ফরমান শেখ: ‘নদী ভাঙলে জমি খাস’ এ আইন বাতিলের দাবিতে ও দেশের চরাঞ্চলগুলোর নদী সিকস্তি এলাকার মানুষের পৈত্তিক জমির প্রজাস্বত্ব হরণকারী আইন বাতিলসহ ও নদী ড্রেজিং এর নামে চরাঞ্চলের কায়েমি জমি কেটে নদী খনন ও শাসনেের প্রতিবাদে পথসভা করেছে বাংলাদেশ কৃষক সমিতি ও নদী ভাঙলে জমি খাস আইন বাতিল সংগ্রাম সংগঠন।
আজ শনিবার সকালে পথসভার শুরুতে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে ‘নদী ভাঙলে জমি খাস’ এ আইন বাতিলের দাবিতে বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ কৃষক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সস্পাদক জাহিদ হোসেন খান।
পরে দিনব্যাপি পৌর শহরের বিভিন্ন জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে খন্ড খন্ড পথসভা শেষে অটো-রিকশাযোগে উপজেলার গোবিন্দাসীর টি-রোড, পুরাতন ফেরীঘাট, স্কুল রোড, মাটিকাটা মোড়, সিরাজকান্দী বাজার, পাথাইলকান্দি (যমুনা সেতু) বাজার, অর্জুনা, কুঠিবয়ড়া, নলীন বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে সংগঠনের নেতারা কায়েমি জমি ড্রেজিং ও নদী ভাঙলে জমি খাস’ এ আইন বাতিলের দাবিতে পথসভা করেন। এতে অংশ নেয় স্থানীয় সর্বস্তরের নানা শ্রেণি পেশার মানুষ।

এসময় উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ কৃষক সমিতি টাঙ্গাইল জেলা শাখা’র যুগ্ম আহবায়ক ও ঘাটাইলের বীর মুক্তি হাবিবুর রহমান, স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা আশরাফ হোসেন, নদী ভাঙলে জমি খাস আইন বাতিল সংগ্রাম কমিটির আহবায়ক ও নাটোয়াপাড়া সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের প্রমুখ। পথসভায় তারাও বক্তব্য রাখেন। এছাড়াও লিফলেট বিতরণ করেছেন তারা।
পথসভায় বক্তারা বলেন- স্বাধীন দেশে ১৯৭২ সালের পি.ও ১৩৫/৭২ আইন জারি করে কৃষকদের বাপ-দাদার পৈত্তিক সম্পতি উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এদিকে, ভাঙা-গড়ায় নদী পাড় ও চরাঞ্চলের কৃষককরা প্রতিনিয়ত সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছেন। শুধু তাই নয়, চরাঞ্চলবাসীরা বিভিন্ন ধরণের রবি ফসল উৎপাদন থেকেও বঞ্চিত হতে হয়। তারমধ্য শুরু হয়েছে নদী ড্রেজিং নামে কৃষকদের রের্কডকৃত কায়েমি ও ফসলি জমি খনন।
নদী ড্রেজিং নামে চরাঞ্চলে হাজার হাজার কৃষকদের কয়েমি ও রের্কডকৃত জমি খনন বন্ধ ও আইন বাতিলের জোর দাবি জানিয়ে বক্তারা আরও জানান, নদী সিকস্তি প্রজাস্বত্ব বহাল করে বিশেষ সমীক্ষা ও ক্ষতিপূরণ ছাড়া কায়েমি জমি ড্রেজিং করতে দেয়া হবে না। এছাড়াও সি.এস.এস ও আরএস রের্কডকৃত জমির খারিজ চালু করে জমি ক্রয়-বিক্রয় বাধা দূর করার দাবি জানানো হয়।
