সজল আহমেদ: রাজনীতিতে দুই প্রভাবশালী নাম লতিফ সিদ্দিকী ও বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী। দুইজনই একই পরিবারের হলেও রাজনৈতিক অবস্থান ও পথচলায় এখন দেখা যাচ্ছে ভিন্নতা। কালিহাতীর টাঙ্গাইল-৪ আসনে সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী নির্বাচনমুখী প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অন্যদিকে সখিপুর-বাসাইলের টাঙ্গাইল-৮ আসনে দীর্ঘদিনের জনপ্রিয় নেতা কাদের সিদ্দিকী এবার নির্বাচন করছেন না বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা আরও গতি পেয়েছে।
লতিফ সিদ্দিকী অতীতে দলীয় রাজনীতি ও মন্ত্রিত্বের অভিজ্ঞতা নিয়ে কালিহাতীতে এখনো শক্ত অবস্থানে আছেন। তার সমর্থকরা এলাকায় প্রচারণাসংক্রান্ত প্রস্তুতি শুরু করেছে বলে জানা গেছে। রাজনৈতিক মাঠে তার ফেরাটা ভোটারদের মধ্যে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সম্প্রতি এক মতবিনিময় সভায় লতিফ সিদ্দিকী জানান, নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি হিসেবে তিনি আগামী ২৯ ডিসেম্বর (সোমবার) মনোনয়নপত্র জমা দেবেন। মনোনয়ন জমার পর তিনি পর্যায়ক্রমে গণসংযোগ ও নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করবেন বলেও জানান। তার বক্তব্যে স্পষ্ট, কালিহাতীতে তিনি এবারও মাঠে সক্রিয় লড়াইয়ে নামতে প্রস্তুত।
অন্যদিকে কাদের সিদ্দিকী বহু বছর ধরে টাঙ্গাইল-৮ আসনের জনপ্রিয় মুখ। কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি হিসেবে তিনি বরাবরই অংশগ্রহণমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের পক্ষে মত দিয়ে আসছেন। আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ায় তার দলের পক্ষ থেকেও অংশগ্রহণের প্রশ্নে সংশয় তৈরি হয়। বড় দল অংশ না নিলে নির্বাচন অর্থপূর্ণ হবে না বলে মনে করায় কাদের সিদ্দিকী এবার নির্বাচনে না যাওয়ার দিকে ঝুঁকেছেন বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অভিমত।
গত ২৪ ডিসেম্বর কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও বিশেষ বর্ধিত সভায় সিদ্ধান্ত হয় যে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটি অংশ নেবে না। শনিবার বিকেলে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম দেলোয়ার এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ফলে টাঙ্গাইল-৮ আসনে কাদের সিদ্দিকীর অনুপস্থিতি সমীকরণ বদলে দেবে, এমন মত দিচ্ছেন অনেকে। স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে মতভেদ পরিষ্কার। কেউ বলছেন, কাদের সিদ্দিকী না থাকলে সখীপুর-বাসাইলের ভোটে উত্তাপ কমবে।
সখীপুর উপজেলা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সখীপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র সানোয়ার হোসেন বলেন, “এ আসনে কাদের সিদ্দিকীর একটি বিশাল ভোটব্যাংক আছে। এবার আওয়ামী লীগও নেই। ফলে বিপুল ভোটে তিনি নির্বাচিত হতেন। কিন্তু দলীয় সিদ্ধান্ত হচ্ছে বড় কথা। আমরা দলীয় সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই।”
অপরদিকে কালিহাতীতে লতিফ সিদ্দিকীর সক্রিয়তা নির্বাচনী প্রতিযোগিতা আরও জমিয়ে তুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
