ফরমান শেখ, নিজস্ব প্রতিবেদক | চলছে মধুমাস। বছর ঘুরে জ্যৈষ্ঠের এ সময়ে গ্রীষ্মকালীন বিভিন্ন ফলে ভরপুর গোটা দেশ। টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরেও ব্যতিক্রম ঘটেনি। মৌসুমি ফলে ছেয়ে গেছে এ উপজেলার ফলবাজারসহ শহরের অলি-গলি ও হাট-বাজারগুলিতে। তবে এসব ফলের দামও বেশ চড়া। এ নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
শনিবার দুপুরে উপজেলা পৌর শহরের বিভিন্ন ফল বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় প্রতিটি দোকানে গ্রীষ্মকালীন মৌসুমি ফলের সমারোহ। এসব ফলের মধ্যে রয়েছে আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, আনারস ও তাল ইত্যাদি। এছাড়াও বেল, বাঙ্গি, তরমুজ, পেঁপে ও পেয়ারাসহ আরও বিভিন্ন ফল দেখা গেছে ফল হাট-বাজার গুলোতে। গ্রীষ্মকালীন ফলের মধ্যে বর্তমানে ক্রেতাদের চাহিদার শীর্ষে রয়েছে লিচু, তরমুজ, আনারস ও বাঙ্গি।
বাজার দর পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, প্রতি এক শত লিচু বিক্রি করছেন ২৬০ থেকে ৩৮০ টাকায়, প্রতি পিস কাঁঠাল সাইজ অনুসারে ১০০ থেকে ৫০০ টাকায়। আম প্রতি কেজি ৬০ থেকে ১২০ টাকায়, আনারস প্রতি জোড়া ৬০ থেকে ১২০ টাকায়, প্রতি কেজি জাম ১২০ টাকা থেকে ২০০ টাকায় এবং তালের শ্বাস প্রতি পিস ১৫ থেকে ২৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আর বাঙ্গি বিক্রি হচ্ছে আকার বেদে ৩০ থেকে ১৫০ টাকা পিস।
পৌর শহরের বাসস্ট্যান্ড চত্বরের মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে ফল বাজারে চমৎকার প্রদর্শনীর মাধ্যমে মৌসুমি ফল লিচু, হিমসাগর ও লেংড়াসহ বিভিন্ন ফলে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছেন ব্যবসায়ীরা। তবে বাজারে সব চেয়ে বেশি লিচু বিক্রি হতে দেখা গেছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে মিষ্টি ও রসালো আম বিক্রির দখলে যাবে বাজার। এমনটাই ধারণা ফল ব্যবসায়ীদের।
ফল ব্যবসায়ী হাফিজুর রহমান জানান, গতবারের তুলনায় এবার দাম কিছুটা বেশি লিচুর। আমের বেচাকেনা এখনো জমে উঠেনি। তবে লিচুর এখন ভরপুর মৌসুম। তাই লিচুর ব্যবসা জমজমাট। আমের বেচাকেনা জমে উঠবে আগামী সপ্তাহ থেকে। বর্তমানে মানুষের কাছে লিচুর দাহিদা বেশি। চায়না- ৩ জাতের লিচু ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা দরে শতকরা হিসেবে বিক্রি করছি এখন।
আনোয়ার হোসেন নামে এক ক্রেতা জানান, বড় সাইজের ১০০ পিস লিচু কিনেছি ৪০০ টাকা দিয়ে। বাজারে ভরপুর মৌসুমি ফল থাকলেও দাম চড়া বলে মনে করেন এ ক্রেতা। সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখতে এবং বিষাক্ত রাসায়নিক মুক্ত ফল বিক্রিতে প্রশাসন বাজার মনিটরিংয়ের অনুরোধ জানান তিনি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছাঃ ইশরাত জাহান জানান, আমরা চাই ফরমালিন মুক্ত নিরাপদ ফল এ উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে ক্রয়-বিক্রয় হোক। কোথাও অনিয়মের অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
