সোমবার, এপ্রিল ২০, ২০২৬
Homeটাঙ্গাইল জেলাঘাটাইলটাঙ্গাইলে দেখা মিললো বিরল পাখি 'পি-উ'

টাঙ্গাইলে দেখা মিললো বিরল পাখি ‘পি-উ’

নিউজ টাঙ্গাইল ডেস্ক: পাখিটির নাম ‘লাল পা পি-উ। ইংরেজি নাম ‘কমন রেডশ্যাঙ্কথ। বৈজ্ঞানিক নাম ‘ট্রিংগা টোটেনাসথ। গোত্রের নাম ‘স্কোলোপাসিদিথ। এদের অন্য একটি প্রজাতির নাম সবুজ পা পি-উ। এ প্রজাতির পাখির গড় দৈর্ঘ্য ২৭-২৯ সেন্টিমিটার। মাথা, ঘাড়, বুকের পালক বাদামি-ধূসর রেখা। ডানার পেছনের পালক সাদা। ঠোঁট লম্বা সোজা। ঠোঁটের গোড়া কমলা-লাল, অগ্রভাগ কালচে। শরীরের তুলনায় পা খানিকটা লম্বা। পায়ের বর্ণ কমলা-লাল, নখ কালো। প্রজননের সময় গায়ের রঙ কিছুটা গাঢ় দেখায়।

সম্প্রতি এক পড়ন্ত বিকালে এমনি অতি সুদর্শন জলচর পাখি লাল পা পি-উর দেখা মিললো টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার সাগরদিঘির কোদালধোয়া এলাকায়। যদিও এদের আবাসস্থল মধ্য-পূর্ব এশিয়া থেকে বৈকাল হ্রদ পর্যন্ত। শীতকালে পরিযায়ী হয়ে বিভিন্ন দেশে যায়। বিশেষ করে বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার, দক্ষিণ চীন, মালয়েশিয়া ও ফিলিপাইনে তাদের বেশি আগমন ঘটে বলে জানালেন করোটিয়া সাদাত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক সানোয়ার হোসেন।

তিনি জানান, শান্ত স্বভাবের পাখিগুলো কারও সঙ্গে গায়ে পড়ে ঝগড়া করে না। চেহারা মায়াবী ধাঁচের। নজরকাড়া চোখের গড়নও। যদিও তারা শীত মৌসুমে দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। ওই সময় জলাশয় এলাকায় ছোট-বড় দলে শিকার খুঁজতে দেখা যায়। উপকূলীয় অঞ্চলে বেশি নজরে পড়ে। জোয়ার-ভাটার খাড়ির মুখে দাঁড়িয়ে খাবারের সন্ধান করে। এদের প্রধান খাবার ছোট মাছ ও জলজ পোকামাকড়। লালপা পি-উর কণ্ঠস্বর বেশ চমৎকার।

অনেকেই বাঁশির আওয়াজ বলে ভুল করে। সুরে মুগ্ধ হয়ে দেশের পাখিবিশারদরা এদের নাম দিয়েছেন ‘মোহন বেণুথ। তাদের প্রজনন মৌসুম বসন্তকাল। ডিম পাড়ে ৩-৫টি। স্ত্রী-পুরুষ পালা করে ডিমে তা (তাপ) দেয়। ফুটতে সময় লাগে ২৩-২৫ দিন। প্রজননের আগ মুহূর্তে নিজেদের ‘বসতভিটায়’ চলে যায়। ভাসমান জলদামের (জলজ তৃণবিশেষ) ওপর তারা বাসা বাঁধে। বাসা বানাতে উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করে জলজ ঘাস ও লতাপাতা।

নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।

RELATED ARTICLES

Most Popular