নিজস্ব প্রতিবেদক: স্ত্রী রেখে অন্য নারীর সঙ্গে পরকীয়া প্রেমের জেরে সংসারে কলহো ও ঋণগ্রস্তের হতাশায় পড়ে টাঙ্গাইলে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে সীমান্ত সরকার পরিমল (৪৭) নামে এক মিষ্টি ব্যবসায়ী আত্মহত্যা করেছেন। শনিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে পৌর শহর এলাকার ঘারিন্দা রেল স্টেশনে ট্রেনের নীচে ঝাঁপ দিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন।
শনিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে টাঙ্গাইল ঘারিন্দা রেল স্টেশনের সহকারী রেলমাস্টার আব্দুল আলীম এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পরিমল শহরের প্যাড়াডাইসপাড়া এলাকার মৃত পলান সরকারের ছেলে। তিনি টাঙ্গাইল পৌর শহরের ছয়আনি এলাকার মিষ্টিপট্টিতে মিষ্টি দোকানের ব্যবসা করতেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, পরিমলের টাঙ্গাইল শহরের ছয়আনি বাজারে ‘সীমান্ত সুইটস’ নামে একটি দোকান রয়েছে। দীর্ঘদিন তিনি সেখানে ব্যবসা করে আসছিলেন। কয়েক বছর আগে এক নারীর সঙ্গে পরকীয়ার সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার জেরে স্ত্রীর সঙ্গে দাম্পত্য কলহের সৃষ্টি হয়। এর জেরে প্রায় তিন বছর আগে তার স্ত্রী দুই সন্তান নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান।
অন্যদিকে, ব্যবসায়ে লোকসান হওয়ায় সম্প্রতি তিনি ধারদেনায় জড়িয়ে পড়েন। এতে করে
তিনি প্রচুর ঋণ করে ফেলেছিলেন। এর মধ্যে জেলা ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সালেহ মোহাম্মদ ইথেনের কাছ থেকে তিনি অনেক টাকা নিয়েছিলেন। এ নিয়ে তিনি চাপে দুশ্চিন্তায় হতাশাগ্রস্ত হোন সে।
শনিবার সন্ধ্যায় আত্মহত্যার আগে পরিমল নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। সেখানে পরিমল তার মৃত্যুর জন্য একজন নারী ও একজন পুরুষকে দায়ী করেছেন। তার কিছু পরেই তিনি ট্রেনের নীচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন। রাতে অবশ্য তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টটি নিষ্ক্রিয় দেখা যায়।
ঘারিন্দার স্টেশনের সহকারী স্টেশনমাস্টার আব্দুল আলীম জানান, খুলনা থেকে ছেড়ে আসা চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনটি ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ট্রেনটি ঘারিন্দা স্টেশনে পৌঁছায়। ৫ মিনিটি যাত্রাবিরতির পর ট্রেনটি ঢাকা অভিমুখে যাত্রা শুরু করে। তখন স্টেশন থেকে মাত্র ১০০ গজ দূরে গিয়ে পরিমল ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দেন। এতে ট্রেনে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় টাঙ্গাইল রেলওয়ের পুলিশ ফাঁড়ির (জিআরপি) ইনচার্জ এএসআই ফজলুল হক বিষয়টি জানিয়েছে জানান, খুলনা থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী চিত্রা এক্সপ্রেসের ট্রেনের নীচে শনিবার সন্ধ্যায় ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করে। খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
