নিউজ টাঙ্গাইল ডেস্ক: ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের ভাগ্য নির্ধারণ হচ্ছে আজ। তাদের অপসারণ প্রক্রিয়া নিয়েও আলোচনা হবে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে তাদের ভাগ্য। দলের নেতারা বলছেন, শোভন-রাব্বানীকে ছাত্রলীগের দায়িত্বে রাখতে চাচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু কোন প্রক্রিয়ায় তাদের সরানো হবে সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে এই বৈঠকে। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, আমি এ নিয়ে (ছাত্রলীগ) আর কোনো কথা বলব না। কারণ আমাদের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিষয়টি দেখছেন। কোনো সংযোজন, বিয়োজন, পরিবর্তন বা সংশোধনের প্রশ্ন এলে প্রধানমন্ত্রী নিজেই করবেন।
ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন গণভবনে প্রবেশের পাসের বিষয়ে বলেন, নেত্রী রাগ করেছেন, বলেছেন ওরা যেন আমার সামনে না আসে, না পড়ে। দুপুরের আগে ঘুম থেকে না ওঠা, অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের ডেকেও নির্ধারিত সময়ের অনেক পর নিজেরাই উপস্থিত হওয়া, ছাত্রলীগের বিভিন্ন শাখা কমিটি ঘোষণার ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেন, বিতর্কিতদের কমিটিতে স্থান দেওয়া, সভাপতির বিয়ে, সাংবাদিকদের এড়িয়ে চলাসহ বেশকিছু অভিযোগ জমা পড়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে।
আওয়ামী লীগের কয়েকজন নীতিনির্ধারক নেতা জানিয়েছেন, ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের বিষয়টি নিয়ে গত সোমবার ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এ সময় ছাত্রলীগের বিষয়ে তাকে কিছু নির্দেশনাও দেন তিনি।
চিঠিতে আরও বলা হয় আপনার সন্তানরা এতটা খারাপ না। আমরা পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের শিকার হচ্ছি বারবার। অনেক অব্যক্ত কথা রয়েছে, যা আপনাকে বলার কখনও সুযোগ পাইনি। বিভিন্ন মাধ্যমে শ্রুত অভিযোগের ভিত্তিতে প্রকৃত সত্যটুকু উপস্থাপনের সুযোগ চাই। চিঠিতে বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ব্যাখ্যা তুলে ধরা হয়। তার বিভিন্ন অংশের উদ্ধৃতি এখানে দেওয়া হলো।
অভিযোগ-১ : ২৩ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউর নতুন পার্টি অফিসে আপনার আবেগের ঠিকানায় আমাদের ঠাঁই দিয়েছেন। আমরা দ্ব্যর্থহীনভাবে বলছি, আপনার আমানতকে সযত্নে রেখেছি। অফিস অপরিচ্ছন্ন ও নোংরা করা নিয়ে যে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। দায়িত্বপ্রাপ্ত শাহজাহান ভাই চান না ছাত্রলীগ এখানে থাকুক। লোক দিয়ে বাইরে থেকে ময়লা ফেলে, বাথরুম ও দেওয়াল অপরিচ্ছন্ন করে সেগুলোর ছবি তুলে আপনাকে দেখানো হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত মিন্টু ভাই, লোকমান ভাই এবং ক্লিনার জাবেদ ভাইয়ের কাছে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই প্রকৃত সত্য জানতে পারবেন।
অভিযোগ-২ : ২০ জুলাই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মেলনের দেরি প্রসঙ্গে ১৮ জুলাই আপনি দেশের বাইরে যাওয়ার আগে অনুমতি নিয়ে ১৯ তারিখ আম্মুর (সাধারণ সম্পাদক) প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আমি এবং সভাপতি মাদারীপুর গিয়েছিলাম। ওইদিন সারারাত নির্ঘুম জার্নি আর বেশ কয়েকটি পথসভা (সর্বশেষ সকাল ৮টায় সাভারে) করে সকাল ৯টায় ঢাকা ফিরি। রেস্ট নিয়ে পূর্বনির্ধারিত ১২টার সম্মেলনে পৌঁছাতে আমাদের ৪০ মিনিট দেরি হয়, যা অনিচ্ছাকৃত এবং অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আগেই অবগত। সকালে ঘুম থেকে দেরিতে ওঠার বিষয়টিও অতিরঞ্জিত। গত ১ বছরে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সব কর্মসূচিতে (সকাল ৭টা-৯টা পর্যন্ত) আমরা উপস্থিত থেকেছি এবং যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করেছি। ডাকসুর জিএস হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে মধুর ক্যান্টিনে কম উপস্থিতি নিয়ে যে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে তা অতিরঞ্জিত।
অভিযোগ-৩ : জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে অভিযোগ আপনার কাছে ভিন্নভাবে উত্থাপন করা হয়েছে। উপাচার্য ম্যামের স্বামী ও ছেলে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগকে ব্যবহার করে কাজের ডিলিংস করে মোটা অঙ্কের কমিশন বাণিজ্য করেছেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে ঈদুল আজহার আগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগকে ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা দেওয়া হয়। এ খবর জানাজানি হলে বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি শুরু হয় এবং এরই পরিপ্রেক্ষিতে উপাচার্য ম্যাম আমাদের স্মরণ করেন। আমরা দেখা করে আমাদের অজ্ঞাতসারে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগকে টাকা দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন তোলায় তিনি বিব্রতবোধ করেন। নেত্রী, ওই পরিস্থিতিতে আমরা কিছু কথা বলি, যা সমীচীন হয়নি। এ জন্য আমরা ক্ষমাপ্রার্থী।
সবকিছুর পরেও আমাদের জ্ঞাত-অজ্ঞাত ভুলগুলোর জন্য অনুতপ্ত ও ক্ষমাপ্রার্থী। আপনি বঙ্গবন্ধুর কন্যা, মানবতার মা। নিজ বদান্যতায় আমাদের ক্ষমা করে ভুলগুলো শুধরে আপনার আস্থার প্রতিদান দেওয়ার সুযোগটুকু দিন। আপনি মুখ ফিরিয়ে নিলে যাওয়ার কোনো জায়গা নেই।
আপনার স্নেহের রাব্বানী।
