- অনলাইন থেকে: পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় আলীম দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী প্রেমিক কর্তৃক বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের শিকার হয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন। আজ শুক্রবার (১৯ আগস্ট) গুরুতর অবস্থায় মাদরাসাছাত্রীকে শেরে বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে অতিরিক্তি ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টার পর অসুস্থ অবস্থায় স্বজনরা প্রথমে তাকে মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরবর্তীতে তাকে শেরে বাংলা মেডিক্যালে নিয়ে আসা হয়।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত মো. নুরনবী হাওলাদার (২৫) উপজেলার শাখারকাঠি গ্রামের সামশুল হক হাওলাদারের ছেলে। তিনি বরিশাল ফায়ার সার্ভিসে ফায়ারম্যান পদে কর্মরত।
হাসপাতাল ও থানা সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় একটি আলীম মাদরাসার দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রীর সাথে ফায়ারম্যান নুরনবীর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচয়ের পর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সম্প্রতি নূরনবী তাকে বেড়ানো ও বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বরিশালের একটি আবাসিক হোটেলে নিয়ে কয়েক দিন ধরে ধর্ষণ করে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। ধর্ষণের কারণে মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে ফায়ারম্যান নূরনবী গর্ভের সন্তান জোর করে নষ্ট করে ফেলেন।
এরপর নূরনবী তাকে বিয়ের জন্য টালবাহানা শুরু করলে মামলা করার জন্য থানায় গেলেও ওই মাদরাসাছাত্রীর মামলা নেয়নি পুলিশ। এরপর লোক লজ্জায় ও অভিমানে বৃহস্পতিবার বিকেলে বারটি ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায় মাদরাসাছাত্রী।
এ বিষয়ে মঠবাড়িয়া থানার ওসি মুহাম্মদ নূরুল ইসলাম বাদল বলেন, ‘মামলা নিতে অস্বীকৃতির কথা ঠিক নয়। ঘটনাস্থল বরিশাল শহরে হওয়ায় ভিকটিমকে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। ‘
এ বিষয়ে স্থানীয় আইনজীবী অ্যাডভোকেট নাসরিন জাহান বলেন, ‘নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের ৭ ধারা মোতাবেক ঘটনার শুরু বা শেষস্থলে মামলা দেওয়া যায় এবং থানায় মামলা গ্রহণ করা সুযোগ আছে। সে অনুযায়ী এটা যেকোনো থানা অপহরণ করে ধর্ষণ আইনে থানায় মামলা নেওয়ার সুযোগ আছে। ‘
