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। ওকে বাড়িতে নিয়ে আমরা বিয়ের ব্যবস্থা করবো।
এর আগে রোববার (২০ মার্চ) সন্ধ্যায় বিয়ে করতে টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার ফুলকি ইউনিয়নের ময়থা গ্রামের আজহার আলীর মেয়ে ৯ম শ্রেণিতে পড়ুয়া আখিঁর (১৫) কাছে চলে আসেন নোয়াখালীর নুরুল ইসলামের মেয়ে বিলকিস আক্তার। বিষয়টি নিয়ে বাসাইল উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কিশোরীর পরিবার পড়ে বিপাকে।
জানা যায়, ফেসবুক ও টিকটকে পরিচয় হয় তাদের। তারপর থেকেই দীর্ঘদিন যাবত কথা হয় হোয়াটসঅ্যাপে। জড়িয়ে পরেন ভালোবাসার গভীর সম্পর্কে। তিন মাস আগে দু’জনে একসঙ্গে ঘরও ছেড়েছিলেন একে অপরকে ভালোবেসে। পরবর্তীতে পরিবারের চাপে বাড়িতে ফিরে আসতে বাধ্য হয় তারা। কিন্তু সেই চাপ তাদের দমিয়ে রাখতে পারেনি।
এদিকে এলাকাবাসী বলছেন দুই মেয়ের এই প্রেম কাহিনী কখনও দেখিনি। আজ প্রথম দেখলাম বিষয়টি আসলেই অবাক করার মতো।
বিলকিস বলেন, ‘আমি পরিবারকে বুঝিয়েছি তারা আমাদের সম্পর্ক মানবে না। তাই বাড়িতে থেকে নিরুপায় হয়ে পালিয়ে এসেছি। এখন আখির পরিবার না মানলে আমরা দু’জনে অন্য কোথাও গিয়ে বসবাস করবো।’
আঁখি বলেন, ‘বিলকিসের সঙ্গে ফেসবুকে পরিচয় তারপর থেকে আমরা দু’জনে সম্পর্কে জড়িয়ে যাই। এখন বিলকিস এসেছে আমি ওরে আর যেতে দিব না।’
এদিকে এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের উৎসুক বিভিন্ন বয়সী মানুষজন তাদের এক নজর দেখতে ওই বাড়িতে ভিড় করেন।
