অনলাইন ডেস্ক : ট্রেনের টিকিট পেতে লাগবে যাত্রীর জাতীয় পরিচয়পত্র ! গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের রেল মন্ত্রণালয়ে থেকে ঘোষণা দেওয়া হয় আন্তঃনগর ট্রেনের টিকেট কালোবাজারি রোধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
অর্ধ শিক্ষিত- অশিক্ষিত নিম্ন আয়ের মানুষেরা অনলাইনে কিভাবে টিকেট পাওয়া যায় সে সর্ম্পকে অবগত নন তারা। এরই সুযোগে ট্রেনের টিকেট কালোবাজারিরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে। একটি সূত্র জানায়, দিনাজপুর রেল স্টেশন এলাকা সহ বেশ কিছু এলাকায় কম্পিউটার কম্পোজের দোকানে আন্তঃনগর ট্রেনের অনলাইনে টিকেট কাটা হয়।
এ সকল কম্পিউটার কম্পোজ দোকান মালিকদের নিকট রয়েছে ২০ থেকে ৩০টি সিম/মোবাইল নম্বর ও জাতীয় পরিয়পত্র। যার ফলে অনলাইনে ট্রেনের টিকেট শুরু হওয়ার সাথে সাথে টিকেট নেই দেখা যায়। আর এই টিকেটগুলিকে অতিরিক্ত দামে রেল স্টেশনের চারপাশে তাদের কিছু বখাটে বিপদগামী ছেলেদেরকে ছেড়ে দেওয়া থাকে। সেখান থেকে মক্কেলদের নিয়ে হাজির হয় তাদের নিযুক্ত সিন্ডিকেটের কম্পিউটার কম্পোজের দোকানে। সেখানে বলা হয় আপনার কি জাতীয় পরিচয়পত্র আছে যদি বলে আছে একটু অপেক্ষা করুন টিকেট আছে কিনা তা আপনাকে বলছি।
এরপর যাত্রীকে বলছেন টিকেট আছে তবে আপনার খরচ পড়বে ৭০০ টাকা, যাত্রী বলেন দিনাজপুর থেকে ঢাকা অনলাইন টিকেট তো ৪৮৫ টাকা। উত্তরে বলেন ইন্টারনেট চার্জ আরও অন্যান্য চার্জ মিলে এই টাকা লাগবে নয়তবা টিকেট দিতে পারব না। যে যাত্রীর কাছে জাতীয় পরিচয়পত্র নেই বলা মাত্রই উত্তরে তারা বলে জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল নম্বর নাই তো কি হয়েছে আমরা তো আছি আপনাদের সেবা দেওয়ার জন্য।
কিন্তু টিকেটের দাম ১২০০ টাকা লাগবে, প্রশ্ন হল এই অজানা জাতীয়পরিচয়পত্র ও মোবাইল নম্বরগুলো কার? অপরদিকে গত ২৭শে আগষ্ট ২০২০ইং তারিখে স্টেশন চত্তরের নিউ কর্নার কম্পিউটার কম্পোজের দোকান মালিক নজরুল ইসলামের কর্মচারী, পাহাড়পুর, সদর, দিনাজপুর স্বপন চন্দ্র দাসের পুত্র মোহন কুমার দাস (২৮), মনির স্টোর, স্টেশন রোড, মোবাইল ব্যাংকিং সিম বিক্রয় এর দোকানের নয়ন, আনিছুর রহমান এই ৩ জন কে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন আইন ২০০৯ এর ৫২ ধারায় টিকেট কালোবাজারির দায়ে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক মোঃ আব্দুল ওয়াজেদ, মামলা নং- ৩৬১/২০২০।
কম্পিউটার কম্পোজ দোকান মালিক মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, কি কারণে আমাদের জরিমানা করা হল তা আমরা নিজেই বুঝতে পারছি না। তিনি বলেন, দিনাজপুর থেকে ঢাকা আন্তঃনগর ট্রেনের টিকেটের মুল্য ৪৬৫ টাকা এর মধ্যে সরকারি ম্যাসেজে চার্জ কেটে নেয় ২০ টাকা প্রিন্টিং চার্জ আমরা নেই ১০ টাকা যা সর্বমোট ৪৯৫ টাকা। আমরা যাত্রীর নিকট নিয়ে থাকি ৫৩০ টাকা। দোকান ভাড়া ইলেকট্রিক বিল, কর্মচারীর বেতন দিতে হয়। যার ফলে ৪৯৫ টাকার স্থলে আমরা নিয়ে থাকি ৫৩০ টাকা অর্থ্যাৎ ৩৫ টাকা বেশি। এটাই যদি আমাদের অন্যায় হয়, তাহলে ট্রেনের টিকেট যাত্রীদের কেটে দেওয়া ছেড়ে দিব।
তিনি আরও বলেন, যদি কেউ আমাদের কাছ থেকে টিকেট ক্রয় করতে আসে জাতীয় পরিচয়পত্র এবং মোবাইল নম্বর ছাড়া কখনই টিকেট কাটা হয় না, জাতীয় পরিচয়পত্র মোবাইল নম্বর ছাড়া টিকেট বাহির করাও সম্ভব নয়। ধৃত ৩ জনের ১ জন ট্রেনের টিকেট কালোবাজারি আনিছুর পানুয়া বলেন, আমাদের কাছে যদি কেউ ট্রেনের টিকেট ক্রয় করতে চায়, তাহলে আমরা জোগাড় করে দেওয়ার চেষ্টা করি।
আমরা কম্পিউটার কম্পোজের দোকানে গিয়ে কখনই ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকার নিচে আন্তঃনগর ট্রেনের টিকেট তাদের দোকান থেকে ন্যায্য মূল্যে টিকেট পাইনি। ফলে যাত্রীদের কাছ থেকে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা আমরা বেশিই নিয়ে থাকি। “তুমি আমি ভাই ভাই এভাবেই লুটে-পুটে খাই” এই নীতিতে চলছে টিকেট কালোবাজারি চক্রের নেটওয়ার্ক।
