বুধবার, এপ্রিল ২২, ২০২৬
Homeদেশের খবরচুরির অভিযোগে শিশুসহ ৪ জনকে মাথা ন্যাড়া ও মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন

চুরির অভিযোগে শিশুসহ ৪ জনকে মাথা ন্যাড়া ও মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন

নিউজ টাঙ্গাইল ডেস্ক: ঢাকার কেরানীগঞ্জে চুরির অভিযোগে চার শিশুর ওপর মধ্যযুগীয় কায়দায় অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছে। গতকাল বুধবার (৪ আগস্ট) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দক্ষিন কেরানগঞ্জের আগানগর ইউনিয়নের কেচি শাহ এলাকায় দফায় দফায় ওই চার শিশুর ওপর অমানবিক নির্যাতন চালায় রাইফা মেটাল ইন্ড্রাস্টিজ নামের এক কারখানা কর্তৃপক্ষ। নির্যাতিত ওই চার শিশুর বয়স ১১ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে।

প্রতক্ষ্যদর্শী সুত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (৩ আগস্ট) রাতে নির্যাতনের শিকার চার শিশু ওই কারখানা থেকে ২/৩ কেজি পরিত্যক্ত জিআই তার নিয়ে যায়। বিষয়টি কারখানা মালিকের ছেলে মো. রাজিব জানতে পারলে তাদের ধরে এনে কারখানায় আটকে রাখে। কারখানার কর্মচারীদের সহায়তায় রাজিব ওই চার শিশুকে মধ্যযুগীয় কায়দায় অমানবিক নির্যাতন করে।

একপর্যায়ে নির্যাতন করে শিশুদের মাথা কেচি দিয়ে এলোপাতারিভাবে চুল কেটে দেয়। বিষয়টি অভিযুক্ত রাজিবের বাবা কারখানার মালিক মো: মালেক ও বড়ো ভাই রাজু আহমেদ জানলেও তারা কোন ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো শিশুদের অভিভাবকদের ডেকে এনে ভয় ভীতি দেখিয়ে শিশুদের ছেড়ে দেয়। বিষয়টি র‌্যাব ১০ জানতে পেরে ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে কারখানা মালিক মো. মালেক ও তার বড়ো ছেলে রাজু আহমেদ কে আটক করে।

নির্যাতনের শিকার এক শিশুর বাবা বলেন, আমার ছেলে চুরি করতে পারে না, যদি সে চুরি করেও থাকে তা হলে দেশে আইন আছে বিচার আছে। কোনো সুস্থ মানুষ একটা শিশুর ওপর এভাবে নির্যাতন চালাতে পারে না। অতিরিক্ত নির্যাতনের ফলে শিশুগুলো ঠিক মতো হাটতেও পারছে না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে র‌্যাব ১০ ক্রাইম প্রিভেনশন কোম্পানী (সিপিসি ২) কোম্পানী কমান্ডার মেজর ওবাইদুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত মর্মান্তিক, আমরা ঘটনাটি শুনেই দ্রুত ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করি। কারখানা মালিক ও তার বড় ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। অভিযুক্ত রাজিব ও কারখানা কর্মচারীদের এখনো পাওয়া যায়নি। নির্যাতনের শিকার চার শিশুকে তাদের স্বজনদের হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে।

নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।

RELATED ARTICLES

Most Popular