নিউজ ডেস্ক: নিখোঁজ হওয়ার তিনদিন পর এক রাজমিস্ত্রীর লাশ নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রোববার (২৮ নভেম্বর) সকালে টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার যদুনাথপুর ইউনিয়নের ঘাগড়া এলাকার বংশাই নদী থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করে ধনবাড়ী থানা পুলিশ। নিহত মো. রুবেল মিয়া (২৫) উপজেলার যদুনাথপুর ইউনিয়নের বারইপাড়া গ্রামের আনছার আলীর ছেলে। সে এক সন্তানের জনক। তবে, পরিবারের অভিযোগ তাঁকে পরিকল্পতিভাবে হত্যা করে নদীতে ডুবিয়ে রাখা হয়েছিল।
নিহতের ভগ্নিপতি খাইরুল ইসলাম বলেন, যদুনাথপুর বাজারে আমার পান দোকানে গত বৃহস্পতিবার রাঁতে রুবেল পান বিক্রি করতেছিল। একই ইউনিয়নের পানকাতা গ্রামের কেরামত আলীর ছেলে মাটি ব্যবসায়ী রাশিদ মিয়া এঁসে পান খায়। পরে রাশিদ টাকা না দিয়ে চলে যেতে চাইলে রুবের তাঁকে বাঁধা দেয়।
এরই একপার্যয়ে রাশিদের সাথে কথা কাটাকাটিতে এঁসে আরও যোগ দেয় একই গ্রামের কাবেল হোসেনের ছেলে মনোয়ার মিয়া, যদুনাথপুর বাজার এলাকার হানি উদ্দিনের ছেলে বেলাল হোসেন। ওরা রুবেলকে দেখে নেয়ার হুমকি দিয়ে চলে যায়। রুবেল আমার দোকান থেকে রাঁতে বাড়ী চলে যাওয়ার জন্য বের হয়েই নিখোঁজ হয়।
গত তিন দিনে তাঁকে বিভিন্ন জায়গায় সবাই মিলে খোঁজাখুজি করতে থাকি। আজ সকালে এলাকাবসীর মাধ্যমে জানতে পারি রুবেলের লাশ ঘাগড়া এলাকার বংশাই নদীতে ভেঁসে উঠেছে। তাঁর শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
নিহত রুবেলের বাবা আনছার আলী, মামা ইসমাইল হোসেন, শাশুড়ি আর্জিনা বেগম ও স্ত্রী রিনা আক্তার বলেন, নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই আমরা রুবেলকে খোঁজতে থাকি। তিন দিনে কোথায় খোঁজে পাচ্ছিলাম না। তাঁর লাশ নদীতে ভেঁসে উঠেছে খবর পেয়ে ধনবাড়ী থানা পুলিশ এঁসে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। আমরা অভিযুক্তদের কঠিন বিচার চাই। আমরা আইনি ব্যবস্থা নিব।
ধনবাড়ী থানার উপ-পরিদর্শক মাজহারুল ইসলাম জানান, ‘এলাকাবাসীর নিকট খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসেছি।’
ধনবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. চান মিয়া জানান, ‘পুলিশ লাশ উদ্ধার করে নিয়ে এসেছে। ময়না তদন্তের জন্য লাশ টাঙ্গাইল শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। নিহতের পরিবার অভিযোগ দায়ের করলে আইন অনুয়ায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।