মহিলারা রাস্তাঘাটে এমনকী অফিস কিংবা বাড়িতেও নিরাপদ নন। এটাই প্রমাণ করে দিল সম্প্রতি মহারাষ্ট্রে ঘটে যাওয়া যৌন নির্যাতনের ঘটনা।
বার বার বাড়িতে ডেকে এনে মদ্যপান করিয়ে এবং ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে সহকর্মীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠল এক তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীর বিরুদ্ধে। মহারাষ্ট্রের পুণে জেলার এই ঘটনায় স্বাভাবিক ভাবেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সেই সঙ্গে নারী নিরাপত্তার বিষয়টাও প্রশ্নের মুখে।
দেশে একের পর এক নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটে চলেছে। যৌন হেনস্থা অথবা যৌন নির্যাতনের মতো ঘটনা থামার কোনও নামই নেই।
এবারের ঘটনাস্থল পুণের ভাবধান এলাকা। হিনজাওয়াড়ির পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, ঘটনার সূত্রপাত গত ৬ জুন। সেই দিন অভিযুক্ত ৩১ বছর বয়সী ওই তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী অফিসের জুনিয়র সহকর্মীকে নিজের বাড়িতে খাওয়ার নিমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।
এর পর মহিলা সহকর্মী সেখানে পৌঁছলে অভিযুক্ত যুবক তাঁকে জোর করে মদ্যপান করান এবং ধর্ষণ করেন। এর পর ১০ জুন ফের অভিযুক্ত যুবক ওই মহিলাকে নিজের বাড়িতে ডেকে পাঠান।
৬ জুনের ঘটনার ভিডিও ভাইরাল করে দেওয়া হবে বলে নির্যাতিতাকে ব্ল্যাকমেলও করেন যুবক। ভয় পেয়ে মহিলা আবার অভিযুক্তের বাড়ি পৌঁছলে তাঁকে ধর্ষণ করা হয়। এর পর গত ২৫ জুন একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে। এবার আর মহিলা অভিযুক্তের কোনও ফাঁদে পা-না দিয়ে পুলিশে অভিযোগ জানান।
অভিযোগ পেয়ে তড়িঘড়ি ওই তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে সেকশন ৩৭৫ (ধর্ষণ), সেকশন ৩৫৪ (যৌন হেনস্থা) এবং সেকশন ৩২৭ (বিষ জাতীয় পদার্থ প্রয়োগের মাধ্যমে আঘাত) ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
অন্য দিকে আবার পুণেরই আর একটি ঘটনাতেও সহকর্মীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ সূত্রে খবর, একটি ফিনান্সিয়াল সলিউশন সংস্থার কর্মী তাঁর জুনিয়র সহকর্মীকে ধর্ষণ করেছেন বলে অভিযোগ এসেছে। অভিযোগ পেয়েই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পিম্পরি ছিনছওয়াড় থানার পুলিশ।
কর্মক্ষেত্রে কিংবা সহকর্মীকে শারীরিক নিগ্রহের ঘটনা নতুন নয়। এর আগেও এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে রাজধানীতে। গত মার্চের ঘটনা। ওই সময় দক্ষিণ-পশ্চিম দিল্লির হুমায়ুনপুর এলাকায় নিজের অফিসের জুনিয়র সহকর্মীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
ঘটনার দু’দিন পরে নির্যাতিতা পুলিশের দ্বারস্থ হয়ে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ সূত্রে খবর, অত্যাচারিত মহিলা একটি হোটেলের পরিষেবা কর্মী হিসেবে কাজ করতেন।
মহিলা জানিয়েছিলেন, ঘটনার দিন রাত দেড়টা নাগাদ তিনি রেস্তোরাঁর শৌচাগারের বাইরে আসতেই অভিযুক্ত চড়াও হন তাঁর উপের। আর অভিযুক্ত সঞ্জয়কে তিনি বহু বছর ধরেই চিনতেন।
বার বার এমন ঘটনা ঘটার ফলে নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সেই সঙ্গে মহিলারা যে কর্মক্ষেত্রেও নিরাপদ নন, সেই বিষয়টা আরও এক বার প্রমাণ হয়ে গেল।
