নিউজ ডেস্ক: বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এসএ টিভির মালিক সালাউদ্দিন আহমেদের মালিকানাধীন অভিজাত শপিংমলে র্যাব এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের শুল্ক গোয়েন্দারা অভিযান চালিয়ে শুল্ক ফাঁকি দেয়া পণ্যের সন্ধান পেয়েছে। সেসব পণ্য শুল্ক ফাঁকি দিয়ে বিদেশ থেকে অবৈধ উপায়ে আনা হয়েছে। শুল্ক গোয়েন্দারা বলছেন, অধিক মুনাফা লাভের উদ্দেশ্যে কর ফাঁকি দিয়ে ৬ বছর যাবত এসব পণ্য বিক্রি করে আসছেন সালাউদ্দিন আহমেদ। অভিযানে শপিংমলের সার্বিক দায়িত্বে থাকা ম্যানেজারকে আটক করা হয়েছে।
জানা গেছে, সালাউদ্দিন আহমেদের মালিকানাধীন এই শপিংমলের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে ১২ ডিসেম্বর উক্ত শপিংমলে উপস্থিত হয় র্যাব এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের শুল্ক গোয়েন্দাদের একটি টিম। তারা প্রায় ৩ ঘণ্টার একটি অভিযান পরিচালনা করে বিদেশি কাপড়, চামড়াজাত পণ্যসহ অবৈধ উপায়ে আমদানি করা পণ্যের সন্ধান পেয়েছে। শুল্ক গোয়েন্দারা বলছেন, যদিও পণ্যগুলো বৈধ বলে দাবি করেছেন শপিংমলের ম্যানেজার কিন্তু এ সংক্রান্ত কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেননি তারা।
এ বিষয়ে অভিযানে উপস্থিত থাকা শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের ডিডি মিলন শেখ বলেন, আমাদের কাছে বহুদিন আগে থেকেই এমন তথ্য ছিলো যে, সালাউদ্দিন সাহেবের শপিংমলে অবৈধ উপায়ে আমদানি করা পণ্য বিক্রি করা হয়। গোপন অনুসন্ধানে বিষয়টির সত্যতা পেয়ে আমরা র্যাবের সহযোগে একটি অভিযান চালাই এবং হাতে-নাতে ধরি। আমরা সালাউদ্দিন সাহেবের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছি।
এদিকে আটককৃত শপিংমলের ম্যানেজার মো. শরীফ চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে শুল্ক গোয়েন্দারা। জানা যায়, সালাউদ্দিন আহমেদের তত্ত্বাবধায়নে শপিংমলের ম্যানেজার বিদেশ থেকে অবৈধ উপায়ে পণ্য আমদানি করার পাশাপাশি দেশের একটি ‘শুল্কমুক্ত বিদেশি পণ্য’ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এসব পণ্য সংগ্রহ করতেন। যা ক্রয়কৃত মূল্যের বিপরীতে কয়েকগুণ বেশি দামে বিক্রি করা হতো।
এ বিষয়ে জানতে এসএ টিভির মালিক সালাউদ্দিন আহমেদের ব্যক্তিগত মোবাইলে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। এমনকি এ প্রতিবেদক সরাসরি তার অফিসে উপস্থিত হলেও তিনি দেখা করতে রাজি হননি।
এমন প্রেক্ষাপটে এসএ টিভির সম্প্রচার যন্ত্র এবং যন্ত্রাংশ আমদানি শুল্ক পরিশোধিত কিনা এবং কাগজপত্র সঠিক কিনা তা খতিয়ে দেখতে শুল্ক গোয়েন্দারা একটি দল অতিসম্প্রতি একটি অভিযান চালাবে বলেও জানা গেছে।
