নিউজ টাঙ্গাইল ডেস্ক: অনেক ভিক্ষুককে চলতি বাস ও ট্রেনে ভিক্ষা করতে দেখা যায়। কেউ কেউ বাসস্ট্যান্ড ও রেল স্টেশনে, বিভিন্ন হাট-বাজার ও শহরের মার্কেটগুলোতে ভিক্ষা করে থাকেন। আবার অনেকে গ্রামেগঞ্জে বাড়ি বাড়ি ঘুরে ভিক্ষা করেন। টাঙ্গাইলের সখীপুরে এ এক আজব ভিক্ষুক। সখীপুর পৌর শহরের খান মার্কেটের সামনে একটি আম গাছের নিচে ভিক্ষুক দৃষ্টি প্রতিবন্ধী আতশ আলী (৬০) ভিক্ষা করছে প্রায় দুই যুগ ধরে। উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের মুচারিয়া পাথার গ্রামের আলতাব হোসেনের ছেলে তিনি। জন্ম থেকে দুটি চোখই তাঁর অন্ধ। প্রতিদিন ভোর বেলা থেকে সন্ধ্যা ৭টা অবধি ওই আম গাছের নিচেই দেখা মিলে অন্ধ আতশ আলীর।
জানা যায়, প্রায় দুই যুগ ধরে সখীপুর পৌর শহরের খান মার্কেটের সামনে একটি পুরাতন আম গাছের নিচে কাঠের তৈরি ফিরি বিছিয়ে ভিক্ষা করছেন ভিক্ষুক আতশ আলী। সখীপুর-ঢাকা, সখীপুর-সাগরদিঘী এ সড়ক দিয়ে চলাচলকারী শত শত যাত্রীবাহী বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাস,অটো, রিক্সা, অটো সিএনজি ও মোটরসাইকেল চালকেরা এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আশা লোকজন ভিক্ষুক আতশ আলীকে টাকা দিচ্ছেন। চলতি যানবাহন থেকে ফেলে দেয়া টাকা –পয়সা আবার অনেক পথচারী কুড়িয়ে আতশ আলীর হাতে বুঝিয়ে দিচ্ছেন।
ভিক্ষুক আতশ আলী বলেন, অভাবের তাড়নায় প্রায় ২৪ বছর পূর্বে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসি সখীপুরে । সেই থেকে এ গাছটির নিচে বসেই প্রতিদিন ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ভিক্ষা করছি। গাড়ী আশা বা যাওয়ার শব্দ কানে আসলেই হাত তুইলা চিৎকার করি। তখন মানুষেরা তাকে টাকা-পয়সা সাহায্য করেন। এ আয়েই তিনি এক মেয়ে ও ছেলেকে বিয়ে দিয়েছেন। অন্য মেয়ে ফাহিমা আক্তার ৮ম শ্রেণিতে লেখাপড়া করছে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা ও খান মার্কেটের মালিক আবদুল হামিদ খান নয়া মুন্সী (৮৫) বলেন, অন্ধ আতশ আলীকে প্রায় দুই যুগের বেশি সময় ধরে আমার মার্কেটের সামনে একটি আম গাছের নীচে বসে ভিক্ষা করতে দেখছি।
